Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৬ জুলাই, ২০১৭ ২৩:২৩
মেসটি ছিল উপগলিতে
সমরেশ মজুমদার
মেসটি ছিল উপগলিতে
bd-pratidin

প্রথম কলকাতাবাসের সময় যেসব বাড়িতে থেকেছিলাম, ছেড়ে আসার পর আর সেগুলোতে যাওয়া হয়নি। আসলে যাওয়ার কথা মনেই আসেনি। আমার একটু আবেগের বাড়াবাড়ি আছে। নস্টালজিক হওয়ার বাতিকও। এখনো সন্ধ্যা মুখার্জির পুরনো গানের কোনো কোনো উচ্চারণ বুকের ভিতরটায় চিনচিনে ব্যথা তৈরি করে। ‘উত্তরাধিকার’ উপন্যাস যখন লিখেছিলাম তখন মা সুস্থ শরীরে ছিলেন। ওই উপন্যাসের যে জায়গাটায় অনিমেষ তার মৃত মায়ের মুখে আগুন দিচ্ছে, লেখার সময় আলাদা কোনো অনুভূতি হয়নি। কিন্তু সেই কিস্তি ‘দেশ’-এ ছাপা হয়ে যখন আমার হাতে এলো তখন পড়তে গিয়ে একবুক জল চোখ উপচে বেরিয়ে এলো। মুশকিল হলো, তারপর, বহু বছর লক্ষ্য করছি, ওই জায়গাটা পড়তে গেলেই আচমকা জল চলে আসে চোখে। এই যে আমি ভাবলাম, ছেড়ে আসা বাড়িগুলোতে আর যাওয়া হয়নি, অমনি মনে হলো আমাকে দেখতে যেতেই হবে। পরপর কয়েক দিন অতীত ঘাঁটতে চাইলাম।

কলকাতায় পড়তে এসেছিলাম ষাট সালে। আমি আর আমার বন্ধু দীপু। শিয়ালদা স্টেশন থেকে রিকশা নিয়ে পাঁচজনকে জিজ্ঞাসা করতে করতে বাবার বন্ধু অনিলবাবুর মেসে গিয়ে উঠেছিলাম। বউবাজারের সেই মেসটি ছিল হাড়কাটা গলি থেকে বের হওয়া উপগলিতে। সন্ধ্যের সময় রিকশা থেকে বাক্সপেটারা নিয়ে নামার সময় দেখেছিলাম বিকট সাজগোজ করে মেয়েরা উল্টো দিকের বাড়ির দরজায় দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। মাগুর মাছের ওপর ছাই মাখালে যেমন দেখায় তেমন দেখাচ্ছিল মুখগুলো। অনিলবাবু বলেছিলেন, ‘তোমরা যে কদিন এখানে থাকবে মেস থেকে বেরিয়ে বাঁ-দিকে কখনো যাবে না, ডান-দিকের কয়েক পা হাঁটলেই ট্রামরাস্তা পেয়ে যাবে।’

মনে আছে সাত দিন ছিলাম সেখানে। চার দিনের মাথায় যখন আবিষ্কার করলাম বাঁ-দিকের রাস্তা ধরে কিছুটা হাঁটলেই কলেজ স্ট্রিটে পৌঁছানো যায় তখন নির্দেশ অমান্য করেছিলাম। কিন্তু সেই সাত দিনের পরে আর যাওয়া হয়নি ওখানে। মেসের একটি কর্মচারীর নাম ছিল ভুটু। খুব যত্ন করত আমাদের।

ড্রাইভারকে বললাম, গাড়ি বউবাজার স্ট্রিটেই রাখতে। তখন দুপুর। অল্পবয়সী ড্রাইভার বেশ অবাক হয়ে আমার দিকে তাকাল। গলি চিনতে ভুল করিনি। দেখলাম একান্ন বছর আগে যেমন ছিল এখনো তেমনই রয়েছে। এমনকি সেই মেয়েগুলোও? ভাবতেই হেসে ফেললাম, পঁচিশ-ছাব্বিশের মেয়েগুলো এত বছর পরে একই থাকে কী করে! মানুষ পাল্টে গিয়েছে, ধরনটা পাল্টায়নি।

মেসে ঢুকলাম। বেঁচে থাকলে অনিলবাবুর বয়স এখন একশো ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা। অফিস ঘরে বসে ছিলেন লুঙ্গি এবং গেঞ্জি পরা এক বৃদ্ধ। জিজ্ঞাসা করলেন, কী চাই!’

হেসে বললাম, ‘কিছু না। একসময় এই মেসে কিছুদিন ছিলাম। ঘুরে দেখতে পারি?’

‘বোর্ডার ছিলেন?’

