Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪৫
ক্যান্সার শনাক্তের নতুন পদ্ধতি
বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের এক বড় আবিষ্কার
bd-pratidin

ঘাতক ক্যান্সার রোগ শুধু রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করার সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা। উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের (হেকেপ) আওতায় সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকের নেতৃত্বে একদল গবেষক এ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তাদের গবেষণায় শুধু রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এ গবেষণার ফল পেটেন্টের জন্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে একযোগে আবেদন করা হয়েছে। গবেষক দলের প্রধান ড. ইয়াসমিন হকের মতে বিশ্বে এ ধরনের গবেষণা এটিই প্রথম। হেকেপের সহায়তায় ভিন্নধর্মী গবেষণার মাধ্যমে তারা ক্যান্সার নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতি উদ্ভাবনে সফল হয়েছেন। হেকেপের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা এ গবেষণা দেখার পর পেটেন্টের আবেদন করার পরামর্শ দেন। গবেষকদের মতে  এ বিষয়ে আরও উচ্চতর গবেষণার প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে একজন রোগীর দেহে যন্ত্রপাতি প্রবেশ না করিয়ে প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে নতুন এক পদ্ধতিতে রক্ত পরীক্ষা করে সম্ভাব্য ক্যান্সারের ভবিষ্যদ্বাণী করার সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল পাওয়ায় পেটেন্টের আবেদন একযোগে বাংলাদেশ ও ইউএসএ পেটেন্ট অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে গত ৯ জুলাই। ক্যান্সার রোগ নির্ণয়ের নতুন পদ্ধতি সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। এ উদ্ভাবনের মাধ্যমে ক্যান্সার রোগীদের রক্তে এমন কিছু একটা অনুসন্ধান করে বের করা সম্ভব হবে যার নন-লিনিয়ার ধর্মটি ক্যান্সার রোগের সম্ভাব্যতার বিষয়ে ধারণা দেবে। উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে শুধু ক্যান্সার রোগীদের রক্ত নয়, অন্য যে কোনো স্যাম্পলের নন-লিনিয়ার ধর্ম খুবই সহজে সূক্ষ্মভাবে পরিমাপ করা সম্ভব হবে। ক্যান্সার একটি ঘাতক রোগ। প্রতি বছর দুনিয়াজুড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারায়। ক্যান্সারের চিকিৎসা এতই ব্যয়বহুল যে এর চিকিৎসায় অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। প্রাথমিক অবস্থায় ঘাতক এ রোগের বিষয়টি ধরা পড়লে সিংহভাগ ক্ষেত্রে জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়। চিকিৎসা ব্যয় হ্রাস পায়। বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত পদ্ধতিটি চূড়ান্ত মূল্যায়নে গ্রহণযোগ্য হলে তা চিকিৎসাবিজ্ঞান তথা মানবকল্যাণে একটি বড় অবদান বলে বিবেচিত হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow