Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৮ ২৩:৪৭
কাবিনবিহীন বিয়ে, প্রতারণা ও জনসচেতনতা
অ্যাডভোকেট সিরাজ প্রামাণিক
কাবিনবিহীন বিয়ে, প্রতারণা ও জনসচেতনতা
bd-pratidin

বিয়ে মানুষের জীবনের সবচেয়ে সুখকর অনুভূতি ও প্রজন্ম বিস্তারের একমাত্র উপায় হলেও কখনো কখনো তা অভিশাপরূপে দেখা দেয়। মুসলিম আইনে বিয়ে হচ্ছে ধর্ম কর্তৃক অনুমোদিত একটি দেওয়ানি চুক্তি। বিভিন্ন ধর্মে বিয়ের বিভিন্ন রীতি প্রচলিত। বিয়ে মূলত একটি ধর্মীয় রীতি হলেও আধুনিক সভ্যতায় এটি একটি আইনি প্রথাও। বিবাহবহির্ভূত যৌনসঙ্গম অবৈধ বলে স্বীকৃত এবং ব্যভিচার হিসেবে অভিহিত একটি পাপ ও অপরাধ।

পাঠক! এবার আসল কথায় আসি। রহিম ও রুনা (ছদ্মনাম) একে অন্যকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। ভালোবাসাকে বাস্তবে রূপ দিতে তারা পরিবারের অমতে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। প্রেমের টানে রহিমের হাত ধরে ঘর ছাড়েন রুনা। উভয়ের গন্তব্য ঢাকা। তাদের ধারণা, কোর্টে উকিলের মাধ্যমে বিয়ে করতে হয়। সুযোগসন্ধানী একশ্রেণির উকিলও এ কাজে সহায়তা করেন। আদালতের নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে গিয়ে তারা ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেন। কিন্তু তখন তারা বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি করেননি। বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়। রহিম রুনার সঙ্গে তার বিয়ের কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেন। আর এ অজুহাতে রুনাকে মোহরানা, খোরপোশ ও দাম্পত্য অধিকার দিতেও তিনি রাজি নন। অবশেষে বিষয়টি গড়ায় আদালতে। বিয়েটা প্রমাণ করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় রুনাকে।

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান অনুযায়ী প্রতিটি মুসলিম বিয়ে রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক। বিয়ে রেজিস্ট্রি না করলে স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকার, মৃতের সন্তানদের উত্তরাধিকার, খোরপোশ ও মোহরানার অধিকার থেকে ওই নারীকে বঞ্চিত হতে হয়। এ ছাড়া স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে বা প্রথম স্ত্রীর বিনা অনুমতিতে বিয়ে করার উদ্যোগ নিলে স্ত্রী আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন বিয়ে যদি রেজিস্ট্রি করা হয়। সুতরাং বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে একজন নারী তার দাম্পত্য জীবনের অনেক জটিলতা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন এবং অসহায়ত্ব থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেন।

১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইনে (সংশোধিত ৮ মার্চ, ২০০৫) বলা হয়েছে, ‘যদি কেউ বিবাহ রেজিস্ট্রি না করেন তাহলে তিনি এ আইনের অধীনে অপরাধ করেছেন বলে বিবেচিত হবেন এবং এ অপরাধের জন্য আইন কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি হচ্ছে দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা আর্থিক জরিমানা যা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে অথবা উভয় ধরনের শাস্তিই হতে পারে।’ কাবিন রেজিস্ট্রির পরিবর্তে কোর্ট ম্যারেজ অধিকতর শক্তিশালী— এই ভুল ধারণার ফাঁদে পড়ে অনেক নারী তাদের দাম্পত্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অথচ বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে কোর্ট ম্যারেজের কোনো বৈধতা নেই, এমনকি এর কোনো অস্তিত্বও নেই। ২০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে কিংবা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে গিয়ে হলফনামা করাকে বিয়ে বলে অভিহিত করা হয়। অথচ এফিডেভিট বা হলফনামা শুধুই একটি ঘোষণাপত্র। আইনানুযায়ী কাবিন রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেই কেবল ঘোষণার জন্য এফিডেভিট করা যাবে।

লেখক : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।

Email : seraj.pramanik@gmail.com

এই পাতার আরো খবর
up-arrow