Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫
রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশ— অতীত, বর্তমান ভবিষ্যৎ
মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার পিএসসি (অব.)
রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশ— অতীত, বর্তমান ভবিষ্যৎ
bd-pratidin

স্বাধীন বাংলাদেশের ৪৭ বছরের ইতিহাসে আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের সবচেয়ে কঠিন সংকট বাংলাদেশ মোকাবিলা করছে গত এক বছর ধরে। এর নাম রোহিঙ্গা সংকট। এক বছর আগে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে এ সংকটের দৈর্ঘ্য, প্রস’ ও গভীরতার ব্যাপক বিস্তার ঘটলেও এ সংকটে বাংলাদেশ জড়িয়ে পড়েছে আরও আগে, ১৯৭৮ সাল থেকে। কথায় আছে সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের ১০ ফোঁড়ের সমান। গত বছরের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের সব সরকারই সমস্যাটি আজকে যে রূপ নিয়েছে তা সময়মতো অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ বিশাল সংখ্যক হিসাবহীন রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে কক্সবাজারে অবস্থান বাংলাদেশের জন্য যে বিষফোঁড়ার মতো হয়ে আছে তা ২০১৭ সালের বহু আগ থেকেই আমি নিজেও আমার এ কলামে অনেকবার লিখেছি, টেলিভিশনের টকশোতে বলেছি। করণীয় সম্পর্কেও বলার চেষ্টা করেছি। আরও অনেকেও বলেছেন। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যাটির শুর“ সেই ১৯৪৮ সাল থেকে এবং এর ঐতিহাসিক লেগেছি আরও পুরনো। কিন্তু বাংলাদেশের ওপর এর চাপ আজ যেভাবে এসে পড়েছে তার ত্রে তৈরি হয়েছে ১৯৭৮ থেকে ২০১৭ সময়ে, গত ৩৮ বছরে। রোহিঙ্গারা এসেছে, আমরাও আশ্রয় দিয়েছি, আবার মিয়ানমার সরকারও ভেবেছে একটু ভালো করে তাড়া দিলেই রোহিঙ্গারা সব বাংলাদেশে চলে যাবে। বাংলাদেশের একেক সরকার একেক রকম নীতি গ্রহণ করায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায় এবং মিয়ানমার সরকার, দুই পই আমাদের সঠিক অবস্থান বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। বিষয়টি একান্তই মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। সেখানে প দুটি, রাখাইনের রোহিঙ্গা সম্প্রদায় ভার্সেস বার্মিজ সম্প্রদায় ও মিয়ানমার সরকার। রাখাইন রাজ্যের একমাত্র প্রতিবেশী হওয়ায় সহজাত কারণেই বাংলাদেশের ওপর তার জের এসে পড়েছে। বাংলাদেশ এখানে কোনো প নয় বা কোনো পরে সঙ্গে নেই। রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে এদিকে প্রবেশ না করলে বাংলাদেশের কোনো মাথাব্যথা ছিল না। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বার্মিজ ও মিয়ানমার সরকারের যে দ্বন্দ্ব তার নির্মোহ বিশ্লেস্নষণ করলে দেখা যাবে এ সংকট সৃষ্টির পেছনে উভয়পরে দায় রয়েছে। তবে ১৯৪৮ সালে স্বাধীন হওয়ার পর রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারের দায় ছিল তাদের এ অভ্যন্তরীণ সংকটটি মিটিয়ে ফেলা। কিন্তু মিয়ানমার ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থ হয়ে তারা যে কৌশল নিয়েছে তার সবকিছু হিতেবিপরীত হয়েছে, সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। সীমান্ত ছাড়িয়ে এটি এখন আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে পিছিয়ে পড়া জাতি হিসেবে সুসংগঠিত রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের অভাবে রোহিঙ্গা সম্প্রদায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। ১৯৪৮ সালের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাদের যেভাবে মিয়ানমারের মূলস্রোতের সঙ্গে একাত্ম ও সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজন ছিল সেটা তারা হতে পারেনি। এর পেছনেও কিছু যৌক্তিক কারণ রয়েছে। ১৬৬৬ সালে আজকের চট্টগ্রাম মোগল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত বর্তমানের রাখাইন, তখনকার আরাকান প্লাস চট্টগ্রাম একটি আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল। মোগলরা চট্টগ্রাম অন্তর্ভুক্ত করার পর আরও একশ বছরেরও অধিক সময় আরাকানের স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সত্তা বজায় ছিল। ১৭৮৪ সালে বার্মিজ রাজা সামরিক অভিযান চালিয়ে আরাকান দখল করে নেয়। সেই থেকে আরাকান বার্মা অর্থাৎ মিয়ানমারের অংশ। তাই এক অর্থে বার্মিজরা আক্রমণকারী, আগ্রাসী। তারা আরাকান এবং সেখানে বসবাসকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের স্বাধীনতা হরণকারী।

তাই বার্মিজদের ওপর রোহিঙ্গাদের োভ থাকা অস্বাভাবিক নয়। সেই থেকে অবিশ্বাস ও অনাস্থার যাত্রা শুর“। ব্রিটিশ শাসনামলে রোহিঙ্গা ও বার্মিজদের মধ্যে একটা সহঅবস্থান ছিল। কিন্তু ১৯৪৮ সালে বার্মা স্বাধীনতা অর্জনের পর পুরনো তিক্ততা অবিশ্বাস আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আরাকানের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশ মুসলমান পরিচিতি সামনে এনে ওই সময়ে আরাকান রাজ্যকে পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্ত করার দাবি তোলে। কিন্তু তা সম্ভব হয় না। তখনই রোহিঙ্গাদের ভিতর থেকে একটি মুজাহিদ বাহিনী গড়ে ওঠে। তারা এক সময়ে সরকারের বির“দ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ পরিচালনার চেষ্টা চালায়। এর ফলে সরকার রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়। রোহিঙ্গাদের প থেকে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমর্থন আদায় করতে পারে না।

কারণ, ষাট দশকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর অভ্যন্তরে সশস্ত্র বিদ্রোহই গড়ে তোলা এবং তাদের সব রকম সহায়তা প্রদানের জন্য পাকিস্তান সব সময় বার্মা সরকারের সাহায্য পাওয়ার প্রত্যাশায় থেকেছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর পূর্ণ সাম্প্রদায়িক দর্শন এবং অন্য দেশের              অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট না হওয়ার কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করায় রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র বিদ্রোহ পরিচালনার জন্য বাইরের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা আর থাকে না। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা্লের পর বাংলাদেশে উগ্র ইসলামিস্ট সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটে, বিশেষ করে জামায়াত সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার আওতায় প্রতিবেশী ভারত ও বার্মায় উগ্রবাদের বিস্তার ঘটানোর চেষ্টা চালায়। ইসলামিস্ট উগ্রবাদী শক্তি বাংলাদেশের রাজনীতি ক্রমশ শক্তিশালী হওয়ায় নির্যাতিত-নিপীড়িত রোহিঙ্গারা মুসলিম পরিচয় সূত্রে বাংলাদেশের ইসলামিস্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং সাহায্য-সহযোগিতা পেতে থাকে। ১৯৭৭-৭৮ সালে প্রথমবার এবং ১৯৯০-৯১ সালে দ্বিতীয়বার আরাকান থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এটাই শুর“। ওই সময়ে বাংলাদেশের মতায় অধিষ্ঠিত সামরিক সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং পরিস্থিতির দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মূল্যায়নে ব্যর্থ হওয়ায় স্থায়ীভাবে এ সমস্যার সঙ্গে বাংলাদেশ জড়িয়ে পড়ে। তখন সমস্যাটিকে ধর্মীয়করণ এবং ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করায় বাংলাদেশের জন্য সেটি হিতেবিপরীত হয়েছে। এতে রোহিঙ্গারা ভেবেছে বাংলাদেশ তাদের জন্য সহজ আশ্রয়স’ল। অন্যদিকে তাতে মিয়ানমার সরকারের মনে হয়তো বহু রকমের সন্দেহবাদের সৃষ্টি হয়েছে। এক সময়ে দুই-আড়াই লাখের মতো ফেরত গেলেও আরও প্রায় দুই-আড়াই লাখ কক্সবাজার অঞ্চলে রয়ে যায়। তারপর বিপ্তিভাবে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে থাকে। তাতে বলা যায় নব্বই দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা অবৈধভাবে কক্সবাজারে এসে বসতি গড়ে তোলে। এত বড় সংখ্যক পার্শ্ববর্তী দেশের নাগরিক, বলা যায় নিজ দেশের প্রতি ুব্ধ নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ এবং বসতি স্থাপন কতদিক থেকে কতভাবে যে রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে তা বোধহয় কেউ ভেবে দেখেননি বা কারও নজরে আসেনি। কারা আসছে, যাচ্ছে, থাকছে তার কোনো গণনা, নিবন্ধন এবং নিয়ন্ত্রণ কোনো কিছুই করা হয়নি। ফল যা হওয়ার তা-ই হয়েছে।              আন্তসীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুবার বিঘ্নিত হয়েছে। কক্সবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশের আনসার ক্যাম্প থেকেও একদল সন্ত্রাসী অস্ত্র লুট করেছিল ২০১৬ সালের ১২ মে। তাতে আনসার কমান্ডার আলী হোসেন নিহত হন। বাংলাদেশের বর্তমান  শেখ হাসিনার সরকার এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য মিয়ানমারকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে চেয়েছেন। কিন্তু মিয়ানমারের সামরিক সরকার তা গ্রহণ না করে উল্টোপথে হেঁটেছেন। মিয়ানমারের সব ধরনের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বাংলাদেশ-মিয়ানমার বোঝাপড়ার মাধ্যমে