Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৫০
রহমতপ্রাপ্তির মাস মহররম
মুহম্মাদ ওমর ফারুক
রহমতপ্রাপ্তির মাস মহররম
bd-pratidin

মহররমকে বলা হয় আল্লাহর রহমতপ্রাপ্তির মাস। এ মাসের ১০ তারিখ মহান আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেন। দুনিয়ার প্রথম মানব-মানবী হজরত আদম ও হাওয়া (আ.)-এর তওবাও কবুল করেন ১০ মহররম আশুরার দিনে। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে তাঁরা নিষিদ্ধ গন্দম ফল খেয়ে আল্লাহর দেওয়া কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হন। তাঁদের জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হয়। আল্লাহর নির্দেশ ভঙ্গের অপরাধের ক্ষমা পেতে দিনের পর দিন আহাজারি করেন হজরত আদম ও হাওয়া (আ.)। ১০ মহররম আল্লাহ তাঁদের ক্ষমা করেন। শুধু ক্ষমা নয়, নবীরও মর্যাদা পান হজরত আদম (আ.)।

ইসলামে যে চারটি মাসকে বিশেষভাবে সম্মান দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে মহররম অন্যতম। আল কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা ১২টি, যা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী সেদিন থেকেই চালু আছে, যেদিন আল্লাহ আকাশম-লী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এর মধ্য থেকে চারটি সম্মানিত মাস, এটাই প্রতিষ্ঠিত দীন। সুতরাং তোমরা এ মাসসমূহে নিজেদের ওপর কোনো জুলুম করো না।’ সূরা আত-তওবা  : ৩৬।

মুসলমানদের আদি পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সঙ্গেও মহররম তথা আশুরার সম্পর্ক রয়েছে। রাজা নমরুদ আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের জন্য হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে অগ্নিকু-ে নিক্ষেপ করেন। আল্লাহর নবীকে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করতে চেয়েছিল নমরুদ। কিন্তু আল্লাহ ১০ মহররম তাঁর প্রিয় নবী ও বান্দাকে রক্ষা করেন আগুন থেকে। রাজা নমরুদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যায়। হজরত নুহ (আ.)-এর নবুয়তের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে ১০ মহররমের স্মৃতি। এই তারিখে মহাপস্ন্লাবন থেকে মুক্তি পায় হজরত নুহ (আ.)-এর আমলের মানুষ। নুহ (আ.)-এর কিস্তি এই পবিত্র দিনে মাটি স্পর্শ করে। মাটিতে মানুষ আবার আবাদ শুরু করার সুযোগ পায়। হজরত ইউনুস (আ.) এই দিনে মাছের পেট থেকে রক্ষা পান। হজরত সুলাইমান (আ.) মহররমের ১০ তারিখে তাঁর রাজত্ব ফিরে পান। রবের দাবিদার ফেরাউনের দম্ভ চূর্ণ হয় ১০ মহররম। ফেরাউন মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের মিসর ত্যাগের অনুমতি দিলেও তার বাহিনীকে মুসা (আ.)-এর পেছনে লেলিয়ে দেয়। তারা ধাওয়া করে হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের। আল্লাহ তাঁর নবীর দোয়া কবুল করে সেই বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেন। সাগরের মাঝে রাস্তা সৃষ্টি হয় আল্লাহর কুদরতে। সে রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যান হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীরা। ফেরাউন বাহিনী তাদের পিছু নিলে সাগরের পানি তাদের গ্রাস করে। রসুল (সা.)-এর নাতি ইমাম হোসাইন কারবালার প্রান্তরে শহীদ হয়ে মানুষের হৃদয়ে আদর্শবাদিতার যে পতাকা উড্ডীন করেন তা চির-অমস্ন্লান থাকবে। ইয়াজিদকে খলিফা হিসেবে মেনে নেওয়ার বদলে জীবন বিসর্জন দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, অন্যায়ের সঙ্গে আপসের কোনো সুযোগ নেই। কোরআন ও হাদিসে আহলে বায়েতের যে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, তার যথার্থতা প্রমাণিত হয়েছে ইসলামের মর্যাদা রক্ষায় হোসাইন (রা.)-এর ত্যাগে। মহররমকে কেন্দ্র করে অনেকে অবাঞ্ছিত কর্মকা-ের আশ্রয় নেন। এটি মোটেও উচিত নয়। আদি পিতা-মাতা হজরত আদম ও হাওয়া (আ.)-এর তওবা কবুলের মাস মহররমে আল্লাহ আমাদের নফল নামাজ, রোজাসহ তাঁর ইবাদতে মগ্ন থাকার তাওফিক দিন। মহররমে সব ধরনের বিদাত কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকার তাওফিক দান করুন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক

এই পাতার আরো খবর
up-arrow