Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৪০
শহীদের রক্ত আজও লাল
মাওলানা সেলিম হোসাইন আজাদী
শহীদের রক্ত আজও লাল

এখন কারবালার মাস চলছে। এ মাসের ১০ তারিখে কারবালার ময়দানে যে নৃশংসতা ঘটেছে, কিয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে এটি নৃশংস হত্যাকা- হয়েই থাকবে। কেউ হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন হিটলার ও হালাকু খানের দ্বারা সংঘটিত হত্যাকান্ড কি তাহলে কারবালার চেয়ে কম নির্মম ছিল? সম্প্রতি অং সান সু চিদের দ্বারা রোহিঙ্গা হত্যাকা- কি কম নির্মম? তারা তো লাখ লাখ মানুষকে মেরেছে। ইতিহাস আজও তাদের খলনায়ক মনে করেই স্মরণ করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।

জবাবে আমি বলব, হ্যাঁ! হিটলার, হালাকু খানসহ অন্যদের চেয়েও নির্মম হত্যাকা-ের খলনায়ক ছিলেন কুখ্যাত ইয়াজিদ। হিটলার-হালাকু খান, সু চি, বুশ লাখ লাখ ইহুদি ও মুসলিমকে মেরেছেন। কিন্তু তারা কি নিজের ধর্মের লোককে মেরেছেন? ক্ষমতার জন্য কি তারা নিজের নবীর বংশধরকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছেন? হিটলার-হালাকু খানদের মতো ইতিহাসের জঘন্য খুনিরা যা করেননি, কুখ্যাত ইয়াজিদ তাই-ই করেছেন। ক্ষমতার জন্য নিজের ধর্মের নবীবংশকে শেষ করে দেওয়ার সব আয়োজন তিনি করেছিলেন কারবালার ময়দানে। কিন্তু আল্লাহ ইয়াজিদকে বুঝিয়ে দিলেন, যে বন্ধুর জন্য আমি দুনিয়া বানিয়েছি, সেই বন্ধুর পরিবারকে দুনিয়া থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া কখনই সম্ভব নয়। তা ছাড়া অনেক আগেই আল কোরআনে আল্লাহ ইয়াজিদদের মতো পাপিষ্ঠদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, ‘হে নবী! যারা আপনার সঙ্গে শত্র“তা করবে, আহলে বায়েতের বিরোধিতা করবে, আসলে ওরাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।’ আল কোরআনের এ বাণী আজ জীবন্ত হয়ে উঠেছে বিশ্ববাসীর সামনে। মহররম এলেই বিশ্ব মুসলিম হায় হোসাইন! হায় হোসাইন! মাতমে কাঁপিয়ে তোলে পৃথিবীর আকাশ-বাতাস। যদিও একশ্রেণির মানুষ ফতোয়ার প্যাঁচে ফেলে হৃদয়ের কান্না থামিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু কান্না কি কখনো দমিয়ে রাখা যায়? নবীবংশের শত্র“রাই আসলে নির্বংশ- এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো, যার নাম মুছে দিতে ইয়াজিদ নবী পরিবারকে রক্তে ভাসিয়েছে, আজ বিশ্ব তাঁরই জয়গান গাইছে। ইতিহাস কখনই পরাজিত শক্তির পক্ষে বলে না। এ হিসেবে হোসাইন (রা.)-এর জয়গান গাওয়ার মানুষ না থাকারই কথা ছিল। কিন্তু আল কোরআন তো অনেক ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, নবীবংশ কখনই বন্ধুশূন্য হবে না। তাই আজও হোসাইন (রা.)-এর জন্য চোখের অশ্র“ বুকের রক্ত ঢেলে দেওয়ার মানুষের অভাব নেই দুনিয়ায়। বড় আশ্চর্যের কথা হলো, ইয়াজিদের দোসর যারা, যারা হোসাইনের জন্য কাঁদে না, এজিদের জন্য হাসে; তারাও কিন্তু ইয়াজিদের জয়ে উল্লাস করে না। একটি জয়ের পরাজয় তো তখনই হয়, যখন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেই জয়কে উদ্্যাপন করতেও লজ্জা পায়। এখানেই ইয়াজিদের পরাজয়। এখানেই হোসাইন (রা.)-এর বিজয়। এটাই আল কোরআনে বলা ‘ইন্না শানিয়াকা হুয়াল আবতার’ আয়াতের মোজেজা। আয়াতের বাস্তব সত্য যা বিশ্ববাসী আজ প্রত্যক্ষ করছে।

হে উম্মত! হোসাইনপ্রেমিকদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে তুমিও বল। বুঝিয়ে দাও, শেষ করে দিতে চাইলেই শেষ করা যায় না। বুকের ভিতর লেখা নাম কখনো মুছে দেওয়া যায় না। হে আমাদের ইমাম! হে জান্নাতের সর্দার! আমরা আপনার প্রেমিক হয়ে আপনার নেতৃত্বে জান্নাতে যেতে চাই। তাই আজও মহররম এলেই আপনার স্মরণে আমাদের চোখে অশ্র“ ঝরে। যেমনটি আমাদের জাতীয় কবি বলেছেন ছন্দের সুর তুলে-

কত মহররম এলো, গেলো চ’লে বহু কাল-

ভুলি নি গো আজো সেই শহীদের লহু লাল!

মুসলিম তোরা আজ ‘জয়নাল আবেদীন’,

‘ওয়া হোসেনা-ওয়া হোসেনা’ কেঁদে তাই যাবে দিন!

লেখক: বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব। চেয়ারম্যান : বাংলাদেশ মুফাসসির সোসাইটি

www.selimazadi.com

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

এই পাতার আরো খবর
up-arrow