Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:২৫
পিতার সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে
মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন
পিতার সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে

আমাদের দেশে সাধারণত পিতার মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার ও প্রাপ্য অংশ দেওয়া হয় না। দিলেও অনেক কম দেওয়া হয়; যা একেবারেই নগণ্য। অথচ পিতার সম্পত্তিতে মেয়ের অধিকার আল কোরআনে সূরা নিসার ১১ নম্বর আয়াত দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে আল্লাহ বিশেষভাবে আদেশ দিচ্ছেন যে, দুই মেয়ের সমান অংশ এক ছেলে পাবে...।’ এখানে ছেলের অংশ বেশি দেওয়া হয়েছে এজন্য যে, একজন ছেলের জীবনে তার নিজের এবং স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সবার আর্থিক ব্যয়ভার তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর একজন মেয়ের জীবনে কোনো আর্থিক দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। মেয়েদের আর্থিক খরচ জন্ম থেকে বিয়ে পর্যন্ত পিতার দায়িত্বে। বিয়ের দিন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব খরচ স্বামীর দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ইসলামী আইন অনুযায়ী বিয়ের যাবতীয় খরচ বরের ওপর; কনের পিতার ওপর নয়। নারীর জীবনের কোনো অর্থনৈতিক দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও নারী তার স্বামী থেকে দেনমোহর পায়; যা পরিবারের কারও জন্য খরচ করতে সে বাধ্য নয়। অনুরূপভাবে পিতার সম্পত্তি থেকে যা পায় তাও কোথাও খরচ করতে বাধ্য নয়। তাই আল্লাহ নারীকে তার পিতার সম্পত্তিতে ভাইয়ের তুলনায় অর্ধেক অংশের মালিক বানিয়েছেন। সূরা নিসার ১১ ও ১২ নম্বর আয়াতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারের কে কত অংশ পাবে তা। সব সম্পত্তি সুন্দরভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এখানে লক্ষণীয় বিষয় এই যে, নারী যেমন তার পিতার রেখে যাওয়া জায়গা-জমিতে অংশ পাবে, তেমনি অস্থাবর সম্পত্তিতেও অংশ পাবে। যেমন বাবার রেখে যাওয়া নগদ টাকা-পয়সা, ঘরের আসবাবপত্র, দোকানের মাল, বিভিন্ন জিনিসেও অংশ পাবে। পিতার বাড়ির ভিটিতেও অংশ পাবে। প্রিয় পাঠক! আমরা যারা নামাজ পড়ি, জাকাত দিই, রোজা রাখি, হজ করি তারাও মেয়েদের প্রতি এবং বোনদের প্রতি এই জুলুম করি। তাদের ঠকাই। দেশের শিক্ষিত সমাজের বড় অংশও এই বড় অপরাধে লিপ্ত। বোনকে ঠকানোর জন্য যারপরনাই চেষ্টা করে। অনেক এলাকার মানুষ মনে করে, মেয়েরা যদি বাবার বাড়ির সম্পদ আনে তাহলে তাদের জীবনে অশান্তি নেমে আসে। এসব ধারণা ভুল। এগুলো কুসংস্কার। ইসলাম নারীকে সবচেয়ে বেশি সম্মান দিয়েছে। ঘরে, সংসারে, সমাজে তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। বাবার সম্পত্তিতেও অধিকার দিয়েছে। আমরা যেন নারীদের সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সবাই চেষ্টা করি। মহান আল্লাহ তাওফিক দান করুন।

লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow