Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩০
অষ্টম শ্রেণির বাংলা প্রথমপত্র
ফারুক আহম্মদ
অষ্টম শ্রেণির বাংলা প্রথমপত্র

শিল্পকলার নানা দিক

           —মুস্তাফা মনোয়ার

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

১। প্রয়োজন আর অপ্রয়োজন মিলেই মানুষের সৌন্দর্যের আশা পূর্ণ হয়- বলতে কী বোঝায়?

উত্তর : প্রয়োজনের সঙ্গে অপ্রয়োজনকে যুক্ত করলেই যে কোনো জিনিস সুন্দর হয়ে ওঠে।

ফলে মানুষের আশাও পূর্ণ হয়।

চিরকাল মানুষ সুন্দরীর পূজারী। কিন্তু মানুষ প্রয়োজনে সুন্দরকে ব্যবহার করে। আর যখন শুধু প্রয়োজনের জন্য সুন্দরকে ব্যবহার করে তখন তাতে আশা পূর্ণ হয় না। যেমন পানি পান করার জন্য যে কোনো পাত্র হলেই প্রয়োজন মিটে যায়। কিন্তু সুন্দর পরিষ্কার কাচের গ্লাসে পানি পান করলে একদিকে তৃষ্ণাও মিটবে অন্যদিকে মনের তৃপ্তিও পাবে। এভাবে প্রয়োজনের সঙ্গে বাড়তি অপ্রয়োজন সংযুক্ত করলে মানুষের সৌন্দর্যের আশা পরিপূর্ণ হয়।

২।   নন্দনতত্ত্ব বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

 উত্তর : সুন্দরকে জানার যে জ্ঞান তাই নন্দনতত্ত্ব।

নন্দনতত্ত্ব মানে সুন্দরকে ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা এবং তাকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করা। সব সুন্দর জিনিস তৈরির মাঝে একটা ইতিহাস আছে। আর তা হলো স্বাধীনতা। যা খুশি তাই করা। মনের স্বাধীনতা পেলেই যে কোনো জিনিস সুন্দর হয়ে ফুটে ওঠে। যা মানুষের মনকে তৃপ্ত করে, আনন্দ দেয় তাই সুন্দর। আর এই সুন্দরকে বিশ্লেষণ করার নামই নন্দনতত্ত্ব।

৩।   সব সুন্দরই সরাসরি প্রয়োজনের বাইরে কেন? 

উত্তর : মানুষ সাধারণত সুন্দর কাজগুলো প্রয়োজনের বাইরে করে থাকে তাই বলা হয় সব সুন্দরই সরাসরি প্রয়োজনের বাইরে।

একজন মানুষ দেহ ও মনের সমন্বয়ে গঠিত। দেহের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস, আর মনের জন্য সুন্দর জিনিস। আর এই সুন্দর জিনিস হয় অপ্রয়োজনীয়। যেমন রাতে ঘুমানোর জন্য প্রয়োজন যে কোনো কাঁথা। কিন্তু অনেকেই মনকে খুশি করার জন্য নকশিকাঁথা গায়ে জড়িয়ে ঘুমায়। নকশিকাঁথার এই মনকাড়া সৌন্দর্য সম্পূর্ণ বাইরের ব্যাপার। তাই বলা হয় সব সুন্দরই সরাসরি প্রয়োজনের বাইরে।  

৪।   শিল্পকলা কেন মনকে মুগ্ধ করে?

উত্তর : শিল্পকলার মধ্য দিয়ে মানুষের সৌন্দর্যের আশা পূর্ণ হয় বলেই মনকে মুগ্ধ করে।   

 শিল্পকলা মানব মনের আনন্দকে প্রকাশ ঘটায়। প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে বর্তমান কালের মানুষ নিজের পাওয়া আনন্দ ও সুন্দরকে অন্য মানুষের মধ্যে সঞ্চার করতে চাই। আর সেটা সম্ভব হয় শিল্পকলার মাধ্যমে। এছাড়া শিল্পকলার মধ্য দিয়ে মানুষের কল্পনার বাস্তবায়ন ঘটে। কল্পনা ও বাস্তবতার সংমিশ্রণে সুন্দরের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এভাবেই শিল্পকলা মনকে মুগ্ধ করে।  

৫। শিল্পকলা সৃষ্টি হয়েছে কেন?

উত্তর : সুন্দরকে সৃষ্টি করা এবং সেই সুন্দর অন্যের মাঝে বিস্তার ঘটানো জন্যই শিল্পকলার সৃষ্টি হয়েছে।

আনন্দ প্রকাশ জীবনী শক্তির প্রবলতার প্রকাশ। মানুষের মনে যখন আনন্দভাব সৃষ্টি হয় তখন তা অন্য মানুষের মাঝে প্রকাশ করাতে চাই শিল্পকলার মাধ্যমে। পৃথিবী সৃষ্টি লগ্ন থেকে এটাই হয়ে আসছে। মানুষের এই প্রবণতা থেকে চিত্র, স্থাপত্য, নৃত্য, সংগীত, কবিতা প্রভৃতি শিল্পকলা সৃষ্টি হয়েছে।

৬। আনন্দ প্রকাশ জীবনী শক্তির প্রবলতারই প্রকাশ কেন?

উত্তর : আনন্দ প্রকাশের মাধ্যমে মানবদেহের ইন্দ্রিয়সমূহের কর্মদক্ষতা বাড়ে বলে আনন্দকে জীবনীশক্তির প্রবলতার প্রকাশ বলা হয়।

আনন্দ মানুষের যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য করে। আনন্দ মানুষকে হতাশার রাজ্য থেকে ফিরিয়ে রাখে। আনন্দের মাঝে থাকলে মানুষের যে কোনো কাজে কষ্ট নয় বরং সহজ হয়ে যায়। মোট কথা আনন্দের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করাই হলো সার্থক জীবন। এজন্য আনন্দকে জীবনীশক্তির প্রবলতার প্রকাশ বলা হয়।

 

৭। শিশুরা কীভাবে নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে শেখে?

উত্তর : ছবি আঁকার মাধ্যমে শিশুরা নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে শেখে।

ছবি আঁকা মানে দেখা ও শেখা। প্রকৃতি, পরিবার, সমাজ এবং পরিবেশ থেকে শিশুরা যা দেখে তা কল্পনার রাজ্যে নিয়ে যায়। ফলে তার মনের মধ্যে একটা সুন্দর ছবি তৈরি হয়। আর এই ছবি যখন সে রং তুলির সাহায্যে কাগজে আঁকে তখনই তার মনের ভাব প্রকাশ পেয়ে যায়। এভাবেই শিশুরা নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে শেখে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow