Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০৭
শারীরিক শিক্ষা
নবম-দশম শ্রেণির পড়াশোনা
সুধীর বরণ মাঝি
নবম-দশম শ্রেণির পড়াশোনা

দ্বিতীয় অধ্যায় : সৃজনশীল প্রশ্ন

২। বিদ্যালয়ে সাহিত্য ক্লাব ও বিজ্ঞান ক্লাবের মধ্যে ব্যাডমিন্টন খেলার প্রতিযোগিতা হয়।

এতে যারা যারা ভালো করেছে তাদের নিয়ে একটি চৌকস ব্যাডমিন্টন দল গঠন করা হয়। এই দল পরবর্তীতে আন্তঃস্কুল ও মাদরাসা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আঞ্চলিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করবে।

ক.        শারীরিক শিক্ষা সম্পর্কে ডি. কে.ম্যাথিউস এর সংজ্ঞাটি লিখ।

খ. অ্যাথলেটিক হার্ট বলতে কী বুঝায়? ব্যাখ্যা কর।

গ. সাহিত্য ক্লাব ও বিজ্ঞান ক্লাবের মধ্যে ব্যাডমিন্টন খেলাটি শারীরিক শিক্ষায় কোন ধরনের কর্মসূচি ব্যাখ্যা কর।

ঘ.         উদ্দীপকে সাহিত্য ও বিজ্ঞান ক্লাবের প্রতিযোগিতা ও আন্তঃস্কুল ও মাদরাসার ব্যাডমিন্টন খেলা প্রতিযোগিতার ইভেন্ট ও কর্মসূচি এক তুমি কি বক্তব্যের সঙ্গে একমত? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর :

ক. শারীরিক শিক্ষা সম্পর্কে ডি. কে.ম্যাথিউস বলেন, ‘শারীরিক কার্যকলাপের দ্বারা অর্জিত শিক্ষাই শারীরিক শিক্ষা। ’

খ. খেলাধুলা ও ব্যায়ামের ফলে হৃৎপিণ্ড বড়, নিরোগ ও শক্তিশালী হয় এরূপ হার্টকে বলা হয় অ্যাথলোটিক হার্ট। প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম ও খেলাধুলা করার মধ্য দিয়ে অ্যাথলোটিক হার্ট গঠন করতে হয়। অ্যাথলেটিক হার্টের ফলে হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, অধিক কার্যকরী হয় এবং শারীরিক সক্ষমতা বজায় থাকে। বিশ্বে অ্যাথলেটিক হার্ট মানুষের হাতেগোনা কয়েকজন। এদের মধ্যে ফুটবল সম্রাট পেলে অন্যতম একজন।

গ. সাহিত্য ক্লাব ও বিজ্ঞান ক্লাবের মধ্যে ব্যাডমিন্টন খেলাটি শারীরিক শিক্ষার আন্তঃক্রীড়াসূচির অন্তর্গত। আন্তঃক্রীড়া সূচির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো ইন্ট্রামুরাল স্পোর্টস। ইহা একটি ল্যাটিন শব্দ। এর অর্থ হলো প্রতিষ্ঠানের চারি দেয়ালের মধ্যে বা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আকারে যে সমস্ত খেলধুলা হয়। যেমন,বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা,এক শ্রেণির সঙ্গে অন্য শ্রেণির, যদি হাউজ থাকে তবে এক হাউজের সঙ্গে অন্য হাউজের বা বিদ্যালয়ের এক ক্লাবের সঙ্গে অন্য ক্লাবের প্রতিযোগিতা আন্তঃক্রীড়াসূচি বা ইন্ট্রামুরাল স্পোর্টস-এর অন্তর্গত। অর্থাৎ নিজেদের মধ্যে যে খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতা হয় তাকে আন্তঃক্রীড়া সূচি বা ইন্ট্রুামুরাল স্পোর্টস বলে। আন্তঃক্রীড়া সূচির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে থেকে সেরা খেলোয়াড় বাছাই করা সম্ভব হয়।

ঘ. উদ্দীপকে সাহিত্য ও বিজ্ঞান ক্লাবের প্রতিযোগিতা, আন্তঃস্কুল ও মাদরাসার ব্যাডমিন্টন খেলা প্রতিযোগিতার ইভেন্ট ও কর্মসূচি এক আমি এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নই। আমার বক্ত্যবের স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলো। উদ্দীপকের সাহিত্য ও বিজ্ঞান ক্লাবের প্রতিযোগিতা হলো আন্তঃক্রীড়া কর্মসূচি। এই ক্রীড়াসূচি বিদ্যালয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের চারি দেয়ালের মধ্যে বা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আকারে যে সমস্ত খেলধুলা হয় তা হলো আন্তঃক্রীড়া কর্মসূচি এবং প্রতিষ্ঠানের চারি দেয়ালের বাইরে বা অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা আকারে যে সমস্ত খেলাধুলা হয় তা হলো আন্তঃক্রীড়া কর্মসূচি। আন্তঃস্কুল ও মাদরাসার ব্যাডমিন্টন খেলা প্রতিযোগিতা হলো আন্তঃক্রীড়া কর্মসূচি। উদ্দীপকে সাহিত্য ও বিজ্ঞান ক্লাবের প্রতিযোগিতা হলো বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ক্রীড়াকর্মসূচি বা আন্তঃক্রীড়া কর্মসূচি আর আন্তঃস্কুল ও মাদরাসার ব্যাডমিন্টন খেলা প্রতিযোগিতা হলো আন্তঃক্রীড়া কর্মসূচি। ইভেন্ট হলো ক্রীড়াসূচির দফা বা ক্রীড়াসূচির ধাপ আর কর্মসূচি হলো ক্রীড়াসূচির সমস্ত ইভেন্ট সমূহের সার্বিক কার্যক্রম। ইভেন্ট হলো কর্মসূচির একটি অংশ। ইভেন্টসমূহ সফল হলেই কর্মসূচির সফল সমাপ্তি হয়। কর্মসূচিকে সফল করতে হলে ইভেন্টের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে হয়। কর্মসূচি হলো বৃহত্তম আর ইভেন্ট হলো ক্ষুদ্রতম।

৩।

ক.        অনুচক্রিকার কাজ কী?

খ.         শারীরিক সক্ষমতা অর্জনে ব্যায়ামের প্রভাব ব্যাখ্যা কর।

গ.         উদ্দীপকে উল্লেখিত ’গ’কোন খেলার শারীরিক সক্ষমতা অর্জনে বেশি দরকার ব্যাখ্যা কর।

ঘ.         উদ্দীপকে উল্লেখিত ’ক ও খ ’ খেলায় খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বৈসাদৃশ্যের ধরণ বিশ্লেষণ কর ।

উত্তর : ক. অনুচক্রিকার কাজ হলো দেহের কোথাও ক্ষত হলে সেখানে ৩ মিনিটের মধ্যে রক্ত জমাট বাঁধতে বা রক্ত পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করা।

খ. শারীরিক সক্ষমতা হলো শারীরিক কাজ-কর্ম করার সামর্থ্য, শারীরিক সক্ষমতার জন্য ব্যায়াম অপরিহার্য। ব্যায়াম না করলে কখনো শারীরিক সক্ষমতা অর্জন সম্ভব নয়। ব্যায়ামের প্রভাবে শরীরের ভিতর বিভিন্ন রকম পরিবর্তন হয়, যা শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সক্ষমতা অর্জনের জন্য সব বয়সের লোকদের নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট ব্যায়াম করা প্রয়োজন। শারীরিক সক্ষমতার প্রধান শর্ত হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমান ব্যায়াম করা। ব্যায়াম ছাড়া শারীরিক সুস্থতা ও সক্ষমতা অর্জন করা যায় না।

গ. উদ্দীপকের উল্লেখিত খেলাটির নাম হলো দূরপাল্লার দৌড়। এই খেলার জন্য শারীরিক সক্ষমতা বেশি দরকার। এই খেলার জন্য বেশি প্রয়োজন হয় দম ও পায়ের শক্তি। তলপেট,হাত ও বাহুর শক্তির প্রয়োজন হয় মধ্যম মানের। ক্ষিপ্রতা কম হলেও চলে। শারীরিক সক্ষমতা থাকলে দূরপাল্লার দৌড় চল্লিশ বছর বয়স পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া যায়। এই খেলার জন্য দম ও পায়ের শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম বেশি করে করতে হবে। সংশ্লিষ্ট খেলার সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যায়াম করা হলে ওই খেলায় ভালো ফল আশা করা যায়। যেমন, দূরপাল্লার দৌড়ের জন্য আস্তে আস্তে দৌড়, তবে বেশি সময় ধরে দৌড়াতে হবে, উঁচু-নিচু জায়গায় দৌড়, বালুর ওপর দৌড়ানো ইত্যাদি নিয়মিতভাবে অনুশীলন করতে হবে। ফলে শারীরিক দূরপাল্লার দৌড়ের প্রয়োজনীয় শারীরিক সক্ষমতা অর্জিত হবে।

ঘ. উদ্দীপকে খেলা দুটি যথাক্রমে ফুটবল ও হ্যান্ডবল। এই খেলা দুটির খেলোয়াড়দের মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও বৈসাদৃশ্য কিছু রয়েছে এবং বৈসাদৃশ্যের ধরন বিশ্লেষণ করা হলো। ফুটবল খেলায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় শক্তি (পা, হাত ও বাহু) দম ও ক্ষিপ্রতা। আর হ্যান্ডবল খেলোয়াড়দের বেশি প্রয়োজন হয় পা,হাত ও বাহুর শক্তি ও ক্ষিপ্রতা। বয়সের দিক থেকেও এই দুই খেলোয়াড়দের মধ্যে বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ফুটবল খেলোয়াড়রা ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যেতে পারে এবং হ্যান্ডবল খেলোয়াড়রা সব বয়সেই খেলা চালিয়ে যেতে পারেন। বয়সের কোন বিধি নিষেধ নেই। ফুটবল ও হ্যান্ডবল খেলোয়াড়দের মধ্যে কৌশলগত কিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে। যা নির্ভর করে শারীরিক সক্ষমতার উপর। এই দুই খেলোয়াড়দের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা দুই ধরনের। যেমন ফুটবল খেলোয়াড়দের দমের বেশি প্রয়োজন আবার হ্যান্ডবল খেলোয়াড়দের দম প্রয়োজন মধ্যম মানের। এই দুই খেলোয়াড়দের সক্ষমতার মূল বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত দম ও বয়সের পার্থক্যের ক্ষেত্রে। শারীরিক সক্ষমতার বৈসাদৃশ্য থাকলেও যার শারীরিক সক্ষমতার বেশি খেলাধুলায় তার কাছ থেকে ভালো ফল আশা করা যায়।

৪. অর্পিতা কোন কাজ করলে তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে যায়। ডাক্তার বলেছেন অর্পিতার রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কম। ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া ও ব্যায়াম করলে অর্পিতার কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

ক.        আর্চিং কী ?

খ.         মানব দেহে শ্বেত রক্ত কণিকার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

গ.         সক্ষমতা অর্জন করলে অর্পিতা কী কী কাজ করতে সক্ষম হবে-বর্ণনা কর।

ঘ.         ব্যায়ামের প্রভাবে অর্পিতার শরীরের ভিতর কী কী পরিবর্তন হয় আলোচনা কর।

উত্তর : ক.  চিৎ হয়ে শুয়ে দুই কানের কাছে দুই হাত রেখে হাঁটু ভাঁজ করে শরীর উপরের দিকে তোলা ও নামানোকে আর্চিং বলে।

খ. মানব দেহে শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অনেক কম। এক মিলিলিটার রক্তে ছয় থেকে আট হাজার রক্ত কণিকা থাকে। এরা বর্ণহীন ও নিউিক্লিয়াসযুক্ত। এরা সাধারণত ১২-১৩ দিন বাঁচে। তবে নিয়মিত ব্যায়াম করলে এরা সংখ্যায় বেড়ে যায় এবং বেশি দিন বেঁচে থাকে। শ্বেত কণিকা রক্তে প্রবেশকারী জীবাণুকে ঘিরে ধরে জীবাণুকে বিনিষ্ট করে দেহকে রক্ষা করে। শ্বেত কণিকাকে দেহের অতন্ত্র প্রহরী বলা হয়।

গ. শারীরিক সক্ষমতা বলতে সামগ্রিক সক্ষমতাকে বুঝানো হয়েছে । শারীরিক সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে অর্পিতা সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবন যাপনে সক্ষম হবে। শারীরিক সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে অর্পিতা যে যে কাজ করতে সক্ষম হবে তার একটি বর্ণনা দেওয়া হলো- ১। দৈনন্দিন জীবনযাপন এবং বিপদকালীন অবস্থায় প্রয়োজনীয় শক্তি,দম,সমন্বয় ক্ষমতা এবং কৌশল অর্জন করতে পারবে। ২। প্রাত্যহিক প্রয়োজনীয় কাজকর্মের প্রতি যথাযথ মনোযোগ ও মূল্যবোধ বৃদ্ধি পাবে। ৩। লেখাপড়ায় মনোযোগী হতে পারবে। ৪। আবেগিক ভারসাম্য এবং আধুনিক জীবনযাত্রার জটিলতা থেকে চাপমুক্ত হয়ে জীবনযাপন করতে পারবে। ৫। সকলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং সমাজ জীবনের প্রয়োজনীয় সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে । ৬। চলার পথে উদ্ভুত সমস্যাবলির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন এবং বিশ্লেষণ করতে পারবে। ৭। দায়িত্বশীল নাগরিকের মতো কর্তব্য পালন করতে পারবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow