Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:৩৬
সাফল্যের বরপুত্রের মৃত্যু নেই
আলাউদ্দীন মাজিদ
সাফল্যের বরপুত্রের মৃত্যু নেই

মৃত্যুর মাত্র কদিন আগে মৃত্যু নিয়ে সালমান শাহ বলেছিলেন, ‘এখনই এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত নই, কাম্যও নয়। শুধু আমার নয়, কারও ভাগ্যে যেন বিধাতা অকাল মৃত্যু না লিখেন।’ বেঁচে থাকার জন্য যার আকুতি ছিল এমন, তিনি কি করে আত্ম অভিমানে নিজেকে সংহার করবেন। এমন প্রশ্নের উত্তর আজও মেলেনি। সালমান ছিলেন অভিনয়ে, আছেন হৃদয়ে, থাকবেন অনন্তকাল। সবাই জানেন সালমানের মৃত্যু নেই। আজ তার প্রস্থানের ২০তম বার্ষিকী। শ্রদ্ধাভরে আমরা স্মরণ করছি চিরকালের এই মহানায়ককে।

সালমান শাহকে বলা হতো ঢাকাই ছবির সাফল্যের বরপুত্র। তার অভিষেকে ঢালিউডের আকাশে সাত রং এঁকে দেয় রঙধনু। রাতের আকাশ আলোকিত হয় সালমানের দক্ষ অভিনয়চ্ছটায়। সালমানের অভিনয় স্টাইল, পর্দায় তার সপ্রতিভ উপস্থিতি আর নায়কোচিত ইমেজ আজও অন্য তারকাদের কাছে অনুকরণীয় হয়ে আছে। আশির দশকের শেষভাগ থেকে দেশীয় চলচ্চিত্র কঠিন ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছিল। ঠিক তখনই বীরদর্পে সালমানের আবির্ভাব। ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহানের পরিচালনায় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে প্রেক্ষাগৃহের রুপালি পর্দায় তার অভিষেক। শুরুতেই বিশাল সাফল্য দিয়ে প্রাণসঞ্চার করে দিলেন মৃতপ্রায় চলচ্চিত্র। তারপর তো শুধুই ইতিহাস। সালমান শাহ মানে দর্শকের ভালোবাসা আর চলচ্চিত্রের জন্য আশীর্বাদ। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬। শুধুই সাফল্যের পথে হেঁটে যাওয়া। চলচ্চিত্রের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্রের বিচরণ। আগের সব অভিনয় শিল্পীকে ম্লান করে দিয়ে ধূমকেতুর মতো চলচ্চিত্রের আকাশে জ্বল জ্বল করছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। আকস্মিকভাবে এই ধূমকেতুর পতনের অনাকাঙ্ক্ষিত একটি কালো দিন। এই দিনে রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে তার। কোটি ভক্তকে কাঁদিয়ে অকালে পরপারে যাত্রা মহাকালের মহানায়কের। সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন, এটি অবিশ্বাস্য। তার পরিবার এ মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের বিচার চেয়ে আজও কাঁদছে। কিন্তু বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। অকালে পুত্র হারানোর শোকে পাথর সালমানের মা নীলা চৌধুরী এখনো হাহাকার করে বলছেন, ‘আমি কি পুত্র হত্যার বিচার পাব না। আমার ছেলে তো আত্মহত্যা করেনি। তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।’ সালমানের বাবা ন্যায্য বিচার না পেয়ে অসহনীয় যন্ত্রণায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই তো গেল পরিবারের কান্না আর আইনের কাছ থেকে বিচার না পাওয়ার বেদনা। কিন্তু চলচ্চিত্র জগৎ কি তাকে যথাযথ মূল্য দিয়েছে? মোটেও নয়। কোটি দর্শক-ভক্ত এবং পরিবারের আকুল আবেদন থাকা সত্ত্বেও এফডিসিতে আজও সালমানের নামে একটি স্থাপনার নামকরণ পর্যন্ত হয়নি। এফডিসি কর্তৃপক্ষ আর চলচ্চিত্রকারদের আশ্বাসকে বিশ্বাস করে কাটছে সালমানের দর্শক-ভক্তের অগণিত দিন। অভিনেতা জসিম এবং মান্নার মৃত্যুর পর দুটি স্থাপনার নাম এ দুজনের নামে করা হয়েছে। কোনো সরকার আজ পর্যন্ত মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন দূরে থাক, তাকে কালজয়ী অভিনেতা হিসেবে জাতীয়ভাবে মরণোত্তর স্বীকৃতি পর্যন্ত দেয়নি।

এটি সালমানের শোকাহত মা এবং তার দর্শক-ভক্তদের চরম ক্ষোভের জিজ্ঞাসা, প্রাণের দাবি। তাদের সন্দেহ, এ দাবি কি পূরণ হবে? ২০টি বছর তো নিশ্চুপভাবে পার হয়ে গেছে।

মাত্র ৪ বছরের অভিনয় জীবনে ২৭টি ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রই উপহার দেননি সালমান, বেশ কিছু দর্শকপ্রিয় নাটক, টেলিফিল্ম এবং বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে মানসম্মত কাজ করে গেছেন সাফল্যের এই বরপুত্র। দুটি চলচ্চিত্রে শ্রুতিমধুর গানও গেয়েছেন। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মহান মুক্তিযুদ্ধের বছর সিলেটে জন্ম নেওয়া এই মহানায়কের মৃত্যুর রহস্যের জট একদিন খুলবেই। এ প্রত্যাশায় পুরো জাতি প্রতিক্ষায় এখনো। হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর পুণ্যভূমি সিলেটে বেদনার জমিনে চিরদিনের মতো ঘুমিয়ে আছে সালমান। সাফল্যের বরপুত্র সালমান শাহ তুমি দুঃখ কর না, কোটি হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকবে তুমি। তোমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি আমরা।

এক নজরে সালমান শাহ

আসল নাম : চৌধুরী সালমান শাহরিয়ার ইমন

জন্ম : ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১, রবিবার

বাবা : কমর উদ্দিন চৌধুরী

মা : নীলা চৌধুরী

স্ত্রী : সামিরা

উচ্চতা : ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি

রাশি : বৃশ্চিক

প্রথম চলচ্চিত্র : কেয়ামত থেকে কেয়ামত

শেষ ছবি : বুকের ভেতর আগুন

প্রথম নায়িকা : মৌসুমী

সর্বাধিক ছবির নায়িকা : শাবনূর (১৪টি)

মোট ছবি : ২৭টি

বিজ্ঞাপনচিত্র : মিল্ক ভিটা, জাগুরার, কেডস, গোল্ড স্টার টি, কোকাকোলা, ফানটা।

ধারাবাহিক নাটক : পাথর সময়, ইতিকথা

একক নাটক : আকাশছোঁয়া, দোয়েল, সব পাখি ঘরে ফেরে, সৈকতে সারস, নয়ন, স্বপ্নের পৃথিবী।

মৃত্য : ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬, শুক্রবার

 

ছবির নাম : ছবি মুক্তির তারিখ

কেয়ামত থেকে কেয়ামত : ১৯৯৩ সালের ২৫ মার্চ

তুমি আমার : ১৯৯৪ সালের ২২ মে

অন্তরে অন্তরে : ১৯৯৪ সালের ১০ জুন

সুজন সখী : ১৯৯৪ সালের ১২ আগস্ট

বিক্ষোভ : ১৯৯৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর

স্নেহ : ১৯৯৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর

প্রেমযুদ্ধ : ১৯৯৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর

কন্যাদান : ১৯৯৫ সালের ৩ মার্চ

দেনমোহর : ১৯৯৫ সালের ৩ মার্চ

স্বপ্নের ঠিকানা  : ১৯৯৫ সালের ১১ মে

আঞ্জুমান : ১৯৯৫ সালের ১৮ আগস্ট

মহামিলন : ১৯৯৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর

আশা ভালোবাসা : ১৯৯৫ সালের ১ ডিসেম্বর

বিচার হবে : ১৯৯৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি

এই ঘর এই সংসার : ১৯৯৬ সালের ৫ এপ্রিল

প্রিয়জন : ১৯৯৬ সালের ১৪ জুন

তোমাকে চাই : ১৯৯৬ সালের ২১ জুন

স্বপ্নের পৃথিবী : ১৯৯৬ সালের ১২ জুলাই

সত্যের মৃত্যু নেই : ১৯৯৬ সালের ৪ অক্টোবর

জীবন সংসার : ১৯৯৬ সালের ১৮ অক্টোবর

মায়ের অধিকার : ১৯৯৬ সালের ৬ ডিসেম্বর

চাওয়া থেকে পাওয়া : ১৯৯৬ সালের ২০ ডিসেম্বর

প্রেম পিয়াসী : ১৯৯৭ সালের ১৮ এপ্রিল

স্বপ্নের নায়ক : ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই

শুধু তুমি : ১৯৯৭ সালের ১৮ জুলাই

আনন্দ অশ্রু : ১৯৯৭ সালের ১ আগস্ট

বুকের ভেতর আগুন : ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর

এই পাতার আরো খবর
up-arrow