Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২২:৫১
বিজিবি বিএসএফ সম্মেলন
সীমান্তে হত্যা শূন্য পর্যায়ে নেমে আসুক
bd-pratidin

দিল্লি­তে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর অর্ধবার্ষিক সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলনে বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের সীমান্তকে শান্তির সীমান্তে পরিণত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বর্ডার সিকিউরিটি গার্ড (বিএসএফ) সীমান্তে হত্যা শূন্য পর্যায়ে আনতে যৌথ পদক্ষেপের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। সীমান্তে সম্মেলনে দুই দেশ ৯টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতেও সক্ষম হয়। বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও অপরাধ দমনে দুই দেশের যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত একটি আশাজাগানিয়া ঘটনা। আমাদের বিশ্বাস এই ঐকমত্য মাদক ও মানব পাচার এবং জাল নোট পাচার বন্ধসহ উগ্রবাদীদের দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রেও রাখবে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা।  সম্মেলনে বিজিবি প্রধান সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, এই হত্যা দুই দেশের সুসম্পর্কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন। জবাবে বিএসএফ প্রধান বলেন, তারা বর্তমানে অত্যন্ত প্রয়োজন ব্যতীত মারণাস্ত্র ব্যবহার করছেন না। ভবিষ্যতেও করবেন না। এমনকি সশস্ত্র অপরাধীরা আক্রমণ করলেও বিএসএফ সংযত ব্যবহার করছে। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হয় আন্তর্জাতিক সীমান্তে অপরাধীদের যাতায়াত বন্ধে উভয় পক্ষ যৌথ পদক্ষেপ নেবে এবং ধৃতদের বিরুদ্ধে নিজ নিজ দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বৈঠকে উভয় পক্ষ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছায়। ভারতের নিরাপত্তা রক্ষীদের আশঙ্কা, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। তাদের গ্রেফতার করে ফের সীমান্ত রক্ষীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। মানব পাচারে যারা শিকার হন তাদের দ্রুত উদ্ধার করে যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে। বৈঠকে বিজিবি প্রধান ভারত থেকে মাদকদ্রব্য এবং ফেনসিডিল পাচার রোধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে দাবি জানান। তেমনি বিএসএফ প্রধান জাল নোট পাচার রোধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। বিএসএফ প্রধান স্বীকার করেন, আগের তুলনায় জাল নোট পাচার বন্ধ হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ। দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থবহ করে তুলতে সীমান্তে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা খুবই জরুরি। সীমান্ত সম্মেলন সে পথ দেখালে তা হবে একটি আশাজাগানিয়া ঘটনা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow