Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৬ জুলাই, ২০১৭ ২৩:২৩
সুন্দরবনের আয়তন কমছে
বন রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নিন
bd-pratidin

বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনের আয়তন প্রতি বছরই কমছে। গত ৩৭ বছরে ১৪৪ কিলোমিটার আয়তন হারিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম এ বাদাবন। দেশের বনাঞ্চলের ৫১ ভাগই হলো সুন্দরবনে। জাতিসংঘের কনভেনশন অনুযায়ী এ জলাবনভূমির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ এ কনভেনশনে স্বাক্ষর করে। স্বভাবতই সুন্দরবন তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারায় কিংবা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কোনো তৎপরতা রোধ করা বাংলাদেশের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। সুন্দরবন সুরক্ষায় সরকারের আন্তরিকতার ঘাটতি না থাকলেও নানা প্রতিকূলতায় বিশ্বের বৃহত্তম এ বনের সুরক্ষার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ স্পেস রিসার্চ অ্যান্ড রিমোট সেনসিং অর্গানাইজেশনের (স্পারসো) ‘টাইম সিরিজ অ্যানালাইসিস অব কোস্টাল ইরোশন ইন দ্য সুন্দরবনস ম্যানগ্রোভ’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, ম্যানগ্রোভের চিরায়ত রীতি অনুযায়ী চর পড়ে নতুন চরে যতটুকু বন গড়ে উঠছে, তার চেয়ে বেশি ভাঙছে। গত ৩৭ বছরে নতুনভাবে চর জেগেছে মাত্র ১০৪ বর্গকিলোমিটার, আর ভাঙনের কারণে সুন্দরবন ২৩৩ বর্গকিলোমিটার আয়তন হারিয়েছে। ভাঙনের হার পুব দিকের চেয়ে পশ্চিম দিকে অনেক বেশি। স্পারসোর গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৯৭০ থেকে ’৯০ সালের তুলনায় ’৯০ থেকে ২০১০ সালে বন কমেছে সবচেয়ে বেশি। স্বাধীনতার পর ’৯০ সাল পর্যন্ত স্বাভাবিক নিয়মে ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন বেড়েছে ২৯ বর্গকিলোমিটার হারে। আবার একই সময়ে আয়তন হারিয়েছে ৩২ বর্গকিলোমিটার। অন্যদিকে ’৯০ থেকে ২০১০ সময়কালে সুন্দরবনের আয়তন বেড়েছে বছরে মাত্র ৬ বর্গকিলোমিটার হারে। এই সময়ে আয়তন হারিয়েছে ৪২ বর্গকিলোমিটার। শুধু ভাঙনের কারণেই প্রতি বছর ৬ বর্গকিলোমিটার করে বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। উজানে বিভিন্ন নদীতে বাঁধ নির্মাণের কারণে সুন্দরবনে মিঠা পানির প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে। উজান থেকে আসা নদীর ক্ষীণ প্রবাহ ও সমুদ্র স্রোতের মধ্যে ভারসাম্য না থাকায় ভাঙা-গড়ার ব্যবধান বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম এ বনের বাংলাদেশের অংশ। স্মর্তব্য, ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত। সুন্দরবনের আয়তন হ্রাস নিঃসন্দেহে একটি উদ্বেগজনক ঘটনা। এ বিপদ থেকে রক্ষা পেতে উজানে অভিন্ন নদীর পানি প্রত্যাহার বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। সুন্দরবন এলাকায় জেগে ওঠা চরে দ্রুত বন সৃজনেও নিতে হবে উদ্যোগ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow