Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:২৩
জেএসসি পরীক্ষা : বিষয়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
প্রিয় পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে তোমাদের পরীক্ষা। এতে প্রত্যাশিত ফলাফল পেতে হলে করণীয় কী এ ব্যাপারে তোমাদের জন্য বিষয়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিচ্ছেন ঢাকার উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরস্থ ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন শিক্ষক।

বাংলা দ্বিতীয়পত্র

কোনো বিষয় যাতে খুব  সংক্ষিপ্ত না হয়

প্রিয় পরীক্ষার্থীরা, শুভেচ্ছা রইল। আশা করি সবারই পরীক্ষার প্রস্তুতি শেষ বা শেষ পর্যায়ে। পরীক্ষা শুরুর কয়েকদিন আগে এবং পরীক্ষার  কেন্দ্রে কী কী করলে তোমরা বাংলা দ্বিতীয়পত্রে ভালো করতে পার তারই কিছু পরামর্শ :

বাংলা ২য় পত্রের দুটি অংশ থাকে : (১) বহুনির্বাচনী এবং (২) রচনামূলক।

১. নৈর্ব্যক্তিক অংশে ভালো করতে হলে অবশ্যই তোমাকে বোর্ড নির্ধারিত ব্যাকরণ বইটি মনোযোগসহকারে বুঝে বুঝে পড়তে হবে। তুলনামূলক কঠিন বিষয়সমূহ বেশি সময় দিয়ে বেশি করে পড়বে। সংজ্ঞা, উদাহরণ, ব্যাকরণগত সূত্র বা নিয়মগুলো তোমাকে মনে রাখতে হবে। বিভিন্ন বিষয়ের প্রকারভেদও গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত বইয়ের বাইরে ১ থেকে ৫টি প্রশ্ন আসতে পারে। সেজন্য বাংলা ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে রাখা ভালো। ব্যাকরণের কোনো বিষয় এখনো বোধগম্য না হলে অবশ্যই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের বা পরিচিত কোনো ভালো শিক্ষকের সাহায্য নিতে পার। পূর্ণ প্রস্তুতির জন্য টেস্ট পেপার থেকে অনুশীলন করে নিজেকে যাচাই করতে পার।

২. রচনামূলক বা বিরচন অংশে যে বিষয়গুলো আছে (অনুচ্ছেদ, পত্র-দরখাস্ত, সারাংশ-সারমর্ম, ভাব-সম্প্রসারণ, প্রতিবেদন ও প্রবন্ধ রচনা) সেগুলো লেখার নিয়ম-কানুন ভালোভাবে জেনে নিবে। সাম্প্রতিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আয়ত্তে রাখবে। সারাংশ/সারমর্মের ক্ষেত্রে মূলভাবটি অবগত হয়ে লিখতে হবে ভুলভাব সঠিক না হলে নম্বর কম বা না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। পত্র/দরখাস্ত বাম পৃষ্ঠা থেকে শুরু করে বামপৃষ্ঠায় শেষ করাই উত্তম। এক্ষেত্রে লেখার কাঠামোগত পদ্ধতি এবং অংশগুলো যথাযথ হতে হবে। অনুচ্ছেদ এক প্যারায় লিখবে। তবে ভাব-সম্প্রসারণ তিনটি প্যারায় লেখা ভালো। ভাব-সম্প্রসারণ ও রচনা লেখার আগে প্রশ্নে উল্লেখিত শিরোনাম লিখতে ভুলবে না। তথ্যবহুল এবং বেশি লেখা যায় এরূপ রচনা নির্বাচন করবে। রচনার ক্ষেত্রে প্যারা করে লিখবে। এখানে মনীষীদের উক্তি। উদ্ধৃতি বা কবিতার লাইন ব্যবহার করা যেতে পারে। বানান ও বাক্যগঠন যাতে সঠিক হয় এটিও মাথায় রাখবে। প্রতিটি বিষয়ে তুমি যতটুকু লেখার সময় পাবে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেবে।

পরীক্ষার হলে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের ক্ষেত্রে যেটি অপেক্ষাকৃত কঠিন মনে হবে সেটির জন্য সময় ব্যয় না করে পরবর্তী প্রশ্নে চলে যাওয়াই ভালো। রচনামূলক অংশে কোনো বিষয় যেন বাদ না যায় সেই দিকে লক্ষ্য রেখো। আর কোনো বিষয় যাতে খুব সংক্ষিপ্ত না হয়।

মো. এনামুল হক

সহকারী অধ্যাপক, বাংলা

 

 

ইংরেজি প্রথমপত্র

ডায়ালগে অবশ্যই চমৎকার উপস্থাপনা বাঞ্ছনীয়

কীভাবে ইংরেজি প্রথমপত্রে ভালো ফলাফল করতে পারো এ ব্যাপারে কিছু পরামর্শ নিচে দেওয়া হলো:

Text Book-‰র Seen Passage গুলো অর্থ ও বানানসহ বুঝে পড়ালেখা করবে। Model Questionsগুলো বারবার পড়বে এবং লেখার Practice করবে।

Seen Passage-এর Open ended or Short-Question-এর সঠিক উত্তরের জন্য প্রশ্নগুলোর অর্থ বুঝে Tense, voice etc-‰i rules অনুযায়ী to the point-এ answer লিখতে হবে। অতিরঞ্জিত বা অতিরিক্ত লেখা যাবে না।

Question 3-এ summary-এর জন্য মূল Test-এর শুধু মূলভাবটুকু Summary-এর অন্তর্ভুক্ত। কোনো উক্তি বা উপমা এমনকি উদাহরণ ংবঃ করা যাবে না।   

Unseen PassagewU ভালো করে কমপক্ষে দুইবার পড়ে অর্থ হৃদয়ঙ্গম করতে হবে এবং Model বইয়ে দেওয়া Passagবগুলো Practice করতে হবে। এক্ষেত্রে দুই ধরনের Questions হয়। একটি হচ্ছে information transfer ও অন্যটি True or false. অবশ্যই অর্থ বুঝে পড়লে পুরো নম্বর পরীক্ষায় পাবে।

Filling up the gaps-এর ক্ষেত্রে নড়ী-এ প্রদত্ত শব্দগুলোর অর্থ বুঝে নিয়ে PassagewU কোন Tense-এ দেওয়া সে অনুযায়ী Grammar-এর নিয়ম মেনে (অর্থাৎ Tense, voice, person, number etc.) শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে। এ জন্য Model Questions এর Filling up the gaps বার বার Practice করা বাঞ্ছনীয়।

Re-arranging-এ পুরো নম্বর পেতে হলে মডেল বইয়ের বিভিন্ন মনীষী, কবি, সাহিত্যিক নাট্যকার, উপন্যাসিক, বিজেতা, মহান শাসক, বিজ্ঞানীদের জীবন চরিত্র বিষয়ক সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়ে পড়া ও লেখার Practice করা প্রয়োজন।

Paragraph-‰ ভালো করার জন্য Grammar, vocaburay-‰র অনুশীলনের বিকল্প নেই।

Letter writing-এর ক্ষেত্রে অবশ্যই খবঃঃবৎ-এর ছয়টি অংশ Heading, Salutation, Body, Subscription, Signature, Superscription ঠিক রেখে লিখতে হবে। এজন্য Modelগুলো বার বার অনুশীলন করবে।

Dialogue-‰ অবশ্যই চমৎকার উপস্থাপনা বাঞ্ছনীয়। এজন্য বার বার Practice-এর বিকল্প নেই এবং free hand writing চর্চা প্রয়োজন। পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর যে question(s) সহজ এবং অল্প লেখায় বেশি নম্বর পাওয়া যায় সেগুলো আগে উত্তর করার চেষ্টা করবে।

মো. হারুনুর রশিদ

প্রভাষক, ইংরেজি

 

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি

গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাগুলোর পূর্ণরূপ লিখবে

তোমরা জান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে ২৫ নম্বরের গঈছ এবং ২৫ নম্বরের লিখিত প্রশ্ন আসে। এসব প্রশ্নের উত্তর কীভাবে সুন্দর করে লিখলে বেশি নম্বর পাওয়া যাবে, তার কৌশল ও মূলমন্ত্রগুলো নিচে দেওয়া হল :

১.   লিখিত প্রশ্নগুলো হয় সাধারণত সংক্ষিপ্ত ও বর্ণনামূলক। উক্ত প্রশ্নগুলো উত্তর দেওয়ার জন্য সর্বপ্রথম প্রশ্ন পড়ে কমন প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও। প্রশ্নে যা জানতে চাইবে তার প্রাসঙ্গিক উত্তরটাই তোমাকে দিতে হবে। কোনো চিত্র (Figure) আঁকার দরকার হলে, পেন্সিল দিয়ে আঁক। গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষাগুলোর পূর্ণরূপ লিখবে। এতে বেশি মার্ক পাবে। কোনো বানান ভুল করা যাবে না। তবে পারিভাষিক শব্দগুলো তুমি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় লিখতে পারবে।  

২.   বহুনির্বচনী প্রশ্নগুলো কমন পাওয়ার জন্য মূল ঞবীঃ বইটির মূল KeywordàGjv Underline করে পড়তে হবে। তারপর Test Paper নিয়ে নমুনা পরীক্ষা দাও ও অন্যান্য প্রশ্নের ধরনগুলো সমাধান কর। আর সমস্যামূলক প্রশ্নগুলো তুমি তোমার শ্রেণি শিক্ষকের কাছ থেকে সমাধান করে নাও।

বহুনির্বাচনী প্রশ্নগুলো সাধারণত যেটি বেশি উপযুক্ত ও সঠিক, সেটিই কেবল উত্তর দিতে হয়। OMR শিট পাওয়ার পর সর্বপ্রথম তুমি রোল নং, রেজিস্ট্রেশন নং, বিষয় কোড, নাম ও স্বাক্ষর ঘরগুলো পূরণ করবে। প্রশ্ন পাওয়ার পর সেট কোড পূরণ করবে। কালো বলপেন ছাড়া অন্য কোনো জেল কলম ব্যবহার করবে না। উত্তরপত্রটি কোনো অবস্থায় ভাঁজ ও ঘষামাজা করবে না।

তোমাদের সাফল্য কামনায়—

মোহাম্মদ আলী আক্তর দূর্জয়

প্রভাষক, আইসিটি 

 

 

ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

ভুল উদ্ধৃতি দেওয়ার থেকে না দেওয়াই ভালো

পরীক্ষা শুরু হতে বাকি যে সময় রয়েছে একে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। প্রয়োজনে রুটিন তৈরি করে সময়টাকে ভাগ করে নাও।

নতুন করে খুব বেশি প্রশ্ন না পড়ে আগের পড়া প্রশ্নগুলো রিভিশন দাও। কঠিন বিষয়গুলো বারবার পড়বে। পড়ার পাশাপাশি প্রতিদিন কমপক্ষে ২ ঘণ্টা লিখতে হবে তাহলে পরীক্ষার খাতায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।

পাঠ্যবইয়ের কোনো বিকল্প নেই। তাই পাঠ্যবইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মার্কিং করতে হবে। যেন পরবর্তীতে সহজে চোখে পড়ে এবং রিভিশনের সময় বাদ না যায়।

কোরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিলে অবশ্যই সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। মনে রাখবে ভুল উদ্ধৃতি দেওয়ার থেকে না দেওয়াই ভালো।

নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের প্রস্তুতির জন্য পাঠ্যবইটি ভালোভাবে পড়তে হবে। ভাসা ভাসা জ্ঞান দিয়ে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা যায় না। কেননা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।   তারিখ ও সংখ্যাগত বিষয়গুলো মনে রাখা কঠিন বিধায় বেশি বেশি লিখতে হবে। যেমন সুরার আয়াত সংখ্যা, সাল ইত্যাদি।

আকিদা ও ইমানের মৌলিক বিষয়ে বিতর্কিত ও সাংঘর্ষিক কোন মন্তব্য উপস্থাপন করবে না। প্রশ্নের ধরন অনুসারে সব বিষয়ে প্রস্তুতি নিবে। এক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব প্রশ্নকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যেতে পারে (সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ)।

সঠিক উত্তরটি লেখার জন্য প্রত্যাশিত দক্ষতার স্তর অনুযায়ী প্রস্তুতি নিবে। (জ্ঞানমূলক, অনুধাবন, প্রয়োগমূলক, উচ্চতর দক্ষতা)।

অপ্রাসঙ্গিক লেখা পরিহার করবে। কেননা পরীক্ষক এতে বিরক্ত হন। তোমাদের জন্য শুভ কামনা রইল।

মো. মাহমুদুল হাসান

প্রভাষক, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা

 

কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা

লিখন পদ্ধতির ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করবে

কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা বিষয়ে পূর্ণমান ৫০। এটি দুটি অংশে বিভক্ত। একটি অংশে থাকে সৃজনশীল প্রশ্ন অপরটিতে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রে সৃজনশীল প্রশ্নের যথাযথ তথ্যবহুল উত্তর দেওয়ার জন্য পাঠ্যবইয়ের তিনটি অধ্যায় সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে হবে। তবে অধ্যায়ভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ পাঠগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো—

১ম অধ্যায়ের দক্ষিণ এশীয় সভ্যতা, আগুন আবিষ্কারের কাহিনী, চাকা আবিষ্কার, লিখন পদ্ধতির ওপর বেশি গুরুত্ব আরোপ করবে। দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে কর্তব্য ও দায়িত্ববোধ, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ পাঠগুলো খুব ভালো করে রপ্ত করতে হবে। তৃতীয় অধ্যায়ের যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লিখে যেতে হবে তার মধ্যে কর্মক্ষেত্রের সাফল্য লাভের বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ব্যক্তিত্ব ও কর্মসংস্থান, পেশা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক সৃজনশীল প্রশ্নগুলো বেশি বেশি চর্চা করবে। সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের এবং বহুনির্বাচনীর ক্ষেত্রে বিগত সালের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মডেল টেস্ট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এবং বোর্ডের প্রশ্নপত্র অনুসরণ করলে আরও বেশি ধারণা নিতে পারবে। পরীক্ষাকে ভয় না করে, আত্মবিশ্বাস রেখে বাকি সময়টুকু যথাযথ কাজে লাগাও, তাহলে পরীক্ষায় অবশ্যই ভালো ফল পাবে।

রুমমানা আখতার

প্রভাষক, বাংলা

এই পাতার আরো খবর
up-arrow