‘না। গেস্ট। ষাট সালে। অনিলবাবুর গেস্ট ছিলাম।’

‘আহা! বড় ভালো লোক ছিলেন। এই মেসেই দেহ রেখেছেন। তাও অনেক দিন হয়ে গেল। চোখ বন্ধ করলেন বৃদ্ধ, নাইনটিন এইট্টি থ্রি। আমরাই দাহ করেছি। বিয়ে-থা করেননি,  আত্মীয়স্বজন ছিল না। কোন ঘরে ছিলেন?’

‘দোতলার চার নম্বর ঘরে। ভুটু বলে একজন ছিল...!’

‘ওকে মনে আছে আপনার! ভিতরে গিয়ে দেখুন, বারান্দার এক কোণে বসে আছে। নড়তে-চড়তে পারে না। পুরনো লোক, মেস থেকেই দুবেলা খাবার পায়।’

ভিতরে ঢুকতেই যাকে দেখতে পেলাম তার সঙ্গে ভুটুর কোনো মিল নেই। ময়লা লুঙ্গি, খালি গা, মুখভর্তি পাকা দাড়ি, মাথায় টাক, ‘দ’ হয়ে বসে আছে হাঁটুর ওপর মুখ রেখে। বার্ধক্য ওর সর্বাঙ্গে থাবা মেরেছে। অথচ লোকটার বয়স আশির বেশি হতে পারে না। কাছে গিয়ে ডাকলাম, ‘ভুটু’। চালসে পড়া দুই চোখ তুলল ভুটু, কিছু বলল না। দোতলার চার নম্বর ঘরের দরজায় তালা ঝুলছে। এই দুপুরে আবাসিকদের মেসে থাকার কথা নয়।

পরের দিনই এক পরিচিত ভদ্রলোক ফোন করলেন, ‘আপনার গাড়িটাকে হাড়কাটা গলির কাছে দেখলাম গতকাল। কোথায় গিয়েছিলেন?’

‘ওখানেই।’ বলে রিসিভার নামিয়ে রেখেছিলাম।

মেস থেকে চলে গিয়েছিলাম স্কটিশ কলেজের হোস্টেল টমোরিতে। রামানন্দ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে ছিল হোস্টেলটা। মানিকতলার কাছে। বউবাজার থেকে বেরিয়ে সোজা চলে গেলাম সেখানে। তিন তলা হোস্টেলটার মাঝখানে খেলার ছোট্ট মাঠ ছিল। আমি থাকতাম এক তলার ঘরে। ঘরের পাশে আশুতোষ শীল লেন। ওপারের বাড়িটায় গানের স্কুল ছিল। সুমিত্রা সেনকে প্রথম দেখেছিলাম সেই স্কুলে আসা-যাওয়া করতে।

গিয়ে দেখলাম হোস্টেলটা নেই। সেখানে মাল্টিস্টোরিড আবাসন হয়েছে। এক বছর ছিলাম ওখানে। পাড়ার অনেকের সঙ্গে ভালো পরিচয় হয়ে গিয়েছিল। অরূপদা, অজয় পৃথিবীতে নেই। পাশের রাস্তার বীরু আমার খুব ভক্ত ছিল, সেও নেই। এসব দেখতে মন বড় উদাস হয়ে যায়।

টমোরি থেকে গিয়েছিলাম হাতিবাগানের রেসিডেন্স হোস্টেলে। সেই হোস্টেল নিয়ে আগেও লিখেছি। ভেঙেচুরে নতুন করে ওখানে যে মেয়েদের হোস্টেল হয়েছে তা হোস্টেলের আবাসিকরা চিঠি লিখে আমাকে জানিয়েছেন। স্মৃতি মেলাতে পারব না জানার পর যেতে ইচ্ছে করল না।

এম এ পড়তে গিয়ে চলে গিয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা হোস্টেলে। ছাত্ররা বলত মহেশ্বর দাশের হোস্টেল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতেন। মেডিকেল কলেজের উল্টো দিকের আরপুলি লেন দিয়ে ঢুকে শ্রীগোপাল মল্লিক লেনে ছিল হোস্টেলটা। সাতচল্লিশ বছর পরে পৌঁছলাম সেখানে। হোস্টেলটি বন্ধ, কেন তা জানি না।

এম এ পরীক্ষার পর সুশীলদার সৌজন্যে যত্রতত্র ছিলাম। তার মধ্যে দক্ষিণ কলকাতা এবং আমহার্স্ট স্ট্রিটও ছিল। তারপর চাকরি পেতেই তিরিশ টাকার ঘরভাড়া নিলাম বালক দত্ত লেনে। পাঁচ বাই সাড়ে সাত সাইজের ঘর। জানলা একটাই, মেঝে থেকে অনেকটা উপর পর্যন্ত। বারোয়ারি কলতলা, নো রান্নাঘর। বাড়িওয়ালির কড়া নির্দেশ ছিল, সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে যদি স্নান ইত্যাদি না করতে পারি তাহলে ১১টার আগে যেন নিচে না নামি। ওই সময়টা অন্য ভাড়াটেদের বাড়ির মেয়েরা কলতলা ব্যবহার করবে। রাত ১০টার পরে সদর দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। কোনো ভাড়াটে যদি নালিশ করে, আমি তার বাড়ির মেয়ের দিকে অন্য চোখে তাকিয়েছি, তাহলে ঘর ছেড়ে চলে যেতে হবে।

মজার কথা হলো, সদ্য চাকরি পাওয়া, তার ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি, প্রায় সব ভাড়াটের বয়স্কা মহিলা যেচে আলাপ করে ফেললেন। বাড়িতে ঢুকতেই বাঁ-দিকের ঘরে থাকতেন শক্তিদা বলে এক ভদ্রলোক, তার স্ত্রী এবং ছেলে। বেশ ভালো লেগে গেল ওদের। প্রায়ই ডাকতেন, গল্প করতেন, চা খাওয়াতেন। আলাপের কয়েক দিনের মাথায় শক্তিদা হেসে বলেছিলেন, ‘মনে হচ্ছে এখানকার ভাড়াটেরা তোমাকে জামাই করতে চায়, একটু সাবধানে থেকো হে।’

ওই সকালে সব শেষ করে চলে যেতাম বালক দত্ত লেন এবং মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের সংযোগস্থলের চায়ের দোকানে। তিরিশ পয়সায় এক কাপ চা আর এক পিস সেঁকা পাউরুটি পাওয়া যেত। কিন্তু মূল আকর্ষণ ছিল খবরের কাগজ পড়া। কাগজের এক একটা পাতা একেকজন খদ্দেরের হাতে। অন্যেরা অপেক্ষা করছে কখন তার সুযোগ আসবে এই আশায়। ওইভাবে খবরের কাগজ কখনো পড়িনি। কিন্তু তখন তো মানিয়ে নিতে শিখে গিয়েছি।

এ রকম এক সকালে পাতার জন্য যখন অপেক্ষা করছি তখন রাস্তার দিকে নজর গেল। এক প্রৌঢ় বেরিয়ে আসছেন বালক দত্ত লেন থেকে। পরনে ধুতি আর জাল-জাল গেঞ্জি। দুই হাতে দুটো ভাঁড়, বগলে খবরের কাগজ গোঁজা। চমকে উঠলাম। এ রকম একটি চেহারা আমি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই দেখে আসছি। শিল্পী শৈল চক্রবর্তীর আঁকা ছবিতে।

দৌড়ে চলে গেলাম ওর সামনে। নিচু হয়ে প্রণাম করতে যেতেই তিনি আঁতকে উঠলেন, ‘যাবে যাবে, সব পড়ে যাবে। তুমি এমন শত্রুতা করছ কেন?’

আমি হকচকিয়ে গেলাম। আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এই দুটো ভাঁড়ে রসগোল্লা আর রাবড়ি আছে, গলায় না পড়ে তলায় পড়লে যে আফসোসের শেষ থাকবে না। কী করা হয়?’

‘একটা চাকরি করি আর নাটকের দল নিয়ে আছি।’

‘যাক! লেখালেখি করো না।’

‘আজ্ঞে, ইচ্ছে আছে।’

‘সর্বনাশ। তুমি আমার পেছন পেছন এসো তো।’

তিনি রাস্তা পার হয়ে একটি পিএনটির লেটার বক্সের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। ‘আমি বগলটা ফাঁক করছি, তুমি কাগজটা লুফে নাও।’

নিলাম। সে দিনেরই পত্রিকা ভাঁজ করে ঠিকানা লেখা কাগজ সেঁটে দেওয়া হয়েছে। ঠিকানাটা ধানবাদের।

‘ওটাকে বাক্সের পেটে ঢুকিয়ে দাও।’

দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আজকের কাগজ ধানবাদে পাঠাচ্ছেন?’

‘কাগজের দাম পঁচিশ পয়সা। আমি ফিরিতে পাই। ভাগনি থাকে ধানবাদে। পাঁচ পয়সার বুকপোস্টে দিব্যি পেয়ে যায় বিকেল বিকেল। কুড়ি পয়সা বেঁচে যায় তার। বেলা ১১টার বদলে বিকালে পড়লে তো খবর বাসি হয়ে যায় না।’

শিবরাম চক্রবর্তীর সঙ্গে ভাব হয়ে গেল আমার। কাছেই এক মেসে থাকেন। যত মিশছি তত অভিজ্ঞতার পাহাড় বড় হচ্ছে। আমার বালক দত্ত লেনের জীবনে সেরা প্রাপ্তি তিনি।

গাড়িটা মুক্তারামবাবু স্ট্রিটে রেখে নিচে নামতেই মনে হলো আমি পঁয়তাল্লিশ বছর পিছিয়ে গিয়েছি। কিছুই বদলায়নি। সেই কালোয়ারদের দোকান, বাড়ি-ঘর এবং রাস্তাটা অবিকল রয়ে গিয়েছে। বালক দত্ত লেনের মুখের চায়ের দোকানটাও বন্ধ হয়ে যায়নি। সস্তা নড়বড়ে কাঠের টেবিল, বেঞ্চি, ওপাশে শুধু কয়লার উনুনের বদলে গ্যাস জ্বলছে। বেলা ১১টায় খদ্দের দেখলাম একজনই। এক বৃদ্ধ খবরের কাগজের একটা পাতা পড়ে চলেছেন। বাকি পাতাগুলো টেবিলের ওপর রয়েছে। এ ধরনের দোকানে ঢোকার অভ্যাস অনেক দিন আগে চলে গেছে। আজ ঢুকলাম। তখন লোকে এই দোকানটাকে বলত, কালীবাবুর চায়ের দোকান। তার জায়গায় মাঝবয়সী একজন লোক বসে আছেন।

আমার চেহারা দেখে কর্মচারীকে না পাঠিয়ে তিনিই এগিয়ে এলেন, ‘কী দেব বাবু?’

‘চা এবং এক পিস সেঁকা পাউরুটি।’ উত্তর দিলাম।

‘সেঁকা? আমুল দিয়ে টোস্ট দিই?’

‘না। আগে যা খেতাম আজ তাই খাব।’

‘আপনি আগে আমার দোকানে খেয়েছেন?’

‘হ্যাঁ। তবে তখন এই দোকান কালীবাবুর ছিল!’

‘আচ্ছা। উনি আমার বাবা ছিলেন। আমি হরি, হরিপদ। বসুন, দিচ্ছি।’

বসলাম। খবরের কাগজের একটা পাতা তুলে নিলাম। সকালের কাগজ ইতিমধ্যে করুণ চেহারা নিয়ে ফেলেছে। হঠাৎ কানে এলো, ‘কত দিন পরে আসা হলো?’

বৃদ্ধের দিকে তাকালাম, ‘অনেক বছর হয়ে গেল। প্রায় পঁয়তাল্লিশ।’

‘থাকা হতো কোথায়?’

‘বালক দত্ত লেনে ঢুকেই বাঁ-দিকের বাড়িতে।’

‘এর মধ্যে ওখানে কি যাওয়া হয়েছিল?’

‘না।’

‘চেনা ছিল কেউ?’

‘হ্যাঁ। বাড়িওয়ালি, তার বোনপো, নিচের শক্তিদা, বউদি।’

‘কাউকেই আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

‘আপনি?’

‘এখনো আছি।’ বৃদ্ধ দোকান থেকে বেরিয়ে গেলেন।

চা আর সেঁকা পাউরুটি এলো। গন্ধটা নাকে লাগতেই বুঝলাম কোথাও একটা পরিবর্তন হয়ে গেছে। দাম জিজ্ঞাসা করলাম।

‘আপনার কাছে দাম নেওয়া ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছি না।’

‘কেন?’

‘আপনি আমার বাবার আমলের খদ্দের। ওই যে দাদু রোজ আসেন, আমি ওর কাছ থেকেও চায়ের দাম নিই না।’

‘না। তা হবে না। ঠিক দাম বলুন।’

‘আচ্ছা, আপনি পাঁচ টাকা দিন।’

তিরিশ পয়সা পাঁচ টাকায় পৌঁছালেও মনে হলো ইনি কম দাম নিচ্ছেন। যে এক কেজি চাল তখন দেড় টাকায় পাওয়া যেত, এখন তো প্রায় চল্লিশ টাকা।

দাম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ওই বৃদ্ধ কোথায় থাকেন?’

‘আপনি তখন যে বাড়ির কথা বলেছিলেন সেই বাড়িতেই থাকেন।’

আশ্চর্য! আমি কিছুতেই ওকে মনে করতে পারছি না। উনি কি ভাড়াটে না বাড়িওয়ালির কোনো আত্মীয়?

সেই বাড়িতে আর ফিরে যাইনি। হঠাৎ মনে হলো প্রকৃতি আমাদের দুটো পা দিয়েছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য, সামনে মুখ রেখে পেছনে হাঁটার জন্য নয়। স্মৃতির জাবর কাটতে মন্দ লাগে না, বেশ আবেগের সুখ পাওয়া যায়। বিয়ের বেনারসির মতো। আমৃত্যু সযত্নে আলমারিতে থেকে যায়। মাঝেমধ্যে কখনো-সখনো একটু রোদ মাখানো। একই ব্যাপার।

     লেখক : কথাসাহিত্যিক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow