Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৪ মার্চ, ২০১৮ ২৩:১০
মানুষের মনের কথাই বলবে বাংলাদেশ প্রতিদিন
নঈম নিজাম
মানুষের মনের কথাই বলবে বাংলাদেশ প্রতিদিন
bd-pratidin

নতুন মাত্রায়, নতুন যাত্রায় আরেকটি বছর শুরু হলো। প্রিয় পাঠক, নবম বর্ষে আজ পা রাখছে আপনাদের প্রিয় পত্রিকা বাংলাদেশ প্রতিদিন। দেখতে দেখতে আটটি বছর চলে গেল। আট বছর একটি কাগজের জন্য অনেক বেশি সময় নয়। আবার কমও নয়। আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আট বছরে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে বাংলাদেশ প্রতিদিন নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। এর আগে বাংলাদেশের কোনো সংবাদপত্র প্রচার সংখ্যায় এই আকাশছোঁয়া অবস্থান সৃষ্টি করতে পারেনি।  ধারাবাহিকতাও বজায় রাখতে পারেনি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার পত্রিকার পর বাংলাদেশ প্রতিদিন বাংলা ভাষায় সর্বোচ্চ প্রচারিত দৈনিক। ইতিহাস সৃষ্টির শুভক্ষণে আপনাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজ থেকে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েই কোটি মানুষের প্রিয় দৈনিকটির আরও বড় পরিসরের পথচলার দিন।

প্রিয় পাঠক, এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়েই প্রিন্ট মিডিয়া এক কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিদিন একমাত্র দৈনিক সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে চলছে আগামীর পথে। অনলাইন ও সামাজিক গণমাধ্যমের এই দাপুটের যুগে প্রচার সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। রয়েছে ব্যাপক পাঠক চাহিদাও। কিন্তু নানা প্রতিকূলতা ও নিউজপ্রিন্টের অব্যাহত দাম বৃদ্ধির কারণে সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে না। নতুন বছরে চেষ্টা করব আরও এক লাখ পাঠকের চাহিদা পূরণ করতে। তবে এর মাঝে সুখের খবর, বাংলাদেশ প্রতিদিন চলতি মাস থেকে প্রকাশ শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে। আগামীতে বাংলা ভাষাভাষীদের অন্য শহরগুলো ঘিরেও আমাদের রয়েছে দীর্ঘ পরিকল্পনা। ধীরে ধীরে সব পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করছি পাঠকদের জন্য।

সারা দেশে এখন তিন হাজারের বেশি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। তার মাঝে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি প্রচার সংখ্যার দৈনিক হিসেবে চেষ্টা করছি সর্বস্তরের মানুষের জন্য একটি পত্রিকা করতে। আমাদের লক্ষ্য খুবই স্পষ্ট। গণমানুষের কথাই আমরা বলার চেষ্টা করি। বিশ্ববাস্তবতায় কম বেশি সীমাবদ্ধতা থাকতেই পারে। এই সীমাবদ্ধতা সব যুগেই ছিল। এ নিয়ে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার কিছু কথা রয়েছে। এই কথাগুলো এত বছর পরও আমার কাছে মনে হয় তিনি আমাদের সমাজের বাস্তবচিত্র। মানিক মিয়া ১৯৬৬ সালে সিরাজগঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘শাসক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে প্রায়শই অভিযোগ শোনা যায় সংবাদপত্র তার স্বাধীনতার অপব্যবহারে আগ্রহী। এ অভিযোগ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অযৌক্তিক বলে আমি মনে করি। দায়িত্বশীল সংবাদপত্র তৈরির একমাত্র পথ সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা। অবাঞ্ছিত বিধিনিষেধের বেড়াজালের মধ্যেই অধিকার অপপ্রয়োগের আগ্রহ সৃষ্টি হয়। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অপব্যবহার রোধের আরেকটি বড় উপায় দায়িত্বশীল জনমত তৈরি। সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ দ্বারা এই দায়িত্বশীল জনমত তৈরি সম্ভব নয় বলে আমার ধারণা।’

কেউ বুঝতে চায় না, মিডিয়াকে জোর করে আটকে রাখা যায় না, দমন করা যায় না। মধ্যযুগে সংবাদপত্র ছিল না। প্রয়োজনও ছিল না। তখন একদিকে রাজা বাদশাহ অন্যদিকে প্রজা। শিল্প বিপ্লবই বদলে দিল সব কিছু। এখন মিডিয়ার নানা রকম মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন, ইন্টারনেটের পাশাপাশি সামাজিক গণমাধ্যমও অনেক শক্তিশালী। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোনো দায়িত্ব থাকে না। তারা যা খুশি তা করে। অনেক সময় এই মাধ্যমের অপব্যবহারে সমাজে অস্থিরতা তৈরি হয়। ভুয়া সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে গোটা সমাজে। রামু, রংপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পাবনার অস্থিরতা ফেসবুকের অপপ্রচারে তৈরি। কিছু দিন আগে শ্রীলঙ্কায় মুসলমানদের ওপর হামলা হয়েছিল সামাজিক গণমাধ্যমের ভুয়া খবরে। সমাজে দাঙ্গা ছড়ানোর মতো কাজ মিডিয়ার হতে পারে না। মূলধারা সব সময় তার নিজস্ব দায়িত্ব থেকেই কাজ করে। মূলধারার গণমাধ্যমের একটা অঙ্গীকার আছে, সমাজের প্রতি, রাষ্ট্রের প্রতি। বিবেকের কাছে জবাবদিহিতার কোনো বিকল্প নেই এখানে। সবচেয়ে বড় কথা, মিডিয়ার জবাবদিহিতা তার বিবেক ও আত্মার কাছে। যে নীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিদিনের শুরু সেই অবস্থান থেকে সরবে না পত্রিকাটি। আত্মার বন্ধন থেকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের বলিষ্ঠ অবস্থান অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই তারুণ্যের জন্য সুন্দর আগামী।

আমাদের প্রিয় তারুণ্যকে ধ্বংস করে দিচ্ছে সমাজের দুষ্ট চক্র। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি গ্রাস করছে চারপাশ। মানুষের মানবিক মূল্যবোধের জায়গাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। অনিয়মই এখন নিয়ম। অস্বাভাবিকতাকে আমরা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে নিচ্ছি। এখন ভালোকে ভালো বলা যায় না। নষ্টামি, ভণ্ডামি অনেক বেশি প্রাধান্য পায়। মানুষ প্রভাবশালীদের কাছে জিম্মি। তারপরও কারও কিছু বলার নেই। প্রতিবাদ করা এখন অস্বাভাবিকতা। সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বালাই নেই। জীবনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াগুলো পঙ্গু হয়ে গেছে। অন্যায়কে এখন আর কেউ অন্যায় মনে করে না। সব কিছুই সবাই সয়ে নিচ্ছেন। প্রযুক্তি মানুষের আবেগ কেড়ে নিচ্ছে। বৈষম্য বাড়ছে মানুষে মানুষে। এই পরিবেশে একটি মিডিয়াকে সামনে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হলেও আমরা সচেষ্ট থাকব কাঠিন্যকে মোকাবিলার জন্য। সমাজের সব অন্যায়-অসঙ্গতির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সব সময় থাকবে বলিষ্ঠ। বাংলাদেশ প্রতিদিন গণমানুষের কথা বলবে। বঞ্চিত মানুষের পাশে থাকবে।

মিডিয়া কখনই কাউকে খুশি করতে পারে না। রবীন্দ্রনাথ কঠিনকে ভালোবেসে ছিলেন। আর লেখনীর জগতে সবচেয়ে প্রতিবাদী মানুষটির নাম নজরুল। কেউ কেউ নজরুলকে এখনো অতি মুসলিম বানানোর চেষ্টা করেন। বাস্তবে কবি নজরুলের চেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ আর নেই। নজরুল লিখেছেন— ‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান/মুসলিম তাহার নয়নমণি হিন্দু তাহার প্রাণ।’ এই লেখার পর রক্ষণশীল মুসলিম পত্রিকা নজরুলকে বললেন, ‘কাফের’। আর গোঁড়া হিন্দুরা তাকে বর্জনের ডাক দেন। সত্য শুনতে কারোরই ভালো লাগে না। এই কারণে নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা ধূমকেতু নিষিদ্ধ করেছিল শাসকরা। এখানেই শেষ নয়, তাকে কারারুদ্ধ করে। কিন্তু কারাগারেও নজরুলের কলম থামেনি। তিনি লিখলেন— শিকল পরা গান, সৃষ্টি সুখের উল্লাসের মতো কবিতা। নজরুলকে দিয়েই বোঝা যায় কাজ করতে চাইলে যে কোনো পরিবেশেই করা যায়। আক্ষেপ নেই বাংলাদেশ প্রতিদিনের। একটা আকাশছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম। পাঠকের ভালোবাসায় আজ আমরা আকাশ ছুঁয়েছি। এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের বলিষ্ঠ অবস্থানের কারণেই। অন্যায়কে আমরা অন্যায় বলতে পারি।

আমাকে আমার সহকর্মীরা যখন বলেন, আপনার বিরুদ্ধে আবারও নতুন মামলা হয়েছে। নতুন নতুন মামলা দেশের বিভিন্ন আনাচে-কানাচে হচ্ছে। সাহস নিয়ে মানুষের কথা বলতে পারছি এর চেয়ে বড় আর কী থাকতে পারে? অনেকে ভাবেন কোথা থেকে পাই এই এত সাহস? মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই আমাদের সাহস। এই সাহসে ভর দিয়ে সমাজে ভালোর পক্ষে জনমত তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারছি। ভালো লাগে, কখনো রাস্তায় বের হলে মানুষ যখন সাহস জোগান। বলেন, আপনার পত্রিকাটি পড়ি। প্রার্থনা করি এভাবেই যেন কাজ করে যেতে পারি। এই ক্ষুদ্র জীবনে চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলানোর আর কিছু নেই। এই পেশাটা সব সময় চ্যালেঞ্জের ছিল। কলাম লিখে জিয়াউর রহমানের শাসনকালে আটক হয়েছিলেন জহুর হোসেন চৌধুরী। পরে সাংবাদিকদের আন্দোলনের মুখে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কবি মুকুন্দ দেব আটক হয়েছিলেন কবিতা লিখে। আইনস্টাইন দাবি জানিয়েছিলেন বিপ্লবী এম এন রায়কে মুক্তি দেওয়ার জন্য। শরত্চন্দ্রের ‘পথের দাবী’ নিষিদ্ধ করেছিল ব্রিটিশ শাসকরা। কবি নজরুলের পুরো জীবনটা ছিল বিদ্রোহে ঠাসা। দুঃখ-কষ্টকে তিনি লালন করেছিলেন জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। ব্রিটিশ শাসকরা তার লেখনীকে ভয় পেত। এই কারণে নিষিদ্ধ হয়েছিল তার সম্পাদিত কাগজ। তাকে পাঠানো হয়েছিল কারাগারে। কারাগার থামাতে পারেনি নজরুলের লেখনী। হুমকি, মামলা, হয়রানিতে কখনই দমন করা যায় না মিডিয়া।

