Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২০
ইতিহাস
বাবর বাহিনীর নতুন অস্ত্র

১৫০৮ সাল থেকে ১৫১৯ সালের সময়টুকু বাবরের স্মৃতিকথায় ছিল না। এই সময় ইসমাইল সাকাভিদ একটা দুঃসময় কাটান, তার বিশাল অশ্বারোহী বাহিনী নিশ্চিহ্ন হয় অটোম্যান সুলতানদের বিরুদ্ধে চালদিরান যুদ্ধে। সেখানে ম্যাচলক মাস্কেট নামক এক ধরনের নতুন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। বাবর এবং ইসমাইল দুজনই প্রযুক্তির উন্নয়ন উপলব্ধি করেন এবং বাবর তার বাহিনীকে ম্যাচলক যন্ত্রের প্রশিক্ষণ দিতে একজন অটোম্যান উস্তাদ আলীকে তার বাহিনীতে আমন্ত্রণ জানান। উস্তাদ আলী তখন ম্যাচলক মানব নামে পরিচিত ছিলেন। বাবর মনে রেখেছিলেন, তার বিরোধীরা তার বাহিনীতে এ ধরনের কোনো অস্ত্র আগে দেখেনি বলে বিদ্রƒপ করত। এ যন্ত্রগুলো থেকে বিকট শব্দ হতো এবং কোনো তীর বা বর্ষা নিক্ষিপ্ত হতো না। এই অস্ত্রগুলো স্বল্পসংখ্যক সৈন্যের হাতে দেওয়া হয় শত্রুদের ওপর কর্তৃত্ব করার জন্য। ভারতের পথে অগ্রসর হওয়ার সময় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতির সঙ্গে খ-যুদ্ধের সময় এটি ব্যবহার করা হয় শুধু শত্রুদের অবস্থান এবং কৌশল পরীক্ষা করার জন্য। কান্দাহার ও কাবুলের দুটি শক্ত প্রতিরোধ থেকে রক্ষা পাওয়া বাবর কোনো অঞ্চল জয়ের পর স্থানীয়দের খুশি করার চেষ্টা করতেন। এ জন্য স্থানীয় সংস্কৃতি পালনের পাশাপাশি বিধবা ও এতিমদের সাহায্য করা হতো।

ইব্রাহিম লোদি অনেকের অপ্রিয় ছিলেন, এমনকি তার নিজস্ব লোকজনের কাছেও। বাবর ১২ হাজার সৈন্য জোগাড় করেন এবং লোদির আফগানিস্তানের লোকজনকেও তাতে শামিল হওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এই সৈন্য সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। কেননা তারা অগ্রসর হওয়ার সময় স্থানীয় অনেকেই তাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছিল। দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম বড় সংঘর্ষ হয় ১৫২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। বাবরের পুত্র হুমায়ুন ১৭ বছর বয়সে মোগল বাহিনীকে নেতৃত্ব দেন ইব্রাহিমের উন্নত বাহিনীর বিপরীতে। হুমায়ুনের বিজয় অর্জন বেশ কঠিন। তারপরও তার নেতৃত্বাধীন চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow