Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:১৮
ফের আশাবাদী সিনেমা হল মালিকরা

প্রায় একযুগ পর সিনেমা হলে আবার দর্শকের জোয়ার দেখা দিয়েছে। ঈদের ছবি দেখতে সিনেমা হলগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়।

এতে বেশি লাভবান হচ্ছেন সিনেমা হল মালিকরা। তারা নতুন করে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন। তাদের অনুরোধ নির্মাতারা যেন ভালো ছবি নির্মাণের ধারা অব্যাহত রাখেন। তাহলে সিনেমা হল বন্ধ রোধ এবং নতুন হল তৈরি সম্ভব হবে। কয়েকজন হল মালিকের কথা তুলে ধরেছেন— আলাউদ্দীন মাজিদ

 

সাইফুল ইসলাম চৌধুরী

[কর্ণধার : উপহার, রাজশাহী]

এবারের ঈদে দুটি মান সম্মত ছবি পেয়ে সিনেমা হলে আবার দর্শকের ঢল নেমেছে। সব বয়সী ও বিত্তের মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে ছবি দেখতে আসছে। এটি সিনেমা হল মালিকদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি আশার বাণী। কারণ দর্শক যদি না থাকে তাহলে সিনেমা হল টিকবে কি করে।

আর দর্শক পেতে প্রয়োজন মানসম্মত ছবি।

ভালো ছবি নেই বলে দীর্ঘসময় ধরে দর্শক শূন্য সিনেমা হল চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন মালিকরা। দেশের বেশিরভাগ সিনেমা হল বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।

এই অবস্থা চলতে থাকলে সহসাই এই দেশ চলচ্চিত্র শূন্য হয়ে পড়বে। যা কারও কাম্য নয়। নির্মাতারা যদি ভালো ছবি নির্মাণ করেন তাহলে এই অচলাবস্থা সহজেই দূর হবে। এবারের ঈদের দুটি ছবি ‘শিকারী’ ও ‘বাদশা’ এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ছবি দুটি দেখতে দেশ জুড়ে সিনেমা হলে দর্শকের ঢল নেমেছে।

আমি চাই নির্মাতারা এ ধরনের ভালো ছবি নির্মাণ করুক।

এতে সিনেমা হল বেঁচে যাবে। একাধারে লাভবান হবে নির্মাতা ও হল মালিকরা। পাশাপাশি মনের মতো ছবি পেয়ে আবার সিনেমা হলমুখী হবে দর্শক। দেশীয় ছবির সুদিন ফিরবে।

 

কাজী ফিরোজ রশীদ

[কর্ণধার : চন্দ্রিমা (সাভার), শিউলী (ইপিজেড), নবীন (মানিকগঞ্জ), শাপলা (রংপুর)]

ভালো ছবি হলে দর্শকের অভাব হয় না। এই ঈদের দুটি ছবি ‘শিকারী’ ও ‘বাদশা’ দিয়ে আবারও তা প্রমাণ হলো। ছবি দুটি দেখতে পরিবার-পরিজন নিয়ে দর্শক সিনেমা হলে ভিড় করছে। নির্মাতারা এ বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রাখলে চলচ্চিত্র জগতে আর কোনো সংকট থাকবে না। কিছু নির্মাতা সরকারি অনুদানের টাকা দিয়ে আর্ট ফিল্ম নির্মাণ করে।

এসব ছবি দর্শক দেখে না। সরকারি অর্থের অপচয় হয়। ভালো ছবির অভাবে ১ হাজার ৪০০ সিনেমা হলের স্থানে এখন ২৫০টির মতো আছে। এটি সত্যিই দুঃখজনক।

নির্মাতাদের অনুরোধ করব আপনারা মানসম্মত ছবি নির্মাণ করুন। এতে সিনেমা হল সংস্কার, নির্মাণ সহজ হবে। দর্শক খুশি হবে এবং নির্মাতা ও হল মালিক লাভবান হবে। একইসঙ্গে সিনেমা হল বন্ধও রোধ করা যাবে। চলচ্চিত্র হচ্ছে একটি দেশের সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম। সিনেমা হল না থাকলে বিনোদনের অভাবে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়বে। সিনেমা হল বাঁচাতে ভালো ছবির বিকল্প নেই। তাই দর্শক পছন্দের ছবি চাই।

 

ইফতেখার নওশাদ

[কর্ণধার : মধুমিতা]

চলচ্চিত্রের ব্যবসা একেবারেই শেষ হয়ে গেছে। দুই ঈদে শুধু কিছু ছবি চলে। বাকি সময় হল মালিকদের লোকসান গুনতে হয়। দীর্ঘসময় পর এবারের ঈদে যৌথ প্রযোজনার দুটি ছবি ‘শিকারী’ ও ‘বাদশা’ ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। আসলে মানসম্মত ছবি পেলে দর্শক সিনেমা হলে আসবেই। এই ছবি দুটি আবারও একথা প্রমাণকরল।

আমি চাই স্থানীয় বা যৌথ প্রযোজনা কিংবা কলকাতার অথবা যে কোনো দেশের ভালো ছবি আসুক। যাতে সিনেমা হল টিকিয়ে রাখা যায়। সিনেমা হল না থাকলে দেশের সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম চলচ্চিত্র থাকবে না। চলচ্চিত্র না থাকলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা বাড়বে। তরুণ সমাজ বিপথগামী হবে। তাই চলচ্চিত্র জগত ও সিনেমা হল বাঁচাতে ভালো ছবির বিকল্প নেই।

নির্মাতাদের কাছে আমার অনুরোধ এবারের ঈদের এই দুটি ভালো ছবির মতো ছবি নির্মাণের ধারা অব্যাহত রাখুন, সিনেমা হলে দর্শক ফিরিয়ে আনুন, সিনেমা হল মালিকদের বাঁচান। সিনেমা হল বাঁচলে চলচ্চিত্রজগত টিকে থাকবে। না হলে দেশের প্রধান এই গণমাধ্যমটি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

 

মোহাম্মদ হোসেন

[কর্ণধার : সনি সিনেমা]

দীর্ঘসময় পর সিনেমা হল মালিকরা এই ঈদে ছবি চালিয়ে লাভের মুখ দেখল।

আসলে ‘শিকারী’ ও ‘বাদশা’র মতো ছবি পেলে সিনেমা হলে দর্শক আসবে এবং সিনেমা হল মালিকরা লাভবান হবে একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। ঈদের দুটি ছবি অন্তত সিনেমা হল মালিকদের মনে এই আশার সঞ্চার করেছে।

আমি আশা করব নির্মাতারা এ ধরনের ভালো ছবি নির্মাণের ধারা অব্যাহত রাখবেন এবং সিনেমা হলকে বাঁচাবেন। ভালো ছবি পেলে দর্শক যেমন খুশি হয় তেমনি হল মালিক লাভের মুখ দেখেন। এবারের ঈদের একটি ছবির কথাই বলি। এক সিনেমা হল মালিক একটি ছবি এনেছেন ৫০ হাজার টাকা দিয়ে। ঈদের প্রথম দিন তিনি আয় করেছেন ২ লাখ টাকা। এ অবস্থা বজায় থাকলে অবশ্যই হল মালিকরা উৎসাহিত হবেন। তাই নির্মাতাদের বলব ছবি নির্মাণে যত্নবান হোন।

ভালো ছবি নির্মাণ করুন এবং চলচ্চিত্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করুন। ভালো ছবি পেলে দর্শক কখনো হল বিমুখ হয় না। একথা অনেকবার প্রমাণ হয়েছে। তাই নির্মাতাদের দায়িত্ববান হতে হবে সবার আগে।

 

মিয়া আলাউদ্দীন

[কর্ণধার : সাথী (আড়াইহাজার থানা)]

সিনেমা হলে দর্শক আনতে হলে ভালো ছবি চাই। একথা নতুন করে বলার কিছু নেই। দুঃখজনক হচ্ছে বিষযটি জানার পরেও নির্মাতারা এক্ষেত্রে যত্নবান নন। এর ফলে চলচ্চিত্র জগৎ গভীর সংকটে পড়েছে। এবারের ঈদে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘শিকারী’ ও ‘বাদশা’ ছবি দুটি দেখতে ব্যাপক দর্শক সমাগম ঘটেছে সিনেমা হলে। এ অবস্থায় আবারও আশাবাদী হয়ে উঠেছে হল মালিকরা।

আমার বিশ্বাস নির্মাতারা যদি এ ধরনের ভালো ছবি নির্মাণের ধারা অব্যাহত রাখেন তাহলে সিনেমা হল বন্ধের আর প্রশ্নই উঠবে না। কারণ হল মালিকরা ইচ্ছে করে নয়, বরং নিয়মিত ভালো ছবি পান না বলেই লোকসানের কবল থেকে উদ্ধার পেতে বাধ্য হয়েই সিনেমা হল বন্ধ করেন।

এবারের ঈদের দুটি ছবি হল মালিকদের আশাবাদী করে তুলেছে। আর এই আশা বাঁচিয়ে রাখতে পারেন নির্মাতারা ভালো ছবি নির্মাণের মাধ্যমে। আমার বিশ্বাস বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য রেখে এখন থেকে নির্মাতারা ভালো ছবি নির্মাণে উদ্যোগী হবেন। এতে চলচ্চিত্র শিল্প বেঁচে যাবে। বন্ধ হওয়া সিনেমা হল পুনরায় চালু হবে এবং দেশীয় ছবির সুদিন আবার ফিরে আসবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow