Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:৩০
পাবনায় সাংবাদিক হত্যা
অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করুন

আরও একজন সাংবাদিক নৃশংস হত্যাকা্লের শিকার হলেন। সুবর্ণা নদী নামের পাবনার ওই সাংবাদিককে মঙ্গলবার রাতে শহরের রাধানগরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত সাংবাদিকের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে কোনো সংবাদের কারণে নয়, পারিবারিক বিরোধের কারণে নদীকে হত্যাকা্লের শিকার হতে হয়েছে। এই হত্যাকা্লে তার সাবেক স্বামী, শ্বশুর এবং তাদের সহযোগীরা জড়িত। এ অভিযোগের ভিত্তিতে সুবর্ণা নদীর সাবেক শ্বশুরকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাবেক স্বামী ও অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নদী সাবেক স্বামীর কাছ থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। বিষয়টি প্রশাসনকেও জানানো হয়। সাংবাদিক সুবর্ণা আক্তার নদীর প্রথম স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হলে তিন বছর আগে শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের ছেলে রাজীবের সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। নদীর বড় বোন চম্পা খাতুনের অভিযোগ রাজীবের সঙ্গে দাম্পত্য কলহের পরিপ্রেক্ষিতে সুবর্ণা পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে গত বছরের ৩০ মে যৌতুকের একটি মামলা করেন। এ মামলায় সুবর্ণার সাবেক স্বামী রাজীব ও তার বাবা আবুল হোসেনসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। মঙ্গলবার এই মামলায় সুবর্ণা তার পক্ষে আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন। মামলায় ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সুবর্ণাকে হত্যা করেছে। সুবর্ণা নদী বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘আনন্দ টিভি’র পাবনা প্রতিনিধি এবং পাবনার অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক জাগ্রত বাংলার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে কাজ শেষে ফেরার পথে বাসার সামনে এলে আগে থেকে ওতপেতে থাকা দুর্বৃত্তরা অতর্কিতভাবে সুর্বণা নদীর পেটে, মাথা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। যে কারণেই সুবর্ণা নদী হত্যাকা্ল হোক না কেন, খুনিদের বিচারের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা হবে আমরা এমনটিই দেখতে চাই। ইতিমধ্যে এ হত্যাকা্লকে কেন্দ্র করে পাবনার সাংবাদিকরা ফুঁসে উঠেছেন, দেশজুড়ে উঠেছে প্রতিবাদের ঝড়। দেশে এ যাবৎ সাংবাদিক হত্যার যে সব ঘটনা ঘটেছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ধামাচাপা পড়েছে। সুবর্ণা নদী হত্যার ক্ষেত্রে তা যাতে না ঘটে তেমনটিই প্রত্যাশিত।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow