Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৩ জুন, ২০১৬ ২৩:৫৮
অভিমানী অপু...
আলাউদ্দীন মাজিদ
অভিমানী অপু...

মার্চ থেকেই অপুর দেখা নেই। ফোন বন্ধ, ক্যামেরার সামনে দাঁড়াচ্ছেন না, কারও সঙ্গে দেখা করছেন না, নতুন কোনো ছবিতেও চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন না, হাতে থাকা ছবিগুলোর শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন না, এমনকি দুটি ছবির কাজও ছেড়ে দিয়েছেন। সংবাদ মাধ্যম ও চলচ্চিত্রের লোকজন তাকে খুঁজে পাচ্ছে না। তার খুব কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত নায়ক শাকিব খানও বলছেন তিনিও তার দেখা পাচ্ছেন না। তাহলে কি অন্তরালের বাসিন্দা হয়েছেন অপু। কিন্তু কেন? যারা অপু সম্পর্কে ভালো জানেন অপুর সেই ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, অভিমান করেই অপু নিজেকে আড়াল করে নিয়েছেন। আর শাকিব খানের ওপরই তার এ অভিমান।

অপুর ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, সফল পর্দা জুটির মতো বাস্তবেও শাকিব-অপুর সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। তারা ভালো বন্ধু। কোনো তুচ্ছ ঘটনা বা সামান্য খুনসুঁটি নিয়ে পরস্পর সহজেই অভিমান করে বসেন। অতীতে এমন অভিমানের অনেক ঘটনা ঘটেছে। তবে এবার শাকিব খানের আচরণে অপু এতটাই কষ্ট পেয়েছেন যে সহজে সেই ধকল সামলে উঠতে পারছেন না। নিজেকে গৃহবন্দী করে ফেলেছেন। কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। একবার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন প্রবাস জীবন বেছে নেবেন। বিদেশে স্যাটেল হবেন। পরক্ষণে ভাবছেন অভিনয় ছেড়ে ব্যবসা-বাণিজ্য আর সামাজিক কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। ইতিমধ্যে নিকেতনে জিম সেন্টার খুলেছেন। এখন বিউটি পার্লারও দেবেন। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন। আগামী বছর সেই ফ্ল্যাটে উঠবেন।

অভিমানের বিষয়ে জানতে চাইলে সূত্রটি জানায়, অপু তার অভিনয় শুরু করেন শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে। ছবির নাম ‘কোটি টাকার কাবিন’। ছবিটি ব্যবসাসফল হলে এ জুটিকে নিয়ে ছবি নির্মাণের হিড়িক পড়ে যায়। ঢালিউডে শাকিব-অপু জুটি স্থায়ী হয়। তখন থেকেই তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শাকিব চাইতেন না অপু অন্য কারও সঙ্গে জুটি বাঁধুক। অপুও মেনে নিতেন শাকিবের অনুরোধ। তাই অপুর ৯৫ ভাগ ছবির নায়ক শাকিব খান। এমনও হয়েছে শাকিবের ছবিতে অন্য নায়িকা থাকলে এ নায়কের অনুরোধেই নির্মাতা সেই নায়িকাকে বাদ দিয়ে অপুকে নিতেন। এমন একটি ছবি হচ্ছে ‘দেবদাস’। এতে পার্বতী চরিত্রে পূর্ণিমার অভিনয় করার কথা ছিল। সূত্র বলছে অপুর এবারের অভিমানের কারণ হচ্ছে ‘শিকারি’ ছবিটি। যৌথ প্রযোজনার এ ছবিতে শাকিব জুটি বেঁধেছেন টালিগঞ্জের শ্রাবন্তীর সঙ্গে। অপু নাকি অভিমান করে বলেছেন শ্রাবন্তীর কারণে শাকিব ছবিটির জন্য অন্যরকম সিরিয়াস হয়ে উঠেছেন। যা অবাক করার মতো। খুব ভোরে ওঠে নিয়মিত সুইমিং, জিম থেকে শুরু করে সময়মতো সেটে হাজির হওয়া সবকিছুই করছেন। যা আগে কখনো করেননি শাকিব। অপু সূত্রটিকে বলেছেন শাকিবের অনুরোধে আমি অন্য কোনো নায়কের সঙ্গে তেমন অভিনয় করিনি। আর আমি যখন এমন অনুরোধ শাকিবকে করি তখন ও আমার কথার ধার ধারে না।

অপু নাকি বলেছেন সম্প্রতি একটি ভালো গল্পের ছবিতে কাজ করলাম। ছবির শিরোনাম ‘রাজনীতি’। এ ছবির জন্য নির্মাতা এফডিসিতে পুরান  ঢাকার শাঁখারি বাজারের আদলে একটি সেট ফেলেন। কিন্তু শাকিব দেরি করে সেটে আসার কারণে এ ছবিতে মনের মতো করে কাজ করা যায়নি। অপু বলেন, যদি ঠিকভাবে কাজ করতে পারতাম তাহলে আমার অভিনয় জীবনে উল্লেখ করার মতো একটি ছবি হতো এটি। অপুর অভিযোগ ‘শাকিব আমার সঙ্গে কোনো ছবিতেই সিরিয়াসভাবে কাজ করেনি। অথচ এখন ‘শিকারি’ ছবিতে কাজ করার জন্য নিজের আরাম আয়েশ বিসর্জন দিয়েছেন। ১৫ কেজি ওজনও কমিয়েছেন। আমার প্রতি তার এ অবহেলা আমাকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। অপুর প্রশ্ন- ‘আমি যদি শাকিবের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করতে পারি তবে সে কেন নয়?’ অপু ইতিমধ্যে শাকিবের সঙ্গে জুটি বাঁধা ‘বসগিরি’ ও ‘শুটার’ ছবি দুটোর কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। ‘পাংকুজামাই’সহ কয়েকটি ছবির শেষ পর্যায়ের কাজ অপুকে না পাওয়ার কারণে আটকে আছে। শাকিবের দ্বিতীয় প্রযোজনার ‘ও পিয়ারে’ ছবিতেও নেই অপু।  এ ছবির নায়িকা বুবলী। এ নিয়ে শাকিব খানের বক্তব্য অন্যরকম। তার কথায় অপু ‘বসগিরি’ ও ‘শুটার’ ছবির কাজ ছেড়েছেন নিজেকে ছবি দুটোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করতে পারেননি বলে। আর আমার ‘ও পিয়ারে’ ছবিতে তার কথা রাখতেই তাকে নেওয়া হয়নি। বেশ কিছুদিন আগে অপু আমাকে ও সাংবাদিকদের বলেছিল আমাদের জুটির অনেক ছবি করা হয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে বিরক্তিতে ভুগবে দর্শক। তাই এখন দুজনেরই নতুন নায়ক-নায়িকার সঙ্গে কাজ করা দরকার। সে হিসেবেই আমি কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু অপু কেন নিজেকে আড়াল করে নিয়েছে তা জানি না। আমার সঙ্গে সে কোনো যোগাযোগ করে না। তার সেলফোন অনবরত বন্ধ পাচ্ছি। অভিমানের ব্যাপারে শাকিব বলেন, আমার ওপর তার অভিমান করার মতো কিছু হয়েছে বলেতো আমি জানি না। আর আমার ওপর অভিমান করলে অন্য সবার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করবে কেন ও। এদিকে একটি সূত্র জানায় অপু গুলশানের বাসায় টিভি দেখে, বই পড়ে আর নিজের জিম সেন্টারে গিয়ে বেশি সময় কাটান। মাঝে মধ্যে বগুড়ার গ্রামের বাড়িতে মায়ের কাছে যান। এরিমধ্যে একবার কলকাতায় বোনের বাড়িতে বেড়িয়ে এসেছেন। সহসাই আবার কলকাতা যাচ্ছেন। আরেক সূত্রের দাবি অপু মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে তার বেশ কজন আত্মীয় আছেন। হয়তো সেখানেই স্থায়ী হতে পারেন তিনি।

চলচ্চিত্রকাররা বলছেন অপুর এমন রহস্যঘেরা আত্মগোপন মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ এ নিয়ে গুঞ্জন আর রটনা ক্রমেই ডালপালা মেলছে। মধ্যে একবার খবর রটেছিল অপু নাকি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। আর সবই হচ্ছে অপুর নির্বুদ্ধিতার কারণে। এভাবে নিজেকে আড়াল করে রাখলে গুঞ্জন আর রটনায় তার এতদিনের সব ভালো অর্জন ম্লান হয়ে যাবে। যা কারও কাম্য নয়।




up-arrow