Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২২

বায়তুল মোকাররমের খুতবা

পারিবারিক বন্ধনে ইসলামের শিক্ষা

মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমবায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ

পারিবারিক বন্ধনে ইসলামের শিক্ষা

পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ়করণে ইসলামের শিক্ষা হলো কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপন করা। স্বামী স্ত্রীর হকের প্রতি লক্ষ্য রাখবে আর স্ত্রী স্বামীর হকের প্রতি লক্ষ্য রাখবেÑ এটাই ইসলামের শিক্ষা আর স্বামী-স্ত্রী উভয়ে নিজ নিজ হক আদায়ের জন্য নিম্নোক্ত বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। আমি আমার স্ত্রীর কাছে উত্তম। এটা একটা চ্যালেঞ্জের মতো যে, আমি আমার স্ত্রীর কাছে ভালো অর্থাৎ আমার কোনো স্ত্রী আমার কোনো দোষ বলতে পারবে না।’

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সদ্ভাব রক্ষা করে চলবে।’ সূরা নিসা, আয়াত ১৯। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শ্রেষ্ঠ নবী, সবচেয়ে মর্যাদাবান নবী, তার পরও স্ত্রীদের সঙ্গে তিনি কেমন আচার-আচরণ করেছেন একটা ছোট্ট ঘটনা থেকে আমরা তা জানতে পারি। হজরত আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে তিনি দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন। প্রথমবার হজরত আয়েশা (রা.) আগে বেড়ে গেছেন, পরেরবার রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের শেষের দিকে যখন আয়েশা (রা.)-এর স্বাস্থ্য কিছুটা মোটা হয়ে গিয়েছিল, তখন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিতে গেছেন আর বলেছেন, এটা হলো আগেরবারের বদলা। এভাবে রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের সঙ্গে মনোরঞ্জন করেছেন। স্ত্রীদের ছোটখাটো ভুলত্রুটি না ধরাটাই ইসলামের শিক্ষা। মনে রাখতে হবে, আমার স্ত্রীর যেমন কিছু দোষ আছে আমারও কিছু না কিছু দোষত্রুটি আছে। এটাই স্বাভাবিক। আমার যদি কোনো গুণ থাকে আমার স্ত্রীর মধ্যেও কোনো না কোনো গুণ আছে। অতএব তার কোনো দোষত্রুটি নজরে এলে তার গুণটাও নজরে আনতে হবে। হাদিসে তা-ই বলা হয়েছে, যদি তার কোনো বিষয় তোমার অপছন্দ লাগে, তাহলে তার এমনও কিছু গুণ আছে যা তোমার পছন্দ হবে। অর্থাৎ হাদিসে বলা হয়েছে, যদি স্ত্রীর কোনো দোষের কথা চিন্তায় আসে, তাহলে কী কী গুণ আছে, সেগুলো চিন্তায় আনতে হবে এবং সেগুলো চিন্তা করে তার প্রতি মুগ্ধ থাকার চেষ্টা করতে হবে। স্ত্রীর কোনো দোষত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে কিন্তু বাড়াবাড়ি করা যাবে না। বাড়াবাড়ি করতে গেলে সংসারে অশান্তি নেমে আসবে এবং সেই অশান্তি বাড়তে বাড়তে একপর্যায়ে ছাড়াছাড়ি পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। স্ত্রী যদি স্বামীর অবাধ্য হয় তাহলে তাকে সংশোধনের জন্য ইসলাম খুব সুন্দর পন্থা বলে দিয়েছে। ‘কোনো নারীর অবাধ্যতার আশঙ্কা যদি হয় তাহলে প্রথমে তাকে উপদেশ দাও, এতে সংশোধন না হলে তার বিছানা ত্যাগ কর, তাতেও সংশোধন না হলে মিসওয়াকের মতো হালকা কোনো কিছু দিয়ে মৃদু প্রহার কর।’ সূরা নিসা, আয়াত ৩৪। ‘স্মরণ রাখবে, এমন মারধর হতে পারবে না, যাতে শরীরে দাগ পড়ে যায়, চেহারায় ছাপ পড়ে যায়।’ তিরমিজি। এটা হলো আত্মমর্যাদায় একটু আঘাত দেওয়ার মতো, মৃদু ভর্ৎসনার মতো সামান্য একটু প্রহারের অনুমতি। তার পরও রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ কী ছিল, তাঁর আদর্শ কী নীতিতে সংসার চালাতে হয়। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে দিনের পর দিন চুলায় আগুন জ্বলত না। অভুক্ত অবস্থায় বহু বেলা কেটে যেত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, ‘আমি চাই অভাব-অনটনের মধ্যে থাকব।’ এভাবে অভাব-অনটনের মধ্যে থাকাই তাঁর আদর্শ। স্ত্রী-সন্তানদের মধ্যে দাবি-দাওয়ার ভাব দেখলে তিনি তাদের আল্লাহর এই সম্বোধন করে বলতেন, ‘হে নবীদের স্ত্রীগণ! তোমরা যদি পার্থিব জীবনে বিলাসিতা কর তাহলে আসো। আমি তোমাদের ভোগের ব্যবস্থা করে দিই এবং ভালোভাবে তোমাদের বিদায় করে দিই। অর্থাৎ যা চাও তাই দেব। তবে আমার স্ত্রী হিসেবে আর থাকবে না। কারণ আমার আদর্শ এটা নয় যে, আমার পরিবারের মধ্যে সম্পদের মোহ এসে ঢুকবে। আর যদি আল্লাহ ও তাঁর রসুলকে চাও, পরকাল পেতে চাও তাহলে জেনে রাখো, তোমাদের মধ্যে যারা নেক্কার, আল্লাহতায়ালা তাদের জন্য মহাপুরস্কার নির্ধারণ করে রেখেছেন।’ সুতরাং উপরোক্ত বিষয়গুলো চিন্তা করে স্বামী-স্ত্রী উভয়ে যখন জীবনযাপন করবে, তখন পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় হবে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।


আপনার মন্তব্য