Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৩০
জার দ্বিতীয় নিকোলাস
জার দ্বিতীয় নিকোলাস
bd-pratidin

রাশিয়ায় ১৯১৭ সালের অক্টোবর মাসে লেনিনের নেতৃত্বে সশস্ত্র বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে কমিউনিস্টরা ক্ষমতা দখল করেছিল। অক্টোবর বিপ্লবের কয়েক মাসের মধ্যেই বলশেভিকরা সপরিবারে হত্যা করে রাশিয়ার শেষ সম্রাট, জার দ্বিতীয় নিকোলাসকে। রুশ বিপ্লবের শুরুতেই ইয়েকাতারিনবার্গের অর্থোডক্স গির্জায় ঘটেছিল সেই রক্তাক্ত ঘটনা। ১৯১৮ সালে এখানেই হত্যা করা হয়েছিল জার দ্বিতীয় নিকোলাস, তার স্ত্রী, সন্তান এবং তাদের গৃহকর্মীদের। বলশেভিকরা গুলি করে এবং বেয়নেট চালিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। এরপর তাদের মৃতদেহ একটি ট্রাকে করে শহরের বাইরে নিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। ইয়েকাতারিনবার্গের উপকণ্ঠে যেখানে জার দ্বিতীয় নিকোলাস এবং তার পরিবারের মৃতদেহ ফেলে দেওয়া হয়েছিল বলে মনে করা হয়, সেই জায়গাটি এখন একটি ক্রুশ দিয়ে চিহ্নিত করা।

১৯৯৮ সাল সেন্ট পিটার্সবার্গে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিকোলাস, তার স্ত্রী আলেক্সান্দ্রা এবং তাদের তিন সন্তানকে নতুন করে সমাহিত করা হয়। এর আগে অবশ্য ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছিল যে ইয়েকাতারিনবার্গের উপকণ্ঠে খুঁজে পাওয়া দেহাবশেষ আসলে জার নিকোলাস এবং তার পরিবারের সদস্যদের। রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চ যদিও জার নিকোলাস এবং তার পরিবারের সদস্যদের সাধু বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। জার দ্বিতীয় নিকোলাস ছিলেন একজন নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক। যেভাবে তিনি দেশ শাসন করেছেন, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন এবং বিতর্ক আছে। কিন্তু আজকের রাশিয়া যেন তাকে ভিন্ন আলোতে দেখতে চাইছে। ইয়েকাতারিনবার্গের গির্জায় প্রার্থনা সংগীতে জার নিকোলাসের প্রশংসা করা হচ্ছে। গির্জায় গান করেন নাস্তিয়া। তিনি বলছিলেন তিনি জার নিকোলাসকে দেখেন ভিন্ন চোখে। ‘আমি তাকে সব সময় একটি বড় জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে দেখি। রাশিয়া হচ্ছে বড় জাহাজ।  জার নিকোলাস তার ক্যাপ্টেন। তিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত এই বিরাট জাহাজের ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব পালন করেছেন।’

মুন্সী জামিল উদ্দিন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই পাতার আরো খবর
up-arrow