Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১৮ জুন, ২০১৬ ২২:৫৫
জেএসসি পরীক্ষার পড়াশোনা
শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
জেএসসি পরীক্ষার পড়াশোনা

তৃতীয় অধ্যায়

১। এইচআইভি/এইডস বলতে কী বোঝায়? এইডসের লক্ষণসমূহ আলোচনা কর।

ভূমিকা : মানুষের জীবন ধ্বংসের জন্য যুগে যুগে বিভিন্ন প্রাণঘাতী রোগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে এইডস এদের মধ্যে একটি। সারা বিশ্বে এই ঘাতক ব্যাধি এইডস আশঙ্কাজনকভাবে বিস্তার লাভ করছে। ২০১০ সালের সরকারি তথ্য হিসাবে বাংলাদেশে এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৭৫০০ জন। আর বর্তমান বিশ্বে প্রতিদিন এই রোগে প্রায় ৬৮০০ জন ব্যক্তি আক্রান্ত হচ্ছে।    

এইচআইভি/ এইডস : ১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্ব প্রথম এইডস শনাক্ত হয়। এইচআইভি একটি ভাইরাসের নাম। এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগের নাম হলো এইডস। HIV এর পূর্ণ রূপ হলো Human Immune deficiency Virus. এই ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দেয়। এই রোগের এখনো কোনো কার্যকর ওষুধ বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। অকাল মৃত্যুই এইডস রোগের শেষ পরিণতি। তাই একে ঘাতক ব্যাধি বা মরণব্যাধি বলা হয়। 

রোগ বিস্তার : এইচআইভি ভাইরাস মানবদেহের কয়েকটি তরল পদার্থে যেমন: রক্ত, রস, বীর্য ও মায়ের বুকের দুধে বেশি থাকে। ফলে মানবদেহের এই তরল পদার্থগুলোর আদান-প্রদানের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে। 

এইডসের লক্ষণসমূহ : এইডসের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ নেই। তবে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি অন্য যে রোগে আক্রান্ত হয়, সে লক্ষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—  

১।   শরীরের ওজন দ্রুত হ্রাস পাওয়া।                                   

২। অজানা কারণে দুই মাসের অধিক সময় জ্বর থাকা।                                           

৩।   দীর্ঘদিন ধরে শুকনো কাশি থাকা।                                    

৪।   দুইমাসের অধিক সময় ধরে পাতলা পায়খানা।                               

৫।   শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ছত্রাকজনিত সংক্রমন দেখা দেওয়া।                          

৬।   লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া।                                                        

৭।   নিদ্রা কম ও দেহ দুর্বল হয়ে যায়।                                          

৮।   স্নায়ু আক্রান্ত হয়ে স্মরণ শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা লোপ পায়।               

     যবানিকা : পরিশেষে আমরা বলতে পারি এইডস একটি মরণব্যাধি। উপরে বর্ণিত কোনো লক্ষণ দেখা গেলেই নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না তিনি এইডস আক্রান্ত। তবে কোনো ব্যক্তির এসব লক্ষণ দেখা দিলে বিলম্ব না করে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করে এই বিষয়ে নিশ্চিত হবে।

২। এইচআইভি/ এইডস থেকে রক্ষা পেতে আমাদের কী কী করা উচিত?                            

ভূমিকা : বাঁচতে হলে জানতে হবে। এইডস একটি মরণব্যাধি। অকাল মৃত্যুই যার শেষ পরিণতি। তবে এটা কোনো ছোঁয়াছে রোগ নয়। আমরা সচেতন হলেই এইচআইভি/ এইডস থেকে রক্ষা পেতে পারি।

এইচআইভি/ এইডস : এইডস এক ধরনের ভাইরাসজনিত রোগ। এই রোগের ভাইরাসটির নাম এইচআইভি। এই ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দেয়। এই রোগের এখনো কোনো কার্যকর ওষুধ বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। অকাল মৃত্যুই এইডস রোগের শেষ পরিণতি।                                                         

এইচআইভি/ এইডস থেকে রক্ষা পেতে করণীয় বা উপায় :                            

১।   অপরীক্ষিত রক্ত গ্রহণ করা যাবে না।                                          

২।   অন্যের ব্যবহৃত সিরিঞ্জ ব্যবহার করা যাবে না।                                             

৩।   অন্যের ব্যবহৃত ব্লেড বা রেজার ব্যবহার করা যাবে না।                              

৪।   অনিয়ন্ত্রিত, অনিরাপদ ও অনৈতিক যৌনমিলন করা যাবে না।                           

৫।   অপারেশনে পরিশুদ্ধ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে।                               

৬।   শিশুকে এইচআইভি জীবাণুবাহী বা এইডসে আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে না।                                                                  

৭।   এইচআইভি বা এইডস বিষয়ে মিডিয়াতে প্রচারের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি এইডস একটি ঘাতকব্যাধি। এইচআইভি/এইডস কী, কীভাবে সংক্রমিত হয়, লক্ষণ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কী প্রভৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা ও সবাইকে সচেতন করা প্রয়োজন। আমরা সচেতন হলেই এবং এর কারণগুলো থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারলেই, এইচআইভি/ এইডস থেকে রক্ষা পেতে পারি।                                    

৩। এইচআইভি / এইডসকে ঘাতক ব্যাধি বলা হয় কেন? আলোচনা কর।

ভূমিকা : বাঁচতে হলে জানতে হবে। এইডস একটি মরণব্যাধি। অকাল মৃত্যুই যার শেষ পরিণতি। তবে এটা কোনো ছোঁয়াছে রোগ নয়। আমরা সচেতন হলেই এইচআইভি/ এইডস থেকে রক্ষা পেতে পারি।

রোগ বিস্তার : এইচআইভি ভাইরাস মানবদেহের কয়েকটি তরল পদার্থে যেমন: রক্ত, রস, বীর্য ও মায়ের বুকের দুধে বেশি থাকে। ফলে মানবদেহের এই তরল পদার্থগুলোর আদান-প্রদানের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে।                                           

ঘাতক ব্যাধি : ১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সর্ব প্রথম এইডস শনাক্ত হয়। এইচআইভি একটি ভাইরাসের নাম। এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগের নাম হলো এইডস। HIV এর পূর্ণ রূপ হলো Human Immune Deficiency Virus. এই ভাইরাস মানবদেহে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দেয়। এই রোগের এখনো কোনো কার্যকর ওষুধ বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। অকাল মৃত্যুই এইডস রোগের শেষ পরিণতি। তাই একে ঘাতক ব্যাধি বা মরণব্যাধি বলা হয়।                             

উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে এই রোগের এখনো কোনো কার্যকর ওষুধ বা প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি তাই এই রোগ থেকে বাঁচার জন্য আমাদেরকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪। এইচআইভি /এইডস-এর প্রভাব আলোচনা কর।

ভূমিকা : সারা বিশ্বে এই ঘাতক ব্যাধি এইডস আশঙ্কাজনকভাবে বিস্তার লাভ করছে। ২০১০ সালের সরকারি তথ্য হিসাবে বাংলাদেশে এইচআইভিতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৭৫০০ জন। আর বর্তমান বিশ্বে প্রতিদিন এই রোগে প্রায় ৬৮০০ জন ব্যক্তি আক্রান্ত হচ্ছে।

এইচআইভি/এইডস-এর প্রভাব : স্বাস্থ্যব্যবস্থায় যেমন এইচআইভি/এইডস এর ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে, তেমনি পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে।

১।   স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর প্রভাব : এইচআইভি ভাইরাস একবার দেহে প্রবেশ করলে তা সারা জীবন শরীরের মধ্যে থাকে এবং শরীরিক সম্পর্ক বা একই সিরিঞ্জের মাধ্যামে অন্যের শরীরেও ছড়ায়। স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য এটা মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এই রোগের প্রতিষেধক না থাকায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। এতে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়ে।                                                     

২। পরিবারের ওপর প্রভাব : এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তাকে স্থানীয় লোকজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই এড়িয়ে চলে। সমাজে তাকে ও তার পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় হতে হয়। এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি কর্মরত থাকলে তাকে কাজ বা চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে পরিবারে আর্থিক অনটন দেখা দেয়। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তি মারা গেলে তার ছেলেমেয়েরা এতিম হয়ে অবহেলা-অনাদরে বড় হয়। শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়, এমনকি অর্থাভাবে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।

৩। অর্থনৈতিক প্রভাব : এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির কর্মক্ষমতা কমে যায়। ফলে সে কাজকর্ম, আয়-রোজগার করতে পারে না। এতে ওই ব্যক্তির উন্নয়নের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। যেসব দেশে এইডসের প্রকোপ বেশি, সেখানে সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থবিরতা নেমে আসে।   




up-arrow