Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২১
জান্নাতের টুকরা নবীজীর (সা.) রওজা মোবারক
মুফতি মুহাম্মাদ এহছানুল হক মোজাদ্দেদী
জান্নাতের টুকরা নবীজীর (সা.) রওজা মোবারক

‘সোনার মদিনা আমার প্রাণের মদিনা সব ভুলিব কিন্তু তোমায় ভুলতে পারি না।’ প্রতিটি মুমিনের ভালোবাসার আরেক নাম প্রিয় নবীজী হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)। যাকে ভালোবাসাই হলো ইমানের বড় শর্ত। হুজুর আকরাম (সা.) যেখানে ঘুমিয়ে আছেন, সে জায়গাটি স্বভাবগত কারণেই মুমিনদের প্রিয় স্থান। ওই স্থানের সবচেয়ে বড় মর্যাদা হলো, পৃথিবীতে একমাত্র জান্নাতের টুকরা হলো রসুল (সা.)-এর বিশ্রামের জায়গা সোনার মদিনার রওজা মোবারক। পবিত্র হাদিস শরিফ থেকে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। রসুল (সা.) বলেছেন, আমার ঘর এবং মিম্বরের মধ্যবর্তী জায়গাটি জান্নাতের একটি টুকরা। (বুখারি, হাদিস নম্বর : ১৯৯৫।)

মনে রাখা দরকার, সাধারণ মানুষ এবং নবী রসুলদের মধ্যে অসংখ্য পার্থক্যের একটি হলো, সাধারণ মানুষ মরে গেলে ঘর থেকে বের করে কবরস্থানে দাফন করা হয়। আর নবীগণ (আ.) যে ঘরে ইন্তেকাল করেন, ওই ঘরেই তাঁদের দাফন হয়েছে। কারণ নবীরা স্ব স্ব কবরে জীবিত থাকেন আল্ল­াহর পক্ষ থেকে রিজিক পান। দুনিয়াতে তাঁরা যেখানে বিশ্রাম নিতেন, হায়াতে কবরেও তাঁরা ওই স্থানে বিশ্রাম নেন। রসুল (সা.) বলেছেন, নবীরা (আ.) নিজ নিজ কবরে জীবিত। তারা সেখানে সালাত আদায় করেন। (মুসনাদে বাযযার, হাদিস নম্বর : ৬৮৮৮।)

মা আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) এর ঘরে হুজুর (সা.) ইন্তেকালের স্বাদ নিয়েছেন। তাই তাঁকে (সা.) ওই ঘরেই দাফন করা হয়েছে। মসজিদে নববীর দক্ষিণ-পূর্ব কোণে হজরত মা আয়েশা (রা.) এর হুজরা মোবারক অবস্থিত। এটি দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ৩.৫ বাই ৫ মিটার কাছাকাছি ছিল। হুজুরপাক (সা.)-এর এক ফুট পেছনে হজরত আবু বকর (রা.), তাঁর এক ফুট পেছনে উমর (রা.) এর রওজা। এরপর একটি কবরের পরিমাণ জায়গা খালি রাখা হয়েছে। এখানে হজরত ঈসা রুহুল্লাহ (আ.)-কে আখেরি নবীর উম্মত হিসেবে দাফন করা হবে। (তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ৩৬১৭)। পৃথিবীর একমাত্র জান্নাতের টুকরা সোনার মদিনার এ  রওজা মোবারক জিয়ারতের ফজিলত ও মর্যাদা অনেক বেশি। রওজা শরিফ জিয়ারতে মাধ্যমে নূরনবীর (সা.) শাফায়াত লাভ করা যায়। হুজুরে আকরাম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার রওজা মোবারক জিয়ারত করবে, আমার ওপর ওয়াজিব হয়ে যায় ওই উম্মতের জন্য শাফায়াত করা।’ (দারা কুতনি : ২/২৭৮।) অন্য  হাদিস শরিফে রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে উম্মত শুধু আমার রওজা জিয়ারতের জন্য আসবে, কিয়ামতের দিন আমি নবীর শাফায়াত লাভ করা তার অধিকার হয়ে যায়। (মুজামুল কাবির : ১২/২২৫।) একবার হজরত হুসাইন (রা.) প্রশ্ন করলেন, নানা, কেউ যদি আপনার রওজা শরিফ জিয়ারত করে তাহলে তার প্রতিদান কী? প্রিয় নবীজী  (সা.) বললেন, কেউ যদি আমার কিংবা আহলে বাইতের কারও রওজা মোবারক জিয়ারত করে, কিয়ামতের দিন আমি তাকে গোনাহ থেকে পবিত্র করব। (কিতাবুল জিহাদ ওয়াল মাজার : পৃ. ৪৬০)।

পবিত্র হজ উমরা আদায়ের আগে পরে আমরা রসুল (সা.) এর রওজা মোবারক জিয়ারত করব এবং সেখানে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত দোয়া ও দরুদ শরিফ পড়ব। হজরত উবায়দুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বলেন, আমি উসামা ইবনে যায়েদ (রা.)-কে রসুল (সা.) এর রওজা শরিফের সামনে দোয়া করতে দেখেছি।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস নম্বর : ৫৬৯৪)।

লেখক : বেতার, টিভির ইসলামী উপস্থাপক; খতিব, মনিপুর বাইতুর রওশন জামে মসজিদ, মিরপুর, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow