Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:২৩
আন্তর্জাতিক বাজারে ঢাকাই ছবির বাণিজ্যিক মুক্তিতে করণীয়
আন্তর্জাতিক বাজারে ঢাকাই ছবির বাণিজ্যিক মুক্তিতে করণীয়

বাণিজ্যিকভাবে ঢাকাই ছবির আন্তর্জাতিক মুক্তির প্রসার এখনো ঘটেনি। মাঝেমধ্যে কয়েকটি ছবি বিদেশে প্রদর্শিত হলেও তা শুধুই উৎসবকেন্দ্রিক। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, মানসম্পন্ন ছবি নির্মাণ না হওয়াসহ নানা কারণকে এর জন্য চিহ্নিত করেছেন চলচ্চিত্র ব্যবসায়ীরা। কীভাবে বিদেশে বাংলাদেশি ছবির বাজার সম্প্রসারণ করা যায় সে বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেছেন তারা। তাদের সুচিন্তিত মত তুলে ধরেছেন— আলাউদ্দীন মাজিদ

 

এ কে এম জাহাঙ্গীর খান

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি ছবির মুক্তি বাড়াতে প্রথমেই চলচ্চিত্র ব্যবসায়ীদের যথাযথ ও সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিশ্বমানের ছবি নির্মাণ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন টিমওয়ার্কের। চ্যানেল আই তাদের নির্মিত ছবি বিদেশে প্রদর্শন করছে। অন্যরাও চাইলে সহজে তা করতে পারে। এ জন্য সার্বিকভাবে মানকে প্রাধান্য দিতে হবে। এরপর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূরীকরণে সোচ্চার হতে হবে। বিদেশে ছবি রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকার যদি স্বল্প সময়ে  ক্রীড়াঙ্গনকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে সফল হতে পারে তবে চলচ্চিত্রের মতো একটি প্রধান গণমাধ্যমকে কেন সহযোগিতা দিতে পারবে না।

কাজী ফিরোজ রশীদ

চলচ্চিত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রথমেই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে হবে। বিশ্ব এখন উন্মুক্ত। তাই উন্মুক্ত বিশ্বে আমাদের ছবির অবাধ বিচরণ নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই। না হলে এ দেশের সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক বিকাশ সম্ভব নয়। এরপরই কোয়ালিটির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ছবি নির্মাণের জন্য যে অনুদান দিচ্ছে সেই স্বল্প অর্থ দিয়ে আর্ট ফিল্ম নির্মাণ হয়। যা দর্শক দেখে না। সিনেমা হল কমে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় নির্মাতারা মানসম্মত ছবি নির্মাণ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় সরকার যদি এ দেশের ছবি আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্যিকভাবে মুক্তির পথ প্রশস্ত করে দেয় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ঢাকার ছবির মান বাড়বে। একই সঙ্গে যারা ছবি ব্যবসা ও আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত তাদেরকেই এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে হবে। সেন্সর বোর্ডে যেমন অযোগ্য লোক বসিয়ে ছবির মান নষ্ট করা হচ্ছে এক্ষেত্রেও তা করা হলে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।

কাজী হায়াৎ

বাণিজ্যিকভাবে বিদেশে ছবি মুক্তির ক্ষেত্রে রয়েছে পদে পদে প্রতিবন্ধকতা। আমদানি-রপ্তানি দফতর তারপর তথ্য মন্ত্রণালয় আবার এফডিসি এমন করে বিভিন্ন অফিসে ঘুরতে হয়। তারপরও অনুমতি মেলে না। এই তিক্ত অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। এই সমস্যা প্রথমেই দূর করতে হবে সরকারকে। চলচ্চিত্র রপ্তানির জন্য নিয়মকানুন সহজ করে দিয়ে একটি মাত্র অফিসের মাধ্যমে তা ছাড়ের ব্যবস্থা করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা সমূলে উত্পাটন করতে হবে। আমাদের ছবি যদি বিদেশে নিয়মিত রপ্তানি করা যায় তাহলে পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষী দর্শকরা তা দেখবে, বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে এবং তা দিয়ে চলচ্চিত্রশিল্পের উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।

ইফতেখার নওশাদ

বিশ্বে আমাদের ছবির বাণিজ্যিক মুক্তি সম্প্রসারণে সঠিকভাবে লিয়াজোঁর ব্যবস্থা করতে হবে। নিজেদের ছবি নিজেদের রপ্তানি করলে লাভ হবে না। মার্কেটিং ব্যবস্থাও প্রপারলি হতে হবে। প্রয়োজনে যথাযথ মার্কেটিংয়ের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করে দিতে পারে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে হবে। এককথায় সরকারকে এ ক্ষেত্রে খুবই সিরিয়াস হতে হবে। এক্ষেত্রে সফল হতে পারলে বিদেশে আমাদের ছবির বাজার তৈরি ও এই খাতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সহজ হবে।

সুদীপ্ত কুমার দাস

চলচ্চিত্র রপ্তানির আগে ভারতসহ বিদেশে আমাদের টিভি চ্যানেলে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে আমাদের শিল্পীদের পরিচিতির অভাবে এ দেশের ছবি বিশ্বের কোথাও চলবে না। বিদেশি পরিবেশকরা আমাদের ছবি নিতেও চাইবে না। ভারত ও হলিউডের ছবি বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক সফলতা পাওয়ার কারণ হচ্ছে তাদের টিভি চ্যানেল বিশ্বজুড়ে প্রচার হচ্ছে। চ্যানেলে তাদের শিল্পীদের দেখে মানুষ তাদের চিনতে পারছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে আগে ভারত-বাংলাদেশ টিভি চ্যানেল সমহারে প্রচার ও দুই দেশের চলচ্চিত্র বিনিময় সঠিক নীতিমালায় হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। বেশ কিছুদিন আগে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছিলাম তারা যেন কলকাতার নন্দন মাল্টিপ্লেক্স ও ডিডি বাংলায় আমাদের কালজয়ী ছবিগুলো প্রদর্শন করে। এতে আমাদের ছবি ও শিল্পীর পরিচিত বাড়বে এবং বাণিজ্যিক মুক্তি সহজ হবে। কিন্তু তারা আমাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। আরেকটি বিষয় হলো পাইরেসি রোধ করতে হবে। না হলে ব্যবসায়িক সুফল লাভ সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর ও চলচ্চিত্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। তবেই আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের ছবির বাণিজ্যিক মুক্তির পথ সুগম হবে।

আবদুল আজিজ

আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের ছবির বাণিজ্যিক প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন অ্যাম্বাসি ও সরকারের সহযোগিতা খুবই জরুরি। বর্তমানে এ দেশে মানসম্মত ছবি নির্মাণ হচ্ছে। বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। তবে তা ব্যক্তিগতভাবে হওয়াতে আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্যিক মুক্তি সত্যিকার অর্থে সম্প্রসারণ হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ডিস্ট্রিবিউটর খুব জরুরি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও দূর করতে হবে। তবেই বিদেশে আমাদের ছবির বাণিজ্যিক মুক্তি সুগম হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow