Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৬
নেদারল্যান্ডসের নির্বাচন
ঘৃণার বদলে আশাবাদের জয় স্বস্তিদায়ক

নেদারল্যান্ডসের নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থিদের হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো জয়ী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটের মধ্য-ডানপন্থি ভিভিডি পার্টি। নির্বাচনে জনমত জরিপে প্রথম দিকে এগিয়ে থাকলেও কট্টর জাতীয়তাবাদী দল ফ্রিডম পার্টি সুস্পষ্ট ব্যবধানে হেরে গেছে।

এ দলের নেতা ভিল্ডার্স নির্বাচিত হলে সব মুসলমানকে নেদারল্যান্ডস থেকে বহিষ্কার করা, সে দেশে কোরআন নিষিদ্ধ এবং সব মসজিদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সারা দুনিয়ায় তোলপাড় তুলেছিলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুকরণে লোকরঞ্জনবাদকে সম্বল করে নির্বাচনে জিততে চেয়েছিলেন নব্য নািস ভাবধারায় বিশ্বাসী ভিল্ডার্স। তার চরম মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব নেদারল্যান্ডসের জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ভিল্ডার্সকে রুখতে তারা তৃতীয়বারের মতো বেছে নেয় ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থি দল ভিভিডি পার্টিকে। নব্য নািসদের ঠেকাতে অন্যসব দলও স্পষ্ট ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। নেদারল্যান্ডসের নির্বাচন পদ্ধতিতে এককভাবে কোনো দলের সরকার গঠনের সুযোগ আদতেই কম। সে দেশের উগ্র জাতীয়তাবাদবিরোধী সব দল ঘোষণা করে তারা সরকার গঠনে ভিল্ডার্সের সঙ্গে জোট গঠন করবে না। নব্য নািসবাদ বা লোকরঞ্জনবাদের উত্থান ঠেকানোরও সংকল্প ঘোষণা করে তারা। রাজনৈতিক দলগুলোর এ অঙ্গীকারাবদ্ধ অবস্থান নব্য নািসদের উত্থান এবারের মতো ঠেকিয়ে দেয়। নেদারল্যান্ডসে অভিবাসীর সংখ্যা ২০ লাখ এবং যার অর্ধেকই মুসলমান। ভিল্ডার্স জয়ী হলে ২০ লাখ অভিবাসীর অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ত। বিশেষত ১০ লাখ মুসলমানের জন্য সৃষ্টি হতো অনিশ্চয়তা। ভিল্ডার্সের উগ্র মুসলিমবিরোধী বক্তব্য নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সংঘাতের যে আশঙ্কা সৃষ্টি করেছিল, সে দেশের ভোটাররা তা ঠেকিয়ে দিয়েছেন। ঘৃণার বদলে তারা বেছে নিয়েছেন আশাকে। নির্বাচনের এ ফলাফল জার্মানি ও ফ্রান্সের আসন্ন নির্বাচনে লোকরঞ্জনবাদের উত্থান ঠেকাতে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডাচ্রা সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে নব্য নািসবাদের প্রবক্তা ভিল্ডার্সকে ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম হলেও ঘৃণা ছড়িয়ে তার দল ফ্রিডম পার্টি সে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, এটি অবশ্যই একটি উদ্বেগের বিষয়। নিজেদের স্বার্থেই ডাচ্রা উগ্রপন্থা ঠেকাতে আরও সক্রিয় হবেন এমনটিই প্রত্যাশিত।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow