Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ মার্চ, ২০১৭ ২৩:১৭
সুখী দাম্পত্যজীবনে ‘কুফু’র গুরুত্ব
মাওলানা মো. উবায়দুল হক সালেহী
সুখী দাম্পত্যজীবনে ‘কুফু’র গুরুত্ব

দাম্পত্যজীবনের সূচনা হয় বিবাহের মাধ্যমে। সুন্দর দাম্পত্যজীবনের জন্য বিয়ের আগে রয়েছে কিছু করণীয়।

এসব উপেক্ষা করে জীবনে সুখী হওয়া সম্ভব নয়। বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর যে বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে তার মধ্যে ‘কুফু’ অন্যতম। আরবি ‘কুফু’ শব্দের অর্থ সমতা, সমান, সাদৃশ্য ইত্যাদি। বিয়ের ক্ষেত্রে বর-কনের রুচি, চাহিদা, বংশ, যোগ্যতা সবকিছু সমান সমান বা কাছাকাছি হওয়াকে ইসলামী পরিভাষায় কুফু বলে। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের রুচি, চাহিদা, অর্থনৈতিক অবস্থান খুব বেশি ভিন্ন হলে সেখানে সুখী দাম্পত্যজীবন প্রতিষ্ঠা কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। একজন এলিট শ্রেণির ছেলেমেয়ের চাহিদা-রুচির সঙ্গে একজন দরিদ্র বা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়ের রুচিবোধের মিল না থাকাটাই স্বাভাবিক। আবার একজন দীনদার পাত্র-পাত্রীর সঙ্গে একজন ধর্ম বিষয়ে উদাসীন পাত্র-পাত্রীর জীবনাচার নাও মিলতে পারে। দীনদার চাইবে সবকিছুতে ধর্মের ছাপ থাকুক। আর দীনহীন চাইবে সবকিছু ধর্মের আবরণমুক্ত থাকুক। সুতরাং এ দুইয়ের একত্রে বসবাস কখনো শান্তি-সুখের ঠিকানা হতে পারে না। তাই পবিত্র কোরআনও বিয়ের ক্ষেত্রে দীনদারিতে সমতা রক্ষার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে। আল্লাহ বলেন, ‘খবিছ নারীরা খবিছ পুরুষদের জন্য, আর পবিত্র নারীরা পবিত্র পুরুষদের জন্য উপযুক্ত। ’ (সূরা নূর : ২৬)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘ব্যভিচারী পুরুষ যেন ব্যভিচারিণী বা মুশরিক নারী ছাড়া কাউকে বিয়ে না করে। আবার ব্যভিচারিণী নারী যেন ব্যভিচারী পুরুষ বা মুশরিক পুরুষ ছাড়া কাউকে বিয়ে না করে। মুমিনদের জন্য এ ধরনের চরিত্রের নারী-পুরুষকে হারাম করা হয়েছে। ’ (সূরা নূর : ৩)। হাদিস শরিফে এ আয়াতের প্রতিধ্বনি করা হয়েছে- হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যভিচারী তারই মতো দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যভিচারিণী ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করা উচিত নয়। ’ (আবু দাউদ)। এসব আয়াত ও হাদিসে সুখী দাম্পত্যের একটি অমোঘ সূত্র বলে দেওয়া হয়েছে। যে যেমন রুচির মানুষ তারও উচিত তেমনই রুচিবোধসম্পন্ন মানুষকে জীবনসঙ্গী করা। এতে ভালো সুফল পাওয়া যাবে, সংসারও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

কোরআনের পাশাপাশি রসুল (সা.)-এর পবিত্র হাদিস শরিফেও কুফুর বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন বিয়ের উদ্দেশ্যে তোমাদের পছন্দমতো ধার্মিক ও জ্ঞানী-বুদ্ধিদীপ্ত পাত্র-পাত্রী পেয়ে যাবে তখন বিয়ে করতে দেরি করিও না। ’ (তিরমিজি)। আরেক হাদিসে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা বিয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রী নির্বাচন কর এবং সাদৃশ্য ও সমতা লক্ষ্য রেখ। ’ (ইবনে মাজাহ)। এ হাদিসের আলোকে ইমাম শাওকানি (র.) বলেন, ‘বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্র বা পাত্রীর ধর্ম ও চারিত্রিক বিষয়টি অবশ্যই লক্ষ্য করতে হবে। (নায়লুল আওতার : ৬/২৬২)। কুফু বা সমতার ক্ষেত্রে দীনদারির বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ইমাম শাফেয়ি (র.) সম্পদ এবং  ইমাম আজম (র.) বংশ মর্যাদাকেও কুফুর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

লেখক : প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, নন্দীপাড়া মাদ্রাসায়ে সোনার মদিনা, বাসাবো, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow