Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১০
টিএসসিতে হচ্ছে সাংস্কৃতিক বলয়
সাংস্কৃতিক আন্দোলন দিয়ে জাতিসত্তা ও জাতীয়তাবাদের সঠিক পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে টিএসসিকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শুরু থেকেই এগিয়ে যায় সৃজনশীল ও শৈল্পিকভাবে।
মোস্তফা মতিহার

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র)। রাজনৈতিক আন্দোলনের সহযাত্রী হিসেবে টিএসসির সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দেশের ক্রান্তিকালে এগিয়ে এসেছে ইতিবাচকভাবে।

১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় ৪৭ বছর পর ১৯৬৮ সালে (আনুমানিক ) প্রতিষ্ঠিত হয় টিএসসি। স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে সব আন্দোলনের নেপথ্যে টিএসসির ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। সাংস্কৃতিক পরিচয়ের মধ্য দিয়ে একটি জাতির পরিচয় গড়ে উঠে বলে স্বাধীনতা-পরবর্তী  সংস্কৃতির লালনে এগিয়ে যায় টিএসসি। মধুর ক্যান্টিন যেমন ছাত্র আন্দোলনের সূতিকাগার হিসেবে কাজ করে ঠিক তেমনিভাবে টিএসসিও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ভূমিকা পালন করছে।

সাংস্কৃতিক আন্দোলন দিয়ে জাতিসত্তা ও জাতীয়তাবাদের সঠিক পরিচয় ফুটিয়ে তুলতে টিএসসিকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো শুরু থেকেই এগিয়ে যায় সৃজনশীল ও শৈল্পিকভাবে। টিএসসির প্রথম পরিচালক এ জেড খানের (আমানুজ্জামান খান) পৃষ্ঠপোষকতা ও আন্তরিক সহযোগিতার ফলে অল্প সময়েই ব্যাপক বিস্তার ঘটে টিএসসির সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের। স্বাধীনতা-পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হলেও ’৫২ ভাষা আন্দোলনের পর ’৫৬ সালে গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ। আর এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) কার্যক্রম শুরু করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। আবৃত্তি, নাটক, নাচ ও গানের সংগঠন মিলিয়ে প্রায় ৫০টির অধিক সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সমৃদ্ধ এই প্রতিষ্ঠানে।

মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে নাট্যচক্র, আরণ্যক, ঢাকা পদাতিক ও ঢাকা থিয়েটার নাট্যচর্চা শুরু করে এখানে। ওই সময়ে দেশের নাট্যাঙ্গনে নাটকের এই দলগুলো নিজেদের মেলে ধরে সৃজনশীল ও নান্দনিকভাবে। সত্তর দশকে নাটকের দল প্রতিষ্ঠার পর আশির দশকে আবৃত্তি সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করে টিএসসিকে কেন্দ্র করে।

সাগর লোহানী, নাঈমুল ইসলাম খান, আলী রিয়াজ ও আমানউদ্দৌলা এই চারজন মিলে ’৮৩-তে গঠন করেন আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বরশ্রুতি’। এর পরের বছর ওয়াহিদুল হক, নরেন বিশ্বাস, মীর বরকত, বিপ্লব বালা ও গোলাম সারোয়ার মিলে প্রতিষ্ঠা করেন আবৃত্তি সংগঠন ‘কণ্ঠশীলন’। আর এই সংগঠনটিই বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় আবৃত্তি সংগঠনের আসনে আসীন হয়েছে। কণ্ঠশীলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রশিক্ষক মীর বরকত বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, টিএসসিতে প্রতিষ্ঠা হলেও কণ্ঠশীলনের কার্যক্রম বর্তমানে তারা সারা দেশেই ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বাচিক ও আঙ্গিক আবৃত্তির ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন জেলাতে কণ্ঠশীলন প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। টিএসসিকেন্দ্রিক সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট অভিভাবক সংগঠন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে দেশজ সংস্কৃতির ধারক-বাহক হিসেবে আন্তরিকভাবে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।

টিএসসিকেন্দ্রিক সংস্কৃতি চর্চার নানা দিক সম্বন্ধে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, এই টিএসসিতে প্রায় ৫০টির অধিক সংগঠন রয়েছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী থেকে এই সংগঠনগুলো দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি আরও বলেন, শুধু তাই নয় শিল্প ও সংস্কৃতির লালনে ও পৃষ্ঠপোষকতায় টিএসসির সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো যে ধরনের ভূমিকা পালন করছে নিঃসন্দেহে তা দেশজ সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অসামান্য। সংগঠনগুলোর ৪-৫টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত এবং বাকি সবই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত। বর্তমানে নানা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়েই টিএসসির সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এগিয়ে যাচ্ছে এমন কথাই জানালেন সংস্কৃতি চর্চায় নিবেদিত এই এলাকার বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। আবৃত্তি, নাচ, গান ও নাটক মিলিয়ে টিএসসিতে যে সংগঠনগুলো বিগত কয়েক দশক ধরে সংস্কৃতি চর্চা করে যাচ্ছে সেগুলোর মধ্যে আবৃত্তি সংগঠনগুলো হলো- বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ, কণ্ঠশীলন, স্বরশ্রুতি, চারুবাক, চারুকণ্ঠ, প্রজন্ম কণ্ঠ, স্রোত বৈকুণ্ঠ, মুক্তধারা ইত্যাদি। সংগীতের সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, বহ্নিশিখা, স্ব-ভূমি, বঙ্গবন্ধু শিল্পীগোষ্ঠী, রৌদ্র করোটি ইত্যাদি। নাটকের দলের মধ্যে রয়েছে ঢাকা পদাতিক, পদাতিক নাট্য সংসদ টিএসসি, লোক নাট্যদল টিএসসি, দৃষ্টিপাত নাট্য সংসদ, দৃষ্টিপাত নাট্যদল ইত্যাদি।

এছাড়া আরও রয়েছে সব সাংস্কৃতিক সংগঠনের অভিভাবক সংগঠন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয় কবিতা পরিষদ, পথনাটক পরিষদ ইত্যাদি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow