Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:১০

বিশ্ব ইজতেমা

তাবলিগ জামাতের মিলনমেলা

বিশ্ব ইজতেমা

টঙ্গীর কহর দরিয়া খ্যাত তুরাগ তীরে আজ শুরু হচ্ছে ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা। একাদশ সংসদ নির্বাচনের কারণে চলতি বছর বিশ্ব ইজতেমা হচ্ছে এক মাসেরও বেশি সময় পরে, জানুয়ারির প্রথমার্ধের বদলে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয়ার্ধে। তাবলিগ জামাতের নেতৃত্বে বিভক্তি সৃষ্টি হওয়ার কারণেও ইজতেমা বিলম্বিত হয়েছে। তবে আশার কথা, দুই পক্ষই ঐক্যবদ্ধভাবে ইজতেমা অনুষ্ঠানে এগিয়ে এসেছে। ইতিমধ্যে লাখ লাখ মুসল্লির উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে ইজতেমা প্রাঙ্গণ। টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মুসলিম উম্মাহর দাওয়াতি কার্যক্রমের শীর্ষ মিলনমেলা হিসেবে ইতিমধ্যে পরিচিতি লাভ করেছে। গত কয়েক বছর ইজতেমা দুই ভাগে বিভক্ত করে আয়োজন করা হলেও এ বছর হবে একসঙ্গে। ইজতেমা চলবে তিন দিনের বদলে চার দিন। অর্থাৎ সোমবার তা শেষ হবে। বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে শিল্পনগরী টঙ্গী সেজেছে নতুন সাজে। তুরাগ পাড়ে ইজতেমা উপলক্ষে ১৬০ একর এলাকাজুড়ে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের যাতায়াত সহজতর করতে সেনাবাহিনীর  ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদের ওপর বেশ কয়েকটি ভাসমান পন্টুন সেতু নির্মাণ করেছেন। মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে মুরব্বিদের বয়ান শোনার জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক মাইক স্থাপন করা হয়েছে। ইজতেমার নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিñিদ্র ব্যবস্থা। পুলিশ, র‌্যাব ও সাদা পোশাকধারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার হাজার হাজার সদস্য নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন। এজন্য সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমা মুসলিম জাহানে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। এ দেশের মানুষ যে সত্যিকার অর্থেই ধর্মভীরু বিশ্ব ইজতেমার মাধ্যমে তা প্রকাশ পেয়েছে। কাবাকেন্দ্রিক মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি সুসংহতকরণেও বিশ্ব ইজতেমার অবদান অনস্বীকার্য। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, তাবলিগ জামাতের মধ্যে যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে, তার অপপ্রভাবে বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল। দুই পক্ষ বিরোধকে পাশ কাটিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করায় সে আশঙ্কার অবসান ঘটেছে। আমরা আশা করব, তাবলিগ জামাতের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বিশ্ব ইজতেমাকালে দুই পক্ষই পরস্পরবিরোধী বা সাংঘর্ষিক বক্তব্য থেকে বিরত থাকবে। তাবলিগ জামাতের মর্যাদার স্বার্র্থে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের মতবিরোধের ইতি ঘটানোর পথ খোলা রাখা হবেÑ এমনটিও প্রত্যাশিত। বিশ্ব ইজতেমায় যেসব মুসল্লি অংশ নিয়েছেন, আমরা তাদের প্রতি মোবারকবাদ জানাচ্ছি। আল্লাহ তাদের সুস্থ রাখুনÑ এমনটিও কাম্য। সফল হোক বিশ্ব ইজতেমা। দৃঢ়তর হোক বিশ্বাসী মানুষের ঐক্য।


আপনার মন্তব্য