Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:২৫
আমার ভালোলাগা ভালোবাসা অভিনয়কে ঘিরেই
শোবিজ প্রতিবেদক
আমার ভালোলাগা ভালোবাসা অভিনয়কে ঘিরেই

বর্তমানে দিনাজপুরে আছেন তারিন। নজরুল ইসলাম রাজু পরিচালিত নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘সানফ্লাওয়ার-এর শুটিংয়ে। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। নাটক ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে আজ তারিনের সাক্ষাৎকার—

 

নতুন ধারাবাহিক প্রসঙ্গে জানতে চাচ্ছিলাম।

নজরুল ইসলাম রাজু ভাইয়ের নির্দেশনায় এর আগেও কাজ করেছি। খুবই গোছানো ইউনিট তার। সবচেয়ে বড় কথা তার নাটকে একজন শিল্পীই নির্দেশক, যে কারণে একজন শিল্পী অনেকটাই চিন্তামুক্ত থাকতে পারেন। অন্যদিকে অপূর্বর সঙ্গে আমি এত নাটকে অভিনয় করেছি যে, তাকে আমি আমার পরিবারেরই একজন সদস্য মনে করি। আমার পরিবারও তাই ভাবে। তার সন্তান আয়াশ আমার ভীষণ আদরের। অপূর্বর অভিনয়ে উত্থানটা আমার নিজের চোখে দেখা। যে কারণে একজন সহকর্মী হিসেবে তার আজকের অবস্থান আমাকে সব সময়ই মুগ্ধ করে। নতুন ধারাবাহিকে আমার চরিত্রটিতে অভিনয় করতে গিয়ে আমার বাবার চাকরি জীবনের কথা মনে পড়ে। কারণ আমার বাবা একজন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।

এক বছরের বেশি সময় পর অপূর্বর সঙ্গে অভিনয় করেছেন। সর্বশেষ কোন কাজটি ছিল আপনাদের দুজনের?

গত বছর ঈদুল ফিতরে এস এ হক অলিক নির্দেশিত ‘বন্ধু তুমি বন্ধু আমার’ নাটকে অভিনয় করেছিলাম। এরপর দুজনের নানা ব্যস্ততায় আর একসঙ্গে কাজ করা হয়ে ওঠেনি। তবে নতুন এই ধারাবাহিকের গল্প এবং লোকেশনে বিচিত্রতা পাবেন দর্শক। আমার চরিত্রেও ভিন্নতা পাবেন দর্শক।  

কিছুদিন আগে শহীদুজ্জামান সেলিমের নির্দেশনায় ‘দু ফোঁটা সমুদ্র’ টেলিফিল্মে অভিনয় করেছিলেন। এর প্রচারের পর সাড়া কেমন পেলেন?

প্যাকেজে আমার প্রথম নাটকের সহশিল্পী সেলিম ভাই। সেই সময় সেলিম ভাই এবং হাকিম ভাই আমাকে মানসিকভাবে যেভাবে উৎসাহ দিয়েছিলেন তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তাদের কারণেই অভিনয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছি। সেলিম ভাইয়ের বিপরীতে কিংবা সেলিম ভাইয়ের নির্দেশনায় অনেক নাটকে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। আমার ক্যারিয়ারকে অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে যেতে সেলিম ভাইয়ের নির্দেশিত কাজগুলো অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। যে কারণে তিনি যখনই আমাকে কোনো নাটকে বা টেলিফিল্মে কাজ করার প্রস্তাব দেন আমি চোখ বন্ধ করেই হ্যাঁ বলি। তিনি এমনই একজন নির্মাতা যিনি জেনেবুঝে কাজ করেন। টেলিফিল্মটি প্রচারের পর বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। এমন ভালো কাজের সঙ্গেই নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চাই সবসময়।

বেশ কয়েক বছর ধরে অপূর্বর সঙ্গেই জুটিবদ্ধ হয়ে আপনি বেশি কাজ করেছেন। এটা কি শুধুই নির্মাতার আগ্রহেই?

শুধু নির্মাতাদের আগ্রহ থাকলেই কি চলে? চলে না। দর্শকেরই যদি ‘তারিন-অপূর্ব’ জুটির প্রতি আগ্রহ না থাকে তাহলে তো একজন পরিচালকও আমাকে আর অপূর্বকে নিয়ে নাটক নির্মাণ করবেন না। আসলে আমার এবং অপূর্বর মধ্যে কাজের রসায়নটা অনেক চমৎকার। এটা বার বার টিভি পর্দায় প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের জুটির অভিনীত নাটকের মধ্যে ‘এসো হাত ধরো’, ‘আঁচড়’, ‘ঘাসফুল’, ‘ফুলের মতো নাম’, ‘ফুলের বয়স’, ‘নির্ঝরিনী’ ‘নূপুর’, ‘ধ্রুবতারা’, ‘তোমার পরে ঠেকাই মাথা’, ‘হিপোক্রেট’, ‘শ্বেতপায়রা’ ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে শুধুই অপূর্বর বিপরীতে কাজ করছি এমনটাও নয়। ইন্তেখাব দিনার, সজল, আজাদ আবুল কালাম, তৌকীর আহমেদসহ আরও অনেকের বিপরীতেই কাজ করছি আমি। সেসব নাটকও বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে।

এরই মধ্যে নতুন কয়েকটি বিজ্ঞাপনেও কাজ করেছেন আপনি।

বেশ কয়েক বছর আগে রানা মাসুদের নির্দেশনায় একটি চা কোম্পানির বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছিলাম। বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি এবং এখনো পাচ্ছি। কিছুদিন আগে হাতিল, বেক্সি ফেব্রিকসেরও বিজ্ঞাপনে মডেল হয়েছি। এগুলোও প্রচারের পর বেশ সাড়া পেয়েছি। তবে আমি যাই করি না কেন আমার ভালোলাগা ভালোবাসা অভিনয়কে ঘিরেই। যে কারণে অভিনয় করতেই আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি বেশি। কারণ আমার আজকের অবস্থানে আসার পেছনে আমার অভিনয়েই ভূমিকা অনেক বেশি।

গত ঈদে দুটি চ্যানেলে নাচের অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। কেমন লাগল?

একটি আরটিভিতে এবং অন্যটি এসএ টিভিতে। দুটি চ্যানেলেরই আগ্রহে আসলে আমার একক নৃত্যানুষ্ঠান করা। দুটি চ্যানেলেরই আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়েছি আমি।

up-arrow