প্রায় শতভাগ দূর করা সম্ভব তা তো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর নিরাপত্তাজনিত সংকট ভারত-বাংলাদেশ এক হয়ে সমাধানের মাধ্যমে। মিয়ানমার এ পথে হাঁটলে নিরাপত্তাজনিত সমস্যাও দূর হতো এবং একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যারও একটা স্থায়ী সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু মিয়ানমার সরকার দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও বিতাড়নের পন্’ায় সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছে। যার             মর্মান্তিক ও অমানবিক উদাহরণ ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট ও তার পরবর্তী সময়ের ঘটনা। সেই ২৫ আগস্ট থেকে এক মাসের মধ্যে পাঁচ লাখ এবং পরে আরও দুই লাখ, মোট সাত লাখেরও অধিক রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাতে আগেরসহ মোট ১১ লাখেরও বেশি বাস‘চ্যুত রোহিঙ্গা সীমাহীন নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ এবং অবস্থান করছে। সবার ওপরে মানবতা। বাংলাদেশ তা প্রমাণ করেছে। রোহিঙ্গাদের দেশে ফেরত যাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রস্তাব ও অবস্থানের প্রতি জাতিসংঘসহ সারা বিশ্ব সমর্থন করেছে। এটি এখন আর মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নেই। শুধু মিয়ানমার-বাংলাদেশের ব্যাপারও নয়, এটি এখন একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। জাতিগত নিধন, গণহত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওসহ এমন কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ নেই যা মিয়ানমার সেনাবাহিনী করেনি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক ঘটিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানসহ ছয়জন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ওইসব অপরাধের জন্য অভিযুক্ত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক আদালতে অথবা জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিচারের জন্য কমিটির প থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হযেছে, অং সান সু চিও ওই অপরাধের দায় এড়াতে পারে না। সারা বিশ্ব এক হওয়া সত্ত্বেও শুধু চীনের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের বির“দ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিতে পারছে না। চীন তার ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রায় এক রকম অন্ধভাবে মিয়ানমারের প নিয়েছে। সব মানবতাকে দণি চীন সাগরে বিসর্জন দিয়েছে। বাংলাদেশ দ্বিপীয়, বহুপীয়সহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সব ফ্রন্টে অত্যন্ত দতার সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমার আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এলেও খুব সহসা তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে তেমন কোনো আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। মিয়ানমারের আন্তরিকতা ও আগ্রহ সম্পর্কে সবারই প্রশ্ন আছে। তাই সঙ্গত কারণেই সবাই বলছেন সমস্যার সমাধান সহজে হচ্ছে না। বাংলাদেশকে একটা নাতিদীর্ঘ সময় এ ১১ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা টানতে হতে পারে। সমাধানের পথ দীর্ঘ হলে এ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বর্তমানের মতো একই মাত্রায় অ্যাক্টিভ রাখা আগামীতে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে অর্ধেকই শিশু-কিশোর। এরা তো বড় হবে। োভ, হতাশা, বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার জায়গা থেকে এর একটা স্বল্প সংখ্যাও যদি সন্ত্রাস এবং বিদ্রোহের পথ বেছে নেয় তাহলে সেটা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য ভীষণ বিপজ্জনক হবে। মিয়ানমার তো নয়ই, চীন, ভারত কেউ এ বিপদের বাইরে থাকতে পারবে না। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ভারত ও চীনের সব স্বার্থ অনবরত হুমকির মধ্যে থাকবে। সমাধানের পথে সবচেয়ে বড় শঙ্কার জায়গাটি হলো, রোহিঙ্গাকে সমস্যাটি এখন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তির জন্য এ অঞ্চলে প্রভাব বলয় বিস্তারে দাবার ঘুটিতে পরিণত হওয়ায় মিয়ানমার সরকার এক বৃহৎ পরে অন্ধ সমর্থন পাচ্ছে। তাই বাংলাদেশকে সুদূরপ্রসারী চিন্তা এবং সংকটের ভবিষ্যতে রূপরেখা সম্পর্কে আগাম বিচার বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

লেখক : কলামিস্ট ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

 Sikde52¦gmail.com

এই পাতার আরো খবর
up-arrow