Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ জুন, ২০১৬ ২৩:৪২
বিদেশে পড়াশোনা
ইউরোপে টিউশন ফি ছাড়া উচ্চশিক্ষার সুযোগ
শরীফ খান
ইউরোপে টিউশন ফি ছাড়া উচ্চশিক্ষার সুযোগ

বিশ্বব্যাপী শিক্ষা হচ্ছে একটি মৌলিক অধিকার। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে লাখ লাখ মানুষ শিক্ষা বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে তারা জ্ঞানার্জন, দক্ষতার উন্নয়ন ও স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার টিউশন ফি প্রদান করতে সক্ষম না। অপরদিকে আবার অনেক দেশে বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের চেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ আর্থসামাজিক কারণে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশসহ বিশ্বের উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের মেধাবী অথচ মোটামুটি সচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবরও আছে! বিশ্বে অনেক দেশ আছে যেখানে তারা বিনা টিউশন ফি বা স্বল্প খরচে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। বিশেষ করে ২৮টি দেশভুক্ত ইউরোপের অনেক দেশে টিউশন ফি ছাড়া বা অল্প খরচে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। আর এ বিষয়টি হয়তো আমাদের শিক্ষার্থীদের অনেকেই জানে না। ইউরোপের ফিনল্যান্ড, নরওয়ে এমনকি ফ্রান্সসহ যেসব দেশে বিনা টিউশন ফিতে বা নামমাত্র অর্থ খরচে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা যায় সেসব দেশ নিয়েই আজ আলোচনা করা হলো। আর এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা চাইলে কনসালটেন্সি ফার্মগুলোর সহায়তা নিতে পারে, কারণ বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ভর্তির আবেদন থেকে শুরু করে ভিসা আবেদনের অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের যথাযথ জ্ঞান থাকে না। ফলশ্রুতিতে তারা ভিসা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এক্ষেত্রে কনসালটেন্সিগুলো মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে থাকে। ঢাকার গুলশান ২ নম্বরস্থ ‘বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক’ একটি বিশ্বস্ত নাম। ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে উচ্চশিক্ষার বিষয়ে আরও জানতে ০১৭২০৫৫৭১০৪/০৩। ভিজিট bsbbd.com. বিএসবি প্রধানত অস্ট্রিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন ও স্পেনে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে থাকে। বিএসবি অন্যান্য দেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও সহায়তা দিয়ে থাকে।

ফিনল্যান্ড : উত্তর ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা এখন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হয়। ইউরোপের বাইরের সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যও তা প্রযোজ্য। তবে টিউশন ফি ছাড়া উচ্চশিক্ষা সুযোগ ২০১৭ সালের শরৎ থেকেই উঠে যাচ্ছে। তখন দেশটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য টিউশন ফি লাগবে। তবে ফিনিশ বা সুইডিশ ভাষায় যারা অনার্স বা মাস্টার্স এবং পিএইচডি [ইংরেজি ভাষা] করবে তাদের জন্য তখনো টিউশন ফি লাগবে না। মূলত বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্থানীয় ভাষা শেখার জন্য উৎসাহিত করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফিনল্যান্ডে বৃত্তির সুযোগ এখন প্রধানত ডক্টরেট ও গবেষণা স্তরে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্যই প্রযোজ্য। স্টুডেন্ট রেসিডেন্স পারমিট নিয়ে সপ্তাহে ২৫ ঘণ্টার মতো খণ্ডকালীন কাজ করতে পারে বিদেশি শিক্ষার্থীরা।

 নরওয়ে : ফিনল্যান্ডের মতো নরওয়েতেও ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি স্তরে উচ্চশিক্ষা একদম ফ্রি। তবে ব্যাচেলর পর্যায়ে বেশিরভাগ প্রোগ্রাম স্থানীয় অর্থাৎ নরওয়েজিয়ান ভাষায় করানো হয়। এজন্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্থানীয় ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দেখাতে হবে। তবে মাস্টার্স ও পিএইচডি স্তরের পড়াশোনা সাধারণত ইংরেজিতে হয়। যেকোনো স্তরেই শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি হলে টিউশন ফি ছাড়া পড়ার সুযোগ নেই। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে পড়াশোনার জন্য অবশ্যই টিউশন ফি লাগবে তবে তা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। স্টুডেন্ট রেসিডেন্ট পারমিট নিয়ে নরওয়েতেও খণ্ডকালীন কাজ করতে পারে বিদেশি শিক্ষার্থীরা।

জার্মানি : জার্মানিতে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশ হচ্ছে বিদেশি শিক্ষার্থী। এ সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কারণ দেশটিতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য কোনো টিউশন ফি দিতে হয় না যা স্থানীয়দের পাশাপাশি বিদেশিদের জন্যও প্রযোজ্য। তবে শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি বাবদ ১০০-২৫০ ইউরো দিতে হয়। তবে জার্মানিতে মাস্টার্স পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য টিউশন ফি লাগে। জার্মানিতেও বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে পারে।

অস্ট্রিয়া : ইউরোপের আরেকটি দেশ অস্ট্রিয়াতেও শিক্ষার্থীরা বিনা টিউশন ফিতে বা স্বল্প খরচে উচ্চশিক্ষা নিতে পারে। মূলত অনুন্নত দেশের শিক্ষার্থীরাই দেশটির সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনা টিউশন ফিতে পড়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ার জন্য প্রতি সেমিস্টারে প্রায় চারশ থেকে সাড়ে সাতশ ইউরোর মতো খরচ পড়বে। সেইসঙ্গে ইনস্যুরেন্স ও স্টুডেন্ট ইউনিয়ন মেম্বারশিপ ফি বাবদ এককালীন আরও ১৮ ইউরো লাগবে।

ফ্রান্স : একথা শুনলে অনেকেই বিস্মিত হবে যে, এমনটি ফ্রান্সেও বিনা টিউশন ফিতে বা অল্প খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। তবে জার্মানির মতো এই দেশটিতেও ব্যাচেলর পর্যায়ে বেশিরভাগ প্রোগ্রাম ফরাসি ভাষায় পাঠদান দেওয়া হয়। তাই যারা ফরাসি ভাষা জানেন কেবল তারাই টিউশন ফি ছাড়া দেশটিতে উচ্চশিক্ষা নিতে পারে। তবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও টেকনিক্যালি কিছু খরচ রয়েছে যা পড়বে বছরে ২০০ ইউরোর চেয়ে কম। সুতরাং ফ্রান্সে পড়াশোনা করতে চাইলে ফরাসি ভাষার কোর্স করে নিতে হবে। চাইলে সেখানে গিয়েও ফি দিয়ে ভাষা কোর্স করে পড়াশোনা শুরু করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, ব্যাচেলর ও মাস্টার্স পর্যায়ে ইংরজিতেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে টিউশন ফি লাগবে।

ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র : ভর্তি হতে কী কী কাগজপত্র লাগবে দেশ ও ইউনিভার্সিটিভেদে তাতে পার্থক্য রয়েছে। তবে সচরাচর যেসব কাগজপত্র লাগে সেগুলো হলো সব শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট ও সার্টিফিকেট, বৈধ ডিজিটাল পাসপোর্ট, ভাষাগত দক্ষতার সনদ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবেদন ফি।

ভিসা প্রক্রিয়ার সময় দরকারি কাগজ : এক্ষেত্রেও দেশভেদে রকমফের রয়েছে। তবে ভিসা প্রক্রিয়ায় সাধারণত যেসব কাগজ লাগে সেগুলো হলো ইউনিভার্সিটি এডমিশন লেটার, সব শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজ, পাসপোর্ট, চাহিদাকৃত ভাষাগত সার্টিফিকেট, স্পন্সর সম্পর্কিত কাগজপত্র যেমন ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও আয়ের উৎস সম্পর্কিত কাগজ এবং ভিসা ফি। আর ইউরোপের স্টুডেন্ট ভিসা প্রাপ্তির ব্যাপারটি সম্পূর্ণই নির্ভর করে দূতাবাসগুলোর চাহিদামাফিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিক্ষার্থীরা যথাযথভাবে জমা দেয় কিনা তার ওপর। শিক্ষার্থী যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিয়েছে তা জেনুইন হলে এবং চাহিদামাফিক সব কাগজপত্র জমা দেওয়া গেলে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া সহজ।

শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলেও ইউরোপে টিউশন ফি ছাড়া উচ্চশিক্ষা নিতে চাইলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা জানতে হবে। সেইসঙ্গে টিউশন ফি না লাগলেও আনুষঙ্গিক যেমন আবাসন, খাবার, ইনস্যুরেন্স, যাতায়াতসহ অন্যান্য খরচ শিক্ষার্থীদেরই বহন করতে হবে। এজন্য বার্ষিক বা মাসিক একটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জোগানোর সামর্থ্য থাকতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করে আয়ের সুযোগ থাকলেও শুধু এর ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ভাবনা থেকে বিরত থাকতে হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow