Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৭
ইবাদতের মাস মহররম

মাওলানা মুহম্মাদ আশরাফ আলী হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম হাতছানি দিচ্ছে। মানবজীবনে এ মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। মহররম মাসের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। অনেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এ দিনে। হজরত আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত— রসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় গমন করার পর ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা রাখতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা এ দিনে কীসের রোজা রাখ? তারা বলল, এদিন আলস্ন্লাহতায়ালা হজরত মূসা (আ.) এবং তার কওম বনি ইসরায়েলকে ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি দেন, আর ফেরাউনকে স্বদলবলে লোহিত সাগরে ডুবিয়ে ধ্বংস করেন। অতএব আমরা এর শোকর আদায়ের লক্ষ্যে এবং গৌরবময় দিনটির সম্মান জানাতে এ দিনটিতে রোজা রাখি। রসুলুল্লাহ (সা.) তাদের কথা শুনে বললেন, তোমাদের চেয়ে আমরা মূসা (আ.)-এর অনুসরণের বেশি দাবিদার। এরপর রসুলুল্লাহ (সা.) স্বীয় উম্মতগণকে এ দিনে রোজা রাখার নির্দেশ দেন। বোখারি শরিফের হাদিসে রয়েছে হজরত আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসুলুলস্ন্লাহ (সা.)-কে রমজান ও আশুরায় যেভাবে গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি, অন্য সময় তা দেখিনি। অন্যত্র বর্ণিত আছে— হজরত আলী (রা.) বলেন, রসুলুলস্নাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, মহররম মাস আলল্লাহর মাস। এ মাসে   আল্লাহতায়ালা একটি সম্প্রদায়ের তওবা কবুল করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এ মাসে তওবা করে,                   আলস্ন্লাহতায়ালা অবশ্যই তার তওবা কবুল করে থাকেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে— হজরত কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন আমি আশাবাদী যে, আশুরার রোজার অসিলায় আল্লাহতায়ালা অতীতের এক বছরের ছোট-বড় সব গুনাহ মাফ করে দেন। হজরত হাফছা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুলস্ন্লাহ (সা.) চারটি আমল কখনো ছাড়েননি। যথা— ১. আশুরার রোজা। ২. জিলহজের প্রথম ১০ দিনের রোজা। ৩. প্রতি মাসে তিনটি রোজা। ৪. ফজরের দুই রাকাত সুন্নত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি মহররমের ১০ তারিখে রোজা রাখবে, তার বিগত বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। তবে এর সঙ্গে নয় অথবা ১১ তারিখে রোজা রাখাও            মুস্তাহাব। শুধু আশুরার দিন রোজা রাখলে ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্যতা বোঝা যায়, এ জন্য আশুরার সঙ্গে আগের দিন বা পরের দিন আরও একদিন রোজা মিলিয়ে রাখবে। আগে বা পরে আরও একদিন রোজা রাখ। আলস্ন্লাহ আমাদের আসন্ন মহররম মাসে বেশি বেশি ইবাদত করার তৌফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow