Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২৫

অসামান্য ইবাদত

মুহম্মাদ আবদুর রশিদ

অসামান্য ইবাদত

জুমার নামাজ হলো এমন এক নামাজ যার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি একটি অসামান্য ইবাদত। হজরত সাইদ ইবনে মুসায়্যাব (রহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক আনসারি সাহাবির মৃত্যু আসন্ন হলে তিনি বললেন, আমি তোমাদের কাছে কেবল সওয়াব লাভের আশায় একটি হাদিস বর্ণনা করব। আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি ‘তোমাদের কেউ যখন উত্তমরূপে অজু করে সালাতের উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন সে তার ডান পা ওঠাতেই মহান আল্লাহ তার জন্য একটি সওয়াব লিখে দেন, এরপর বাম পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গেই মহাসম্মানিত আল্লাহ তার একটি গুনাহ মাফ করে দেন। এখন তোমাদের ইচ্ছা হলে মসজিদের কাছে থাকবে অথবা দূরে। অতঃপর সে যখন মসজিদে গিয়ে জামাতে সালাত আদায় করে তখন তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। যদি জামাত শুরু হয়ে যাওয়ার পর মসজিদে উপস্থিত হয় এবং অবশিষ্ট সালাতে শামিল হয়ে ছুটে যাওয়া অংশ পূরণ করে তাহলে তাকেও অনুরূপ জামাতের পূর্ণ সালাত আদায়কারীর সমান সওয়াব দেওয়া হয়। আর যদি সে মসজিদে এসে জামাত সমাপ্ত দেখে একাকী সালাত আদায় করে নেয়, তবু তাকে ওইরূপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ আবু দাউদ। হজরত আবু সুমামাহ আল হান্নাত বলেন, একদা মসজিদে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে কাব ইবনে উসরা (রা.)-এর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আমাকে আমার দুই হাতে আঙ্গুলগুলো পরস্পরের মধ্যে ঢুকিয়ে মটকাতে দেখতে পেয়ে আমাকে এরূপ করতে নিষেধ করলেন। তিনি আরও বললেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ উত্তমরূপে অজু করে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হলে সে যেন তার দুই হাতের আঙ্গুল না মটকায়। কেননা সে তখন সালাতের মধ্যেই থাকে। অর্থাৎ অজু করা অবস্থায় তাকে সালাত আদায়কারী হিসেবেই গণ্য করা হয়। হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘জুমার দিন যে ব্যক্তি গোসল করে এবং যথাসাধ্য উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, নিজের তেল থেকে ব্যবহার করে, কিংবা নিজের ঘর থেকে খুশবু ব্যবহার করে, এরপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয় এবং দুজনের মাঝে ফাঁক না করে তারপর নির্ধারিত নামাজ আদায় করে এবং ইমামের খুতবা পাঠের সময় চুপ থাকে, তবে তার সেই জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের যাবতীয় গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।’ বুখারি। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যখন জুমার দিন আসে এবং জামাতে নামাজ শুরু হয়, তখন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করে এবং পূর্বাগমনের হিসাবে তাদের নামের তালিকা করেন। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি হ্রষ্টপুষ্ট উট কোরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি গাভী কোরবানি করে। তারপর যে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি মেষ বা বকরি কোরবানি করে। তারপর যে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি মুরগি কোরবানি করে। তারপর যে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো যে একটি ডিম আল্লাহর রাস্তায় দান করে। তারপর ইমাম যখন বের হয় তখন ফেরেশতারা তাদের দফতর বন্ধ করে দেয় এবং মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শুনতে থাকে।’ বুখারি, আবু দাউদ। হজরত মুহাম্মাদ (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও এক জুমা থেকে আরেক জুমা তাদের মধ্যবর্তী সময়ে কাফফারা-স্বরূপ।’ মুসলিম।

হজরত আউস ইবনে আউস আসসাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করবে ও করাবে, অতঃপর সকাল সকাল প্রস্তুত হয়ে কোনো কিছুতে সওয়ার হওয়া ছাড়া হেঁটে মসজিদে যাবে এবং ইমামের খুব কাছে বসে খুতবা শুনবে এবং কোনোরূপ অনর্থক কাজ করবে না, তার প্রতি কদমে এক বছরের নফল রোজা ও নামাজ আদায়ের সওয়াব দান করা হবে।’ আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, মিশকাত। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘কোনো  মুসলমান জুমার দিনে অথবা রাতে ইন্তেকাল করলে আল্লাহ তাকে কবরের ফিতনা, কবরের সওয়াল-জওয়াব ও আজাব থেকে রক্ষা করবেন।’ মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি, মিশকাত।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।


আপনার মন্তব্য