প্রিয় পাঠক, আপনারা জানেন, মিডিয়া চালানো এখন এক কঠিন সংগ্রাম। আমাদের এই প্রয়াস কতটা সফল তার মূল্যায়ন আপনাদের। তবে শেষ চেষ্টাটুকু আমরা করছি। প্রতিনিয়ত মামলা ভয়, ভীতি আছে। কথায় কথায় প্রভাবশালীদের রক্তচক্ষু। মামলা আর গ্রেফতারি পরোয়ানা। তাদের ভাবখানা প্রভাবশালী এমপি অনিয়ম করবেন, কিন্তু তা লেখা যাবে না। লিখলেই মামলা হবে। সংসদে বিবৃতি হবে। জনসভা করে হুমকি দেওয়া যাবে। যা খুশি তাই করা যাবে। শুধু এমপি নন, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেও এখন লেখা কঠিন। কারণ তারাও মামলা করে! অনেক সময় আদালত এসব মামলায় সমনও জারি করে। আবার কখনো ওয়ারেন্টও ইস্যু হয়। হয়রানির এই অবস্থাকে জয় করে সামনে এগিয়ে চলার নামই চ্যালেঞ্জ। আমরা চেষ্টা করছি এই চ্যালেঞ্জ জয় করতে। সব কিছু সম্ভব হবে শুধু পাঠকদের ভালোবাসা অব্যাহত থাকলে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে গভীর কৃতজ্ঞতা বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান শ্রদ্ধেয় আহমেদ আকবর সোবহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহানসহ গ্রুপের সব পরিচালকের প্রতি। আহমেদ আকবর সোবহানের পথ দেখানো, দিকনির্দেশনা, সাহসী বিনিয়োগে আমাদের সাফল্যকে আজকের অবস্থানে এনেছে। করেছে আগামীর পথচলাকে ত্বরান্বিত। বিশাল হৃদয়ের সফল শিল্পোদ্যোক্তা সায়েম সোবহান আমাদের পথচলার নিত্যসঙ্গী। কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সব পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, সংবাদপত্র বিক্রয় এজেন্ট, হকার্স ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও মাঠ প্রতিনিধিসহ সবার কাছে। আপনারা সব সময় আমাদের পাশে ছিলেন। আশা করছি আগামীতেও একইভাবে থাকবেন। কৃতজ্ঞতা বাংলাদেশ প্রতিদিন মগবাজার অফিস থেকে এই পর্যন্ত যারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন, আছেন সব সহকর্মীর প্রতি। সবার অবদানেই বাংলাদেশ প্রতিদিন। আমি বিশ্বাস করি, একটি সফল টিম ওয়ার্ক ছাড়া কখনই একটি প্রতিষ্ঠান সাফল্য পেতে পারে না। বাংলাদেশ প্রতিদিনও তাই। নবম বর্ষে অনেক পরিবর্তন থাকবে পাঠকের জন্য। আমরা উত্তর আমেরিকায় পত্রিকা প্রকাশ করছি। গত বছর রেকর্ড করেছে, আমাদের ১৫০ পর্বের গোয়েন্দা কাহিনী সিরিজ রিপোর্ট। এবার শুরু হয়েছে মানুষকে সচেতন করতে নতুন সিরিজ রিপোর্ট, সাবধান বাংলাদেশ। লেখনীতে কারও রক্তচক্ষুর দিকে তাকালে চলে না। একটি সুন্দর আগামীর জন্য সব কিছু উপেক্ষা করেই এগিয়ে যাবে প্রতিদিন, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

আমাদের লড়াই মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে। আমরা চাই বাংলাদেশের আগামী সুন্দর ও কল্যাণকর হোক। বাংলাদেশ প্রতিদিন আগামীতেও গণমানুষের দৈনিক হিসেবে কাজ করবে। কোটি মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে কথা বলবে এ দেশের মানুষের ইতিবাচক রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং পজিটিভ এক বাংলাদেশের জন্য।  সব কিছু সম্ভব হবে শুধু পাঠকদের সমর্থন ও ভালোবাসা অব্যাহত থাকলে। আমরা আশা করছি পাঠকদের এই ভালোবাসা কমবে না। পরিশেষে, সবার জন্য শুভ কামনা।

 

            লেখক : সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow