Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : শনিবার, ২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০৩
বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় জিৎ
‘সীমান্তের কাঁটাতার আর ইলিশের কাঁটা বড়ই অপছন্দ আমার’
আলাউদ্দীন মাজিদ
‘সীমান্তের কাঁটাতার আর ইলিশের কাঁটা বড়ই অপছন্দ আমার’

বৃহস্পতিবারের সুন্দর সন্ধ্যা। হোটেল প্যানফ্যাসিফিক সোনারগাঁও। এখানে আছেন কলকাতার জনপ্রিয় নায়ক জিৎ। ঈদে দুই বাংলায় মুক্তি পাচ্ছে তার ‘বাদশা’ ছবিটি। এই ছবির প্রমোশনেই মঙ্গলবার ওপার বাংলা থেকে উড়ে এসেছেন টালিগঞ্জের এই সুপারস্টার। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন জিৎ। আয়োজনটা ছবির স্থানীয় প্রযোজক আবদুল আজিজ করে দিলেন। আজিজ ভাই বললেন, ৪টার মধ্যে চলে আসবেন। ৬টার ফ্লাইটে কলকাতা যাত্রা করবেন জিৎ। হোটেলের তিনতলায় ৩৫০ নম্বর সুটে আছেন এই নায়ক। সুটে বসেই কথা হলো। রুমে ঢুকতেই সোফায় হেলান দিয়ে রাজসিক ভঙ্গিতে বসা নায়ক জিৎ উঠে দাঁড়ালেন। এগিয়ে এসে হাত বাড়িয়ে দিলেন। অবাক হলাম। কোনো অহংবোধ নেই তার মধ্যে। জনপ্রিয়তা তাকে জড়িয়ে নিলেও অহঙ্কারের খুঁটিতে লতাতে দেননি  নিজেকে। কিছু বলার আগেই বলে উঠলেন ওহ, বাংলাদেশ প্রতিদিন। এই পত্রিকায় বিনোদনের বিশেষ একটি পাতা আছে। আমার খুব ভালো লাগে। তাহলে দেখেছেন? এমন প্রশ্ন করতেই বললেন ‘অবশ্যই, দুই বাংলার ছবি আদান-প্রদানের খবর খুব গুরুত্ব দিয়েই এই পত্রিকায় ছাপা হয়। কাজের ফাঁকে অনলাইন ভার্সনেও পত্রিকাটি পড়ি। খুব ভালো লাগে। গঠনমূলক খবর থাকে। এবার ফরমাল প্রশ্নে আসলাম। কেমন আছেন? অনেক ভালো। স্বপ্নের সোনার বাংলায় বসে আছি। বুঝতেই পারছেন। ভালো লাগার পারদটা কতটা লতিয়ে উঠেছে। হা... হা... হা...। আপনি এখন দুই বাংলার ‘বাদশা’ কিন্তু। আবার হেসে উঠলেন সুপার স্টার। বুঝতে মোটেও কষ্ট হলো না এই হাসি কতটা তৃপ্তির। নায়ক বললেন ‘আমার মনের কথাটা আপনি বলে দিলেন কিন্তু। অনেক দিন ধরেই এই স্বপ্নটা চোখে বয়ে বেড়াচ্ছিলাম। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। তিনি আমার ঈচ্ছে পূরণ করে দিয়েছেন। এবার দুই বাংলার বাদশা হয়ে ওঠার গল্পটা শুনতে চাইলাম। জিৎ বলে চললেন ‘অশোক দা [এসকে মুভিজের কর্ণধার অশোক ধানুকা] অনেক দিন ধরেই আমাকে বলছিলেন দুই বাংলার যৌথ আয়োজনে কাজ করতে হবে। এক সময় বাদশার গল্প শোনালেন। খুব মনে ধরলো। তাছাড়া আমি আগে থেকেই এমন একটা সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। ব্যস সুযোগটা লুফে নিলাম। ’ ছবিতে বাদশাকে কেমন দেখা যাবে? একবারেই গরিব ঘরের ছেলে বাদশা। ছোটবেলা থেকেই ডন হয়ে ওঠার স্বপ্ন তার। শুরু হয় স্ট্রাগল। শ্বাসরুদ্ধকার অবস্থা, সংঘাত আর মজা করে এগিয়ে চলে বাদশার গল্প। গল্পের বুননে কোনো ঘাটতি নেই। মানে ‘যে যা চাইবেন তা পাইবেন...’ একেবারে নির্মল বিনোদনের মনকাড়া ছবি। কথা দিচ্ছি বারবার দেখতেই হবে বাদশাকে। সঙ্গে আপনাদের ভালোবাসার জিেকও হো... হো... হো...। ১৯৯৩ সালে তেলেগু ‘চান্দু’ ছবি দিয়ে ফিল্ম ক্যারিয়ার শুরু। তারপর শুধুই বাংলা ছবিতে অভিনয়। নেপথ্যের গল্পটা কেমন? ‘বাংলা আমার হূদয়ের ভাষা। কলকাতায় জন্ম আর বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকে বাংলাতেই সাঁতার কাটা। বাংলার প্রতি টানটা তাই একদম অন্তরের। তেলেগু ছবিতে কাজ করাটা ছিল নির্মাতার অনুরোধে। খুব কাছের মানুষ হওয়ায় না করতে পারিনি। আমি কিন্তু বাংলার পাশেই থাকতে চেয়েছি আর এখন দুই বাংলাতেই ঘর বেঁধেছি। দুই বাংলার ছবির মধ্যখানে একটা কাঁটাতারের বেড়া আছে। বিষয়টা কখনো ভাবিয়েছে? ‘কাঁটাতার আমার বড় অপছন্দের। বিশেষ করে সংস্কৃতির মধ্যখানে এর অস্তিত্ব থাকবে কেন? দুই বাংলার ভাষা আর আশা একই ভালোবাসার সুতোয় বাঁধা। আমি কাঁটাতারের বাধা মানি না। সবাই মিলেমিশে সুখে থাকতে চাই। ’ ২০১২ সালে দুই বাংলার চলচ্চিত্রের মেলবন্ধনের বার্তা নিয়ে ঢাকা এসেছিলেন। বিষয়টা পরে অতটা জোর পায়নি। কারণটা কি ছিল? ‘বিষয়টা এখনো আমাকে ভাবায়। এ নিয়ে দুঃখবোধটা এখনো ভোগায়। খুব আশা করে এসেছিলাম। ওই যে কাঁটাতার। যত নষ্টের মূল সেই-ই। হাল ছাড়িনি। কাঁটাতার ঠিকই  ছিঁড়ে ছাড়বো এক দিন। বলতে বলতে তার মুখের গোলাপি আভায় যেন কালো ছায়া পড়ল। কপালে ভাঁজের রেখা ভারি হয়ে উঠল। ভাবলাম পরিবেশ হালকা করা দরকার। ‘পদ্মার ইলিশ তো খুব প্রিয়, তাই না’। ইলিশের কথা বলে কোনো লাভ হলো না। জিৎ জানালেন ইলিশ তার অপছন্দের মাছ। এই প্রশ্নে তাকে খুশি করতে না পেরে নিজেই চিন্তায় পড়ে গেলাম। কেন ইলিশ অপছন্দের? সুপারস্টার বললেন এই মাছে কাঁটা বেশি। একেবারেই সীমান্তের বিশ্রী কাঁটাতারের মতো। বলেই হা... হা... করে হেসে উঠলেন। মার্চ মাসে যখন এখানে বাদশার শুটিংয়ে এসেছিলাম তখন হোটেল লা মেরিডিয়ানের কুক আমাকে ইলিশ মাছের বড়া বানিয়ে খাইয়েছিল। সঙ্গে শিং মাছের ঝোল। বেশ তৃপ্তি পেয়েছিলাম। তারপরও ইলিশ মাছের কাঁটার কথা মনে পড়লে সীমান্তের কাঁটাতারের মতোই মনে হয়। একদম ভালো লাগে না। আমার সঙ্গে ছিল আমারই একমাত্র কন্যা নিকিতা। প্রিয় নায়ককে দেখতেই এখানে আসা তার। পরিচয় জেনে জিৎ বলেন, ওর মতো আমারও একটা মেয়ে আছে। মেয়ে আমার খুব পছন্দ। একমাত্র মেয়েকে নিয়ে তাই আমি খুব খুশি। কাজের অবসরে মেয়ে আর গিন্নিকে সময় দিই। ফ্যামেলিকে সময় দিতে পারাটা আমার জন্য বড়ই সুখের। আবার বাদশা ছবিতে ফিরে গেলাম। কো-আর্টিস্ট হিসেবে নুসরাত ফারিয়াকে কেমন লেগেছে। ‘ভেরি গুড। খুব প্রমিজিং এবং কমিটেড একটা মেয়ে ও। মাত্র তিনটি ছবি করেছে। কাজ দেখে তা মনে হয়নি। কাজের প্রতি তার সিনসিয়ারিটি ও কমিটমেন্ট তাকে বড় শিল্পী করে তুলবে। নির্মাতা আজিজ সম্পর্কে জিৎ-এর কথা, ‘বেশ গোছানো এবং নিয়ম মেনে চলা একজন মানুষ তিনি। তার  ছবিতে কাজ করতে গিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি। এদেশের চলচ্চিত্র অভিনেতা সম্পর্কে জানতে চাইলে জিৎ বলেন, আমি কিন্তু রাজ্জাক সাহেবের বড় ফ্যান। তার অভিনয় আর মেলোড্রামার ধারে কাছে কখনো যেতে পারব কিনা জানি না। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল তার সঙ্গে একটি ছবিতে কাজ করার। এক সময় হাত ঘড়ির দিকে তাকালেন সুপারস্টার জিৎ। ঘড়ির কাঁটা তখন ৫টার ঘরে। বুঝলাম ফ্লাইটের সময় ঘনিয়েছে। নায়কের কাছে জানতে চাইলাম আবার কখন দেখা হবে। সরলভাবে হেসে বললেন, যখনই ডাকবেন চলে আসব। আমি বাঙালি ঘরের ছেলে। দুই বাংলাই আমার কাছে সমান প্রিয়। পরেরবার প্রিয় সোনার বাংলা ঘুরে দেখব আর এখানকার ছবিতে বেশি করে কাজ করতে চাই। ছবি তোলার পালা সেরে দরজার দিকে এগিয়ে চললাম। পরম আতিথিয়তায় দরজা খুলে দিয়ে বললেন, ‘আই অ্যাম ভেরি গ্লেড টু মিট ইউ। সি ইউ এগেইন। ’ 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow