Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০৩
পবিত্র মহররম মাসের তাৎপর্য
মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ এহছানুল হক মুজাদ্দেদী
পবিত্র মহররম মাসের তাৎপর্য
bd-pratidin

মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আকাশম-লী ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্ল­াহর বিধানে গণনার জন্য মাস ১২টি, এর মধ্যে চারটি মাস নিষিদ্ধ, এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান।’ সূরা তাওবাহ : ৩৬। নিষিদ্ধ চারটি মাস সম্পর্কে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম বলেন, ‘বছর হলো ১২টি মাসের সমষ্টি, তার মধ্যে চারটি মাস অতি সম্মানিত। তিনটি পর পর লাগোয়া মাস। সে তিনটি হলো জিলকদ, জিলহজ ও মহররম আর চতুর্থটি হলো জমাদিউস সানি ও শাবানের মধ্যবর্তী রজব মাস।’ বুখারি, মুসলিম। ইমাম বাগাভি (রহ.) বলেন, ‘অনেক আগেই আল্লাহ এ বিধান লাওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন।’ তাফসিরে বাগাভি, পৃষ্ঠা ১৯২। ইমাম আবু জাফর তাবারি (রহ.) বলেন, ‘ইসলাম আগমনের আগেও জাহেলি যুগে এ চারটি মাস নিষিদ্ধ ছিল। এ মাসগুলোকে তারা পবিত্র মনে করে সম্মান করত, যুদ্ধ-বিগ্রহ ও ঝগড়া-ফ্যাসাদ থেকে নিজেদের বিরত রাখত।’ তাফসিরে তাবারি, ১৯২ পৃষ্ঠা। অধিক সম্মানিত মাসগুলোর প্রথম মাস মহররম। এ মাসের ফজিলত অনেক। যেহেতু এটি পবিত্র মাস তাই এ মাসে যুদ্ধ হারাম। তবে যদি প্রতিপক্ষ কাফির-মুশরিক যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং আক্রমণ করে তাহলে যুদ্ধ করে তাদের ঘায়েল করা বৈধ। এ প্রসঙ্গে মুকাতিল ইবনে হায়ান ও ইবনে জুরাইজ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, সাহাবিদের একদল মহররম মাসে মুশরিকদের একদল লোকের সাক্ষাৎ লাভ করেন। তখন মুসলিম পক্ষ প্রতিপক্ষকে নিবৃত্ত রাখতে চাইলেন, যাতে তারা হারাম মাসে যুদ্ধ না করে। তারপর মুশরিক পক্ষ অস্বীকৃতি জানিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হতে প্রতিজ্ঞ হলো এবং হঠাৎ তাদের ওপর চড়াও হলো। তখন মুসলমানরা তদের প্রতিহত করলেন এবং যুদ্ধে লিপ্ত হলেন। এরপর আল্ল­াহ তাদের বিজয় দান করেন। তাফসিরে ইবনে কাসির।

হাদিসে মহররম মাসে নফল ইবাদত ও নফল সিয়ামকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের পর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ রোজা হলো আল্ল­াহর মাস মহররমের রোজা।’ মুসলিম এ হাদিসে মহররমকে ‘শাহরুল্ল­াহ’ তথা আল্ল­াহর মাস বলা হয়েছে। এর দ্বারাই বোঝা যায়, মহররমের মর্যাদা কত বেশি। সুবহানাল্ল­াহি বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম। তিরমিজিতে হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করলেন, রমজানের পর কোন মাসের রোজা রাখার জন্য আপনি আমাকে আদেশ করবেন? আলী (রা.) বললেন, ঠিক এ প্রশ্নটিই এক ব্যক্তি রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লামকে করেছিল। আমি সেখানে বসে ছিলাম। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াল্লাম প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, তুমি যদি রমজানের পর কোনো মাসকে গুরুত্ব দিয়ে রোজা রাখতে চাও, তাহলে মহররমকে গুরুত্ব দাও। কেননা, মহররম হলো আল্ল­াহর মাস। তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ।

লেখক :  মুফাসসিরে কোরআন বেতার ও টিভির ইসলামবিষয়ক উপস্থাপক; খতিব, মনিপুর বায়তুর রওশন জামে মসজিদ, মিরপুর, ঢাকা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow