Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৯ আগস্ট, ২০১৮ ২৩:৫৩
বাসমালিকদের সিদ্ধান্ত
সড়কশৃঙ্খলা ফিরে আসুক

রাজধানীর সড়ক নৈরাজ্যের অবসানে বাস মালিকরা চালকদের সঙ্গে দৈনিক চুক্তি বা জমার ভিত্তিতে বাস না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে। কোনো মালিক এ সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করলে বিআরটিএতে সংশ্লিষ্ট বাস বা মিনিবাসের নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করা হবে। ফিটনেসবিহীন বাস চলতে না দেওয়ার কথা জানিয়ে তারা বলেছেন, টার্মিনাল থেকে বাস ছেড়ে যাওয়ার আগে গাড়ির অবস্থা পরীক্ষা করা হবে। রাজধানীর প্রতিটি বাস টার্মিনালে মালিক ও শ্রমিক সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটি বাস ছেড়ে যাওয়ার আগে চালকের লাইসেন্স, গাড়ির কাগজপত্র এবং গাড়ি চলাচলের উপযোগী কিনা, তা দেখবে। লক্কড়-ঝক্কড় বাস মেরামতে সংশ্লিষ্ট মালিকদের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। মালিক সমিতির পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়, চুক্তিতে বাস চালানোর ফলেই চালকরা রাস্তায় নেমে গাড়ি নিয়ে প্রতিযোগিতা করেন। এর ফলে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বিভিন্ন কোম্পানির চেকার বাস কীভাবে চলছে তা তদারক করবেন। ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতিও বিভিন্ন কৌশলে তা পর্যবেক্ষণ করবে। উল্লেখ্য, রাজধানীতে সিংহভাগ বাস এতদিন মালিক-চালক চুক্তিতে চলাচল করে আসছিল। মালিকদের অনেকে এতদিন দৈনিক চুক্তির ভিত্তিতে চালকের হাতে বাসের দায়িত্ব দিয়ে নির্দিষ্ট অর্থ ভোগ করতেন। চালক সারা দিন বাস চালিয়ে মালিকের হাতে নির্দিষ্ট অঙ্কের জমার টাকা তুলে দিতেন। বাকি টাকা যেত চালক ও সহকারীদের পকেটে। ফলে বাসচালকদের ট্রিপের সংখ্যা বাড়ানোর একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা রাজধানীর রাজপথের সার্বক্ষণিক চিত্র হয়ে উঠেছিল। বাসমালিকদের সিদ্ধান্ত সড়ক নৈরাজ্য অবসানে অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়। তবে তাদের এ সিদ্ধান্ত কতটা ফলপ্রসূ হবে, সে বিষয়টি দেখতে আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। রাজধানীতে যানজটের অন্যতম কারণ বাস চলাচলে বিদ্যমান চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা। যেখানে-সেখানে পার্কিং করে যাত্রী ওঠানো-নামানো তাদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে যানজট সৃষ্টি হয়, আখেরে তা নিজেদের জন্যও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যে রুটে পাঁচ ট্রিপ দেওয়া যায়, যানজটের কারণে সে রুটে চারবার গাড়ি চালানোও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হলে জনমনে বাস মালিক ও শ্রমিকদের ভাবমূর্তির যে সংকট বিরাজ করছে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow