Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:১৯
শিল্প উন্নয়নে প্রয়োজন সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ
মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান
শিল্প উন্নয়নে প্রয়োজন সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ
bd-pratidin

বর্তমান অর্থনীতিতে বিদেশি বিনিয়োগ একটি বহুল আলোচিত বিষয়। বিদেশি বিনিয়োগ আনার জন্য বিশাল ক্ষমতা দিয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তথা সংক্ষেপে যাকে বিডা বলা হয় তা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিডা অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বিনিয়োগে প্রচুর শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অনুমতি দিয়ে দেশে উৎপাদন শিল্পে যথেষ্ট অবদান রেখে চলছে। যার ফলে এখন সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের প্রচুর সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। বিনিয়োগ সাধারণত দুই ভাবে হয়ে থাকে। একটি ইকুইটি এবং আরেকটি ঋণ। তবে ১০০ ভাগ ইকুইটি দিয়ে যে কোনো বিনিয়োগ সম্ভব কিন্তু ১০০ ভাগ ঋণে কোনো বিনিয়োগ হয় না। বিদেশি বিনিয়োগ ইকুইটিতেও হতে পারে এবং ঋণেও হতে পারে। তবে বিদেশি বিনিয়োগ কেন প্রয়োজন তা আমাদের সর্বাঙ্গে বিশ্লেষণ করা দরকার। দেশে কোনো লাভজনক শিল্প, সেবা বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হলে উচ্চমানের মেশিনারিজ, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ কারিগরি বিশেষজ্ঞ, অভিজ্ঞ কারিগর বা শ্রমিক, ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ বা দক্ষ কর্মজীবীর প্রয়োজন পড়ে সবার আগে; যার নির্ভরযোগ্য ভা-ার দেশে এখনো গড়ে ওঠে নাই। তাই দেশে কোনো শিল্প, সেবা বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হলে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন পড়ে। সব সময় এই বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা দেশের অভ্যন্তরীণ মূলধন থেকে সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। স্থানীয় মুদ্রায় বিনিয়োগ করলেও বিভিন্ন আমদানির মূল্য বিদেশি মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয়। যার ফলে বিনিয়োগের পরিমাণে স্থিতি থাকে না। একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করার সময় যে মূলধন স্থির করা হয় প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পটি শেষ করতে করতে মূলধন অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে উৎপাদিত বা প্রদত্তসেবার মূল্য বেড়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পটি অলাভজনক হয়ে যায়। তার ওপর যদি প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি কাঁচামালের ওপর নির্ভর করে অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য বিদেশি মেশিনারিজ আমদানি করে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানটি নির্ঘাত অচিরেই রুগ্ন হয়ে যাবে। কারণ বিদেশি মুদ্রার অব্যাহত মূল্য বৃদ্ধি হতেই থাকে, ফলে কাঁচামালের মূল্য, মেশিনারিজের খুচরা যন্ত্রাংশের মূল্য, বিদেশি প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞ, কারিগর, দক্ষ শ্রমিকের মূল্য ইত্যাদির আনুষঙ্গিক মূল্য বৃদ্ধি পায় কিন্তু সেই হারে উৎপাদিত দ্রব্য বা সেবার মূল্য বৃদ্ধি পায় না। তবে শতকরা ১০০ ভাগ বিদেশে রপ্তানির জন্য করা প্রতিষ্ঠানের বেলায় বিদেশি মুদ্রার মূল্যের বাড়তি চাপ তেমন কোনো সমস্যা হয় না। কারণ তার আয়ও সেভাবে বৃদ্ধি পায়।

বিদেশি মুদ্রা ছাড়া দেশে তেমন কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা কার্যত সম্ভব নয়। কিন্তু আমাদের দেশে বৈদেশিক মুদ্রা অতি নিয়ন্ত্রিত একটি মুদ্রা ব্যবস্থা। এর জন্য অনেক কঠিন কঠিন নিয়ন্ত্রণমূলক নিয়মনীতি রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রা এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে রয়েছে মানি লন্ডারিং। এর সরাসরি সম্পর্কের সম্ভাবনা। ফলে ইচ্ছা করলেই বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহ করা আদৌ সম্ভব হয় না। তবে সম্প্রতি সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনের নিয়ম অনেক শিথিল করেছে। যেমন বিশাল অঙ্কের এলসি যে কোনো ব্যাংক যে কোনো ক্লায়েন্টের জন্য খুলতে পারবে। বিদেশিরা ডেফার্ড পেমেন্টে বা বিনিয়োগ হিসেবে যে কোনো মূল্যের মেশিনারিজ বিডার অনুমতি নিয়ে আমদানি করতে পারবে। এমন কি ইকুইটিতেও বিদেশিরা সরাসরি বিনিয়োগ করতে পারবে এবং বিনিয়োগকৃত অর্থের লভ্যাংশ ফি বছর নিতে পারবে। এমনকী বিদেশিদের সঙ্গে অংশীদারিত্বে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের বিদেশি মালিক সরাসরি এলসি খুলতে পারবে এবং তার শেয়ারের বিপরীতে যে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে গ্যারান্টি বিদেশে যে কাউকে দিতে পারবে। এ ব্যাপারে ‘ফরেন একচেঞ্জ গাইড লাইন অব বাংলাদেশ ব্যাংকের চাপ্টার ১৬ যা ১৮ জানুয়ারি ২০২৮ পর্যন্ত সংশোধন করে হালনাগাদ করা হয়েছে। উক্ত চাপ্টারে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লোন, ওভার ড্রাফট ও গ্যারান্টি দেওয়ার অনুমোদন দিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ব্যাংকগুলো জানুয়ারি ২০১৮ সালের পর থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা দিতে পারবে। তার জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অন্য কোনো অনুমতি নিতে হবে না। বিদেশি মুদ্রা ট্রানজেকশন গাইডলাইন উদারীকরণ করার পর দেশে যেমন বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে সেই সঙ্গে দেশীয় উদ্যোক্তাগণ বিদেশি মুদ্রায় ঋণ পেতে আরও কঠিন প্রতিযোগিতায় পড়ে গেছে। কথা ছিল বিদেশি বিনিয়োগ এনে দেশে বিনিয়োগের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে। এর ফলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ অভিজ্ঞতা এবং তাদের কার্যক্ষমতা ও উৎপাদন গুণাবলি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে বিদেশিরা চিরস্থায়ী ব্যবস্থা কায়েম করে দীর্ঘমেয়াদি মুনাফার সুযোগ করে নিচ্ছে। যেমন বিদেশি একজন ব্যক্তি বা একটি কোম্পানি বাংলাদেশের কোনো উদ্যোক্তার জয়েন্ট ভেনচার করে বিডাতে কোম্পানি নিবন্ধন করে নিল। সেই নিবন্ধনের আওতায় বিদেশি বিনিয়োগকারী নিজেই একটি মূল্য নির্ধারণ করে কতগুলো মেশিন আমদানি করল এবং যে মূল্য সে নির্ধারণ করল তা বিদেশি মুদ্রায় তার বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ধারিত হলো। কিন্তু প্রকৃত অবস্থায় ওই মেশিনগুলোর মূল্য হয়তো তত নয়। ফলে দেশ প্রথম ধাক্কায় আর্থিকভাবে ধাক্কা খেল এবং দেশের জিডিপির পরিমাণ খাতা-কলমে বেড়ে গিয়ে দেশে একটি রিক্তকরণের মধ্যে পতিত হলো; যা দীর্ঘমেয়াদে জিডিপিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন বিদেশি বিনিয়োগকারী এক মিলিয়ন বিদেশি মুদ্রা মূল্যমানের মেশিনারিজ দুই মিলিয়ন মূল্য দেখিয়ে বিনিয়োগ করল তাহলে প্রকৃত বিনিয়োগ কত হলো তা নিশ্চয় বুঝতে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এই কম মূল্যের মেশিনারিজ বেশি দাম দেখিয়ে বিনিয়োগ করা সমস্যার শেষ এখানেই নয়। বিনিয়োগকারী এখন প্রতি বছর তার বিনিয়োগের ওপর কর ছাড়াই লভ্যাংশ গ্রহণ করে তা দেশের বাইরে নিয়ে যেতে পারবে। যার ফলে তার প্রকৃত আয়ের দ্বিগুণ পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা নিতে পারতেছে দেশের বিদ্যমান আইনের মাধ্যমে। এভাবে সে তার প্রকৃত বিনিয়োগকৃত অর্থ তিন থেকে চার বছরের মধ্যেই দেশ নিয়ে যেতে পারছে। বিষয়টি অঙ্ক করে বললে আরও সহজ হবে। দুই মিলিয়ন বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগের বিপরীতে যদি ২০% লভাংশ বাইরে পাঠাতে পারে তাহলে দুই মিলিয়ন পাঠাতে সময় লাগবে পাঁচ বছর অর্থাৎ তার প্রকৃত এক মিলিয়ন বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে সময় লাগবে মাত্র তিন বছর। কারণ বছরের মাঝখানে লভ্যাংশ ঘোষণা হয় না। তিন বছরে বিনিয়োগকৃত বৈদেশিক মুদ্রা ফেরত নেওয়ার পরে দুই মিলিয়ন বৈদেশিক মুদ্রার কাঁঠাল গাছ তার রয়ে গেল যেখান থেকে অনন্তকাল তারা প্রতি বছর কাঁঠাল খেতে থাকবে। এভাবেই দেশটা একদিন বিদেশিদের কাছে জিম্মি হয়ে যাবে। আমাদের বিশেষজ্ঞরা বিদেশে পড়াশোনা করা এবং বিদেশি ভাবাপন্ন অর্থনীতি বিশারদ। তারা পৃথিবীটাকে গ্লোবাল ভিলেজ মনে করে। তাদের চোখে বিদেশি বিনিয়োগ উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ব্যাপার। এখানে উভয় পক্ষের উইন উইন অবস্থা। কিন্তু প্রকৃত এবং বাস্তব অবস্থা কি তাই? এখানে যে সব বিদেশি ইকুইটি বিনিয়োগ বা জয়েন্ট ভেনচার বিনিয়োগে আসে তারা হয় বিভিন্ন বহুজাতিক উৎপাদন কোম্পানি বা অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠান যারা বাণিজ্য প্রসারের স্বার্থে বাংলাদেশের মতো উনুন্নত বাজারে প্রবেশ করে কৈ মাছের তেল দিয়ে কৈ মাছ ভেজে নিতে চায়। যেমন যে দেশ মোটরগাড়ি উৎপাদন করে তারা সড়ক নির্মাণে বিনিয়োগ করতে আসে, যেই দেশ ড্রেজার তৈরি করে তারা নদীখননে বিনিয়োগ করতে চায়, যারা রেডিমেড পোশাক ক্রয় করে তারা পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ করে। শুধু ইকুইটি বা জয়েন্ট ভেনচার প্রকল্পে বিনিয়োগ নয়, এমন কী সব ধরনের বিদেশি ঋণেও বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞ বা কনসালটেন্ট নিতে হয়, তাদের নির্ধারিত মূল্যে নির্দিষ্ট দেশ থেকে মেশিনারিজ আমদানি করতে হয়। একসঙ্গে অনেক ফালতু পার্টস বা যন্ত্রাংশ মূলধনী মেশিনারিজের সঙ্গে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় শুল্কারোপের সুবিধার্থে। কারণ বলা হয় মূলধনী মেশিনারিজের শুল্ক হার কম কিন্তু পরবর্তীতে যন্ত্রাংশ হিসেবে শুল্ক হার বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তা ছাড়া যন্ত্রাংশের জন্য কোনো বিনিয়োগ কেউ করে না। তা ছাড়াও বাংলাদেশে সাধারণত কম দামে (যদিও বিনিয়োগে বেশি দাম দেওয়া থাকে) পুরনো মডেলের নতুন মেশিনারিজ ক্রয় করা যেগুলো এক-দুই বছর পরে বাজারে পাওয়া যায় না এবং যন্ত্রাংশও মিলে না। এটি একটি বিশাল আন্তর্জাতিক বেনিয়াচক্র; যাদের নিয়ন্ত্রণে পুরো আমলাতন্ত্র। যা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করা মানে আরেকটি বিপ্লব করা।

এমন হাজারো উদাহরণ দেওয়া যায়, যেখানে বাজার অর্থনীতির স্বার্থে আমার দেশে বিনিয়োগ হয়। কিন্তু কাঁচামাল উৎপাদনে, কৃষি উৎপাদনে বা মৌলিক শিল্পে কোনো বিনিয়োগ আনা যায় না। কৃষি বা মৌলিক শিল্পে বিনিয়োগে দেশের আমলাদের প্রচ- বাধা। এর মূল কারণ হলো শিক্ষাব্যবস্থায় বাজার অর্থনীতির প্রভাব সুদূরগ্রাসী। ব্যাংকিং শিক্ষা আরও ভয়াবহ। এখানে বৃহৎ আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা ব্যাংকিং ব্যবস্থা। তা ছাড়া আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বার্গেনিং স্কিল ডেভেলপ করার শিক্ষা কার্যক্রম নাই। সবই রুটিন শিক্ষাব্যবস্থা যার সিংহ ভাগ পাঠ্যবই বিদেশিদের লেখা।

দেশকে উন্নত ও স্বাবলম্বী করতে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। নিজস্ব পুঁজির প্রচ- অভাব। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার দিয়ে সীমিত অভিজ্ঞতায় সঠিক পথেই এগোচ্ছে। এখনো কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। যেগুলো অতিক্রম করতে পারলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলে অনেকের বিশ্বাস। বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোভাবও যথেষ্ট ইতিবাচক। বিদেশি মুদ্রা ট্রানজেকশনের গাইড লাইন ১৮ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখ পর্যন্ত হালনাগাদ করে তারা সুস্পষ্ট নিয়মনীতি করে দিয়েছে, যা যথাযথ মেনে যে কোনো ব্যাংকের এডি শাখার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আনার ব্যবস্থা করতে পারে। ওই গাইড লাইনের ১৫ নম্বর চাপ্টারে বিদেশ থেকে ঋণ বিডার পূর্ব অনুমতি নিয়ে আনার অনুমতি দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি আমলে গঠিত একটি বাছাই কমিটিকে সুপারিশ করার দায়িত্ব দেওয়াতে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘসূত্রতার মারপ্যাঁচে পড়ে গেছে। মাসে একবার বাছাই কমিটির বৈঠক বসে। ফলে সুপারিশ পেতে বেশ বিলম্ব হয়। যদিও বাছাই কমিটি খুবই ইতিবাচক কিন্তু বৈঠকের বাধ্যবাদকতায় তারা অনেকটা নিয়ন্ত্রিত। এই কমিটিটা বিলুপ্ত করে দেওয়া যায় কি না তা ভাবা উচিত। গাইড লাইন দিয়ে দেওয়ার পরে বাছাই কমিটির প্রয়োজনীয়তা তেমন নাই বলে উদ্যোক্তারা মনে করে। যদি এই বাছাই কমিটি বিলুপ্ত হয় তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার ট্রানজেকশন গাইড লাইনের ১৫ চাপ্টারে প্রণীত নিয়ম মেনে যে কোনো বিদেশি বিনিয়োগের জন্য স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রাপ্তিতে যথেষ্ট সময় সাশ্রয় হবে ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরাসরি বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। সরাসরি বিদেশি ঋণ অনেক বেশি সুবিধা বহন করে। একদিক দিয়ে এর সুদহার কম। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ দীর্ঘ। যদি দেশীয় উদ্যোক্তারা দর কষাকষি করে ঋণের বিভিন্ন শর্ত অনুকূলে রাখতে পারে তাহলে সরাসরি বিদেশি ঋণ সর্বোচ্চ বিনিয়োগ সুবিধা হিসেবে গণ্য হবে। তা ছাড়া সরাসরি বিদেশি ঋণে দেশের সম্পদের ওপর কোনো দায় সৃষ্টি হয় না এবং অনন্তকাল কোনো দায়ভার বহন করার সুযোগ থাকে না। ঋণ পরিশোধ হয়ে গেলে বা পরিশোধের সময়কালে কোনো দায়ভার থাকে না। তাই দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, দেশীয় সম্পদ বৃদ্ধি, মৌলিক ও কৃষিজ শিল্প গড়ে তোলার স্বার্থে সরাসরি বিদেশি ঋণগ্রহণকে উৎসাহিত করা উচিত বলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা মনে করে এবং সুপারিশটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করে।

            লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow