Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৬ জুলাই, ২০১৭ ২৩:২৩
অব্যবস্থার নাম শাহজালাল
যাত্রী হয়রানি বন্ধের উদ্যোগ নিন
bd-pratidin

শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় যাত্রীদের ঘাটে ঘাটে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। কখনো কখনো দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হয় ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে। সিভিল এভিয়েশন, কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, আর্মড পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় যাত্রীরা প্রতিদিনই বিরক্তিকর অভিজ্ঞতার শিকার হচ্ছেন। বিমানবন্দরে প্রবেশ এবং বের হওয়ার পথে সারাক্ষণই জট লেগে থাকে। অথচ শাহজালালের চেয়েও ছোট বিমানবন্দর পরিকল্পিতভাবে ঢেলে সাজানোর কারণে সফলভাবে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লাগোডিয়া বিমানবন্দর, শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েক বিমানবন্দর, মালদ্বীপসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিমানবন্দর শাহজালালের চেয়ে কম পরিসরে নির্মিত। তার পরও সুষ্ঠু পরিকল্পনার কারণে সেসব বিমানবন্দরের প্রতিটি কাজ পরিকল্পিত এবং গোছানো হলেও শাহজালালে ঠিক বিপরীত চিত্র বিরাজ করছে। দুনিয়ার সব সভ্য দেশের বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানির বিষয়টি অকল্পনীয়। ইমিগ্রেশনে যারা দায়িত্ব পালন করেন তাদের বেতন-ভাতা আসে দেশবাসীর ট্যাক্সের টাকা থেকে। স্বভাবতই তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি সেসব দেশে কারও কল্পনায়ও আসে না। আমরা নিজেদের সভ্য দেশের নাগরিক হিসেবে দাবি করি। দুনিয়ার যেসব দেশ দ্রুত উন্নতি লাভ করছে সেসব দেশের একটি হিসেবে আমাদের গর্বের শেষ নেই। তবে মানসিকভাবে সভ্য-ভব্য হওয়া, সু-আচরণের পরিচয় দেওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমাদের দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ঘাটতি আছে বলে প্রায়ই অভিযোগ করা হয়। এ অভিযোগ সবচেয়ে বেশি দেশের নৌ, বিমান ও স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীদের যাতায়াতে প্রতিনিয়তই যানজটের শিকার হতে হয়। বিমানবন্দরে আসা-যাওয়ার পথে অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় নিরাপত্তার জন্যও সংকট সৃষ্টি করে। এ সমস্যা মোকাবিলার বদলে বিমানবন্দরের প্রবেশপথে শপিং কমপ্লেক্স ও ফাইভ স্টার হোটেল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত কতটা বিবেচনাপ্রসূত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুনিয়ার কোনো বিমানবন্দরের গা ঘেঁষে ফাইভ স্টার হোটেল ও শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের তুঘলকি কাণ্ড ঘটেছে কিনা আমাদের জানা নেই। শাহজালাল বিমানবন্দরের সুনাম পুনর্গঠনে যাত্রী হয়রানি বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। হয়রানি বন্ধে দেশপ্রেমিক এবং দায়িত্বশীলদেরই কেবল ইমিগ্রেশনে নিয়োগ করা উচিত। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভেবে দেখলেই ভালো করবেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow