Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:২২
সম্মানিত মাস মহররম
মুহম্মাদ ওমর ফারুক
সম্মানিত মাস মহররম

জিলহজ মাস বিদায় নিচ্ছে। আসছে হিজরি সনের প্রথম মাস মহরমম। মহররম মাস আল্লাহ পাকের সম্মানিত একটি মাস। এ মাস সম্পর্কে রসুল  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমজানের রোজার পর মহররম মাসের রোজার ফজিলতই সবচেয়ে বেশি (মুসলিম)। তিনি আরও বলেছেন, ‘তোমরা আশুরার রোজা রাখ এবং এ বিষয়ে ইহুদিদের চেয়ে ভিন্ন নিয়ম পালন কর। তোমরা মহররমের দশম তারিখের রোজার সঙ্গে এর আগে বা পরে একদিন রোজা রাখ’ (আহমাদ)। মহররম মাস গোনাহ মাফের মাস। হাদিসে আছে, রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বলেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা করি যে, আশুরার রোজার ফলে আগের এক বছরের গোনাহর কাফফারা হয়ে যাবে’ (মুসলিম)। নতুন হিজরি সনকে সামনে রেখে আমরা আল্লাহপাকের কাছে দোয়া করি, যেন তিনি গোটা উম্মতে মুহাম্মদিকে আসন্ন নতুন বছরে রহমত ও বরকত দিয়ে ঢেকে দেন। মুসলিম জাতির ইতিহাসে মহররম মাস আরও একটি কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় নাতি হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ও ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহার মুজাহিদ পুত্র হজরত ইমাম হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শকে রক্ষা করার জন্য এ মাসেই নিজের জীবন কোরবান দিয়েছিলেন। তিনি দুনিয়াদারির লোভ-লালসার কাছে আত্মসমর্পণ না করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। ইয়াজিদের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জিহাদ করে তিনি মুসলিম জাতির জন্য কেয়ামত পর্যন্ত এক জ্বলন্ত উদাহরণ রেখে গেছেন। এই উদাহরণ হলো অন্যায়ের কাছে মাথানত করা যাবে না। জীবন দিয়ে হলেও আল্লাহ ও রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  নির্দেশিত পথে চলতে হবে। হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর ওই সংগ্রাম ব্যর্থ হয়নি। তাঁর ওই মহান সংগ্রামের ফলে এ কথাই প্রমাণিত হয়েছে, ইয়াজিদের শাসন ব্যবস্থা ইসলামবিরোধী ছিল। তিনি জিহাদ না করলে ইয়াজিদের শাসন ব্যবস্থার পক্ষে সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িগণের ইজমা ছিল বলে প্রমাণিত হতো।

রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় নাতির উদাহরণ যুগে যুগে মুসলিম জাতিকে শাহাদাতের জজবা দান করেছে এবং শত প্রতিকূলতার মাঝেও রসুল (সা.)-এর সুন্নাতে কায়েম থাকার সাহস জুগিয়েছে। আমরা নতুন হিজরি সনের আগমনের প্রাক্কালে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব—‘হে আলস্ন্লাহ! হিজরির নতুন বছরটি তোমার নবীর উম্মতের জন্য কল্যাণকর বানাও। তারা যেন নতুন প্রেরণা নিয়ে নিজেদের জীবনকে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শে গড়ে তোলে এবং মানব জাতিকে আলস্ন্লাহর পথে ডাকার দায়িত্ব পালন করে।’           আল্লাহ আমাদের সবাইকে নতুন বছরে সৎ ও সুন্দর জীবনযাপনের তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : ইসলামী গবেষক।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow