Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০১
‘চুরি তো জেনে বুঝে করিনি’
শোবিজ প্রতিবেদক
‘চুরি তো জেনে বুঝে করিনি’
জয়া আহসান

পূজার বাকি আর মাত্র কিছু দিন। আর এই পূজাকে ঘিরে হিন্দু-মুসলিম অনেকের অনেক মজার মজার অভিজ্ঞতা আছে।

তেমনি পূজাকে ঘিরে জয়া আহসানের মজার কিছু স্মৃতি তুলে ধরেছে কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকা। পাঠকদের জন্য আমরা তা তুলে ধরলাম। ‘তখন আমার নয়। তখন আমার ফোর। ক্লাস ফোর। হোস্টেলে থাকতাম। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিমা বোধহয় সেখানেই হয়। না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না। কত বড় ঠাকুরকৃত বড় পূজা। ঢাকা থেকে অনেকটা দূরের সেই জায়গায় হোস্টেলে কেটেছে আমার মেয়েবেলা।

হোস্টেল মানে তো বুঝতেই পারছেন। বড়দের দিদিগিরি চলত পুরোদমে। এইট, নাইনের মেয়েরা আমাদের মানে ছোটদের চেলা বানাত। চেলা বুঝলেন তো? ওরা অর্ডার করবে, আর আমরা ওদের ফাইফরমাশ খাটব। ছোট ছিলাম, অত তো বুঝতাম না। দিদিরা যা বলত চুপচাপ করে দিতাম। আর আমাকে দেখেও বেশ ইনোসেন্ট মনে হতো সবার। আমাকে দিয়ে সে সময় কি কি করাত, সেসব গল্পই বলব আপনাদের।

পূজার সময় হোস্টেলের দিদিরা আমাকে দিয়ে চুরিও করিয়েছেন। হ্যাঁ, চুরি। আমাকে দিয়ে ঠাকুরের ভোগ চুরি করাতেন। ফল, মিষ্টি, অন্নভোগ যা দেওয়া হতো ঠাকুরকে, তাই চুরি করতে বলতেন। আর আমি করতাম কি, তাদের কথা শুনে ওই সব খাবার চুরি করতাম। আমরা কয়েক জন বন্ধু মিলে চেলাগিরি করতে গিয়ে ওই সব করতাম।

তখন তো স্কার্ট পরতাম। স্কার্টের কোঁচড়ে করে নিয়ে আসতাম ফল-মিষ্টি। হোস্টেলের দিদিদের কথামতো সব এনে দিতাম। আমি কিন্তু বাদ যেতাম না। ওসবের ভাগ আমিও পেতাম তো। ওটাই আনন্দ ছিল। চুরি তো জেনে-বুঝে করিনি। তবে ওভাবে ভোগ খাওয়ার অন্য মজা ছিল।

আমাদের হোস্টেলের পাশেই একটা নদী ছিল। নামটা ঠিক মনে পড়ছে না। তবে পূজার সময় নৌকো করে ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ আসত ঠাকুর দেখতে। এত মানুষ দেখলে অবাক হতে হয়। পূজার সময় আমরা মানে হোস্টেলের মেয়েরাও সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে ভোগ খেতাম।   আরও ছোট ছিলাম যখন সবার কোলে চড়েই পূজা কেটে যেত। ঈদ, পূজা সব মিলিয়ে এ সময়টা বাংলাদেশে উৎসবের মেজাজ। ছোট থেকেই এমনটা দেখছি আমি। তবে একটা কথা জোর গলায় বলতে পারি, ছোট থেকে আজ পর্যন্ত কখনো মুসলিম বলে দুর্গাপূজায় আনন্দ করতে আমার অসুবিধে হয়নি। মুসলিম বলে দুর্গাপূজায় দাওয়াত পাইনি এমন হয়নি। আমার স্মৃতির পূজাতে তো বটেই, এখনো হিন্দু-মুসলিমে কোনো ভাগ নেই। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow