Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:৪৭
মুখ খুললেন অপু বিশ্বাস
“আমাকে আমার মতো থাকতে দিন”
আলাউদ্দীন মাজিদ
“আমাকে আমার মতো থাকতে দিন”

মুখ খুললেন নায়িকা অপু বিশ্বাস। শনিবার বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘খোঁজ মিলল অপুর, শাকিবের গোপন কথা ফাঁস’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। খবরটি চলচ্চিত্র জগৎসহ সর্বস্তরের পাঠকের মধ্যে দারুণ সাড়া জাগায়। বলতে গেলে চায়ের কাপে ঝড় ওঠে। আর এই আলোড়নের ঢেউ গিয়ে আছড়ে পড়ে অপু বিশ্বাসের আঙ্গিনায়।

রবিবার সকাল ১১টা বেজে ২৭ মিনিট। অন্য আট-দশদিনের মতোই কাজ শুরু করেছি মাত্র। তখনই একটা ফোনকল। ওপার থেকে বলা হলো ‘আমি অপু বিশ্বাস বলছি’। মিথ্যা নয়, সত্যি অপু কল করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা অপু মুখ খুললেন। প্রকাশিত সংবাদ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে চলে দীর্ঘ আলাপচারিতা।

অপুর এক ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবর প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি অপু। তিনি বলেন, ‘আমি এখন নিজের মতো আছি, এমনই থাকতে চাই, আমাকে আমার মতো থাকতে দিন।’ তার কাছে জানতে চাওয়া হয় দীর্ঘ এই আড়ালের কারণ কি সত্যিই শাকিব খান? এর জবাবে তিনি বলেন, ‘দেখুন শাকিব আর আমি সফল পর্দা জুটি। অন্তত এ কারণে হলেও আমাদের সম্পর্কটা খুবই মজবুত। আর গভীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে মান-অভিমান বাড়ে। কথায় কথায় খুনসুটি লতিয়ে ওঠে। আমাদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এ কারণে হয়তো এখন আমরা একজনের কাছ থেকে আরেকজন দূরে আছি, তবে তা চিরদিনের মতো নয়।’ শাকিবের সঙ্গে বিয়ের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান অপু। অপুর ভাষ্যমতে প্রত্যেকেরই একটি ব্যক্তিগত জীবন থাকে। রুপালি পর্দার মানুষ হলেও তারাও মানুষ। আর সে কারণেই তাদের জীবনেও এমন কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো খুবই ব্যক্তিগত। ফলে এ সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি অপু।

এখন অপুর মনের অবস্থা কেমন? এই উত্তরটাও এড়িয়ে গেলেন অপু। শুধু বললেন ‘ভালো-মন্দ মিলিয়েই চলছে সব। একটা কথা কী কাছের মানুষ দুঃখ দিলে আঘাতটা বড় বেশি মনে লাগে। তবে বেলা শেষে সূর্য আর ধরনী একসঙ্গে মিশে গেলে মুহূর্তেই সব কষ্ট উবে যায়। নালিশ করার মতো কিছু থাকে না। আমার বিশ্বাস আমার ক্ষেত্রেও তাই হবে।’ কথাগুলো বলতে গিয়ে খানিকটা জড়িয়ে যাচ্ছিলেন অপু। পরিস্থিতি সহজ করতে এখনকার ব্যস্ততা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয় তার কাছে। জবাবে তিনি বলেন ‘এখন আমি পূজা অর্চনা করি, সামনে দুর্গাপূজা। পরিবারের সবাই মিলে মাকে বরণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। হৃদয়ের পোড়া ঘা টা ব্যস্ততা দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করছি। আবারও বলছি শত জ্বালা সয়ে এখনো বেশ আছি। এর বেশি কিছু বলতে চাই না। আপাতত আড়ালেই থাকতে চাই, নিজের মতো করে।’

ঘুরেফিরে বার বার শাকিবের প্রসঙ্গই চলে আসে। তবে শাকিব বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ অপু। জানতে চাওয়া হয় এ মুহূর্তে শাকিবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ কোনটি। অপুর সোজা জবাব। ‘না তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আমি জানি সে খুব ভালো মানুষ। অনেক সহজ সরল। তাই সহজেই বোকামি করে বসে। এখনো তাই হয়েছে। দিনশেষে যখন হিসাব কষতে বসে তখন ফলাফলটা তাকে আবার সঠিক পথে নিয়ে আসে। শাকিব-অপু সফল জুটি। সব হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে আমরা একসময় তো ঘরেই ফিরব। তাই লক্ষ্য রাখতে হবে অসতর্কতার আগুনে সেই ঘর যেন পুড়ে না যায়।’ কথা প্রসঙ্গে নিজের সম্পর্কেও নতুন করে মূল্যায়ন করেন অপু। ‘আমি খুব সাধারণ একটি মেয়ে। কখনো নিজেকে জনপ্রিয় নায়িকা মনে করি না। আমার চাওয়া-পাওয়াটাও খুব সাধারণ। মাস শেষে ৫০ হাজার টাকা হলেই চলে। বেশি কিছু চাই না। মানসম্মান নিয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারলেই হলো। আসলে কি জানেন, আমি খুব সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করে ফেলি। তাই কষ্টটাও পাই বেশি। আর কষ্ট পেতে পেতে এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি এখন নিঃশ্বাসটা বন্ধ হয়ে আসছে। বলতে পারেন জীবনে অনেক হারিয়েছি। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার জন্য এখন খুব কঠিন হয়ে পড়ে। মেয়ে মানুষ হয়ে জন্মেছি বলে নিজের ওপর মাঝে মাঝে খুব রাগ হয়। মেয়ে না হলে ভাগ্যটা মনে হয় এমন মন্দ হতো না। আর যদি এমন মেয়ে হতাম যা খুশি করে বেড়াতাম, শাসন-বারণ শুনতাম না। তাহলে দুঃখ ছিল না। সব কষ্ট সহজে মেনে নিতে পারতাম।’ আবেগে আপ্লুত হয়ে অপু আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় আমি নায়িকা হওয়ার যোগ্য নই। কারণ নায়িকারা তো এমন হিসাব করে চলে না। এত ভালো থাকার পরিণতি যদি শুধুই দুঃখ পাওয়া হয়, তাহলে তাই মেনে নিয়ে ভালো পথেই এগিয়ে যাব। কোনো দিন বিপথে পা বাড়াব না। ভালো আছি বলেই এখনো মায়ের পাশে ঘুমাতে পারি। আত্মীয়স্বজনরা গর্ব করে বলে বড় পর্দায় কাজ করেও যে এত ভালো থাকা যায় তা শুধু অপুর কাছ থেকেই শেখার আছে। সবার কাছে ভালো মানুষের উদাহরণ হিসেবে নিজেকে দাঁড় করাতে পারছি এটিই আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি। আর কিছু চাই না।’ কখন ফিরছেন তিনি? ক্যামেরার সামনেই বা দাঁড়াবেন কবে? অপু বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি পারা যায় সেই চেষ্টাই করছি। তারপর আবার বসন্তের রোদেলা সকাল আর হেমন্তের সুন্দর বিকালের পথ ধরে চিরসুখের পথে হেঁটে যাব।’

অপুর ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীরা তার অপেক্ষায় আছেন। সবার প্রত্যাশা অপুর স্বপ্ন দ্রুতই পূর্ণতা পাবে। আবার তিনি ফিরবেন চেনা আঙ্গিনায়, লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের ভুবনে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow