Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৫২
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত
মুহম্মাদ ওমর ফারুক
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত

কোরআন মানবজাতির জীবনবিধান। আল্লাহ মানবজাতিকে সুপথে পরিচালিত করার জন্য এই আসমানি কিতাব নাজিল করেছেন। আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভের সবচেয়ে উত্তম উপায় হচ্ছে কোরআনে হাকিমের তেলাওয়াত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদি (রা.)-এর বর্ণনা, নবী করিম (সা.) বলেছেন, এই কোরআনে হাকিম হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য একটি পরম নিয়ামত। আল্লাহতায়ালার এই নিয়ামত থেকে সাধ্য অনুযায়ী নিজের অংশ নিয়ে নাও। কোরআনে হাকিমের মধ্যেই আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা হতে পারে এবং এই পরশ পাথর দ্বারাই মানুষের অন্তর, মনমানসিকতা ও চিন্তাধারাকে পবিত্র করা যেতে পারে। আর মানুষ এর দ্বারা আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে আরোগ্যও লাভ করতে পারে।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালাম সাহাবায়ে কেরামকে কোরআনে হাকিম খুব ভালো করে শিক্ষা দিতেন এবং কোরআন মুখস্থ করার ভিত্তিতেই তাদের পদমর্যাদা নির্ধারণ করতেন। কোনো লোক কোরআন মাজিদ পাঠ করতে অপারগ হলে তিনি তাকে কোরআন মাজিদ শোনার এবং বোঝার উপদেশ দিতেন, যাতে লোকটি আল কোরআনের আধ্যাত্মিক বরকত থেকে বঞ্চিত না হয়।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবি হজরত আবু যর গিফারী (রা.)-কে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেন, কোরআনে কারিমের অধ্যয়ন, পঠন ও  তেলাওয়াতকে নিজের জন্য অপরিহার্য করে নাও। কেননা আল্লাহর জমিনের বুকে তুমি এর দ্বারা নূর লাভ করবে এবং পরকালের পাথেয় সঞ্চয় করতে পারবে।

হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা, নবী করিম (সা.) বলেছেন, বিশুদ্ধভাবে সুললিত কণ্ঠে কোরআন পাঠকারী ব্যক্তি পরকালে আল্লাহর ফিরেশতাদের সঙ্গে থাকবে। মুখে জড়তার কারণে যদি কোনো ব্যক্তির পক্ষে কোরআনে হাকিম পাঠ করা কষ্টকর হয়, কিন্তু তবুও সে কোরআন তেলাওয়াতে মশগুল থাকে এবং থেমে থেমে কোরআন তেলাওয়াত করে, তাহলে তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে। (বুখারি, মুসলিম)

হজরত আবু হুরাইরা (রা.)-এর বর্ণনা, নবী করিম (সা.) একদল লোককে কোথাও প্রেরণ করার সময় বললেন, তোমাদের যার যতটুকু কোরআন মাজিদ মুখস্থ আছে, আমাকে শোনাও। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ মুখস্থ অংশসমূহ শুনাল। দলে অতি অল্প বয়স এক তরুণ ছিলেন। নবী করিম (সা.) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি সূরা বাকারা মুখস্থ আছে? তরুণ বললেন, জি, মুখস্থ আছে। তখন রসুল (সা.) বললেন, যাও তুমিই এই দলের নেতা। (তিরমিযি)

আমাদের পূর্বপুরুষরা কোরআনে কারিমের ফজিলত এবং তার তেলাওয়াতের উপকারিতা ও বরকত সম্পর্কে বেশ ওয়াকিবহাল ছিলেন। এ কারণেই তারা নিজেদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন কোরআনকে ভিত্তি করেই রচনা করেছিলেন এবং সরাসরি কোরআন থেকেই বিধান নিয়েছিলেন। কোরআনুল কারিমের তেলাওয়াতে তাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করত। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কোরআন তেলাওয়াতের তাওফিক দান করুন।

            লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow