Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২১
মঞ্চনাটকে তারুণ্যের দাপট
মঞ্চনাটকে তারুণ্যের দাপট

মঞ্চের মাধ্যমেই একজন শিল্পী অভিনয়ের আঙিনায় নিজেকে বিকশিত করেন। মঞ্চ শুধু অভিনয়ই শেখায় না, একজন শিল্পীকে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলাও শেখায়। যার কারণেই মঞ্চকে বলা হয়ে থাকে অভিনয়ের পাঠশালা। অভিনয়ের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মঞ্চ একজন শিল্পীকে আত্মবিশ্বাসীও করে তোলে। মূলত মঞ্চই একজন শিল্পীর ভিত্তি তৈরি করে দেয়। বর্তমানের তারকা শিল্পীদের প্রায় সবাই মঞ্চ থেকেই নিজেদের শোবিজের ঝলমলে ভুবনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। বর্তমানে মঞ্চে দাপটের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন কিছু তরুণ অভিনেতা-অভিনেত্রী। তাদের কথা তুলে ধরেছেন— মোস্তফা মতিহার

 

হৃদি হক

টিভি নাটকে অভিনয় ও নির্দেশনার পাশাপাশি মঞ্চেও নিজের নান্দনিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন নাগরিক নাট্যাঙ্গনের হৃদি হক। দলের নতুন নাটক ‘গহর বাদশা ও বানেছা পরী’র বানেছা চরিত্রটির মাধ্যমে হৃদি মঞ্চের ভুবনে নিজেকে ভিন্নভাবে মেলে ধরেছেন। টেলিভিশনের নাটক রচনা ও নির্দেশনার পাশাপাশি মঞ্চেও যে তিনি সফল নাগরিক নাট্যাঙ্গনের ‘গহর বাদশা ও বানেছা পরী’ই তার একমাত্র প্রমাণ। টিভি নাটকে শত ব্যস্ততার মধ্যেও দলের নিয়মিত প্রযোজনার নাটকগুলোতেও নিয়মিত কাজ করছেন হৃদি হক।

 

রাশেদ শাওন

থিয়েটারের ‘মায়ানদী’ নাটকটিতে ত্রপা মজুমদারের সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয়ে ইতিমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন রাশেদ শাওন। এটি মঞ্চের অন্যতম শীর্ষ জনপ্রিয় একটি নাটক। ২০০৮ সালে থিয়েটার স্কুলের হয়ে মঞ্চাভিনয়ে তার পথচলা শুরু হয়। এরপর যুক্ত হন থিয়েটারের সঙ্গে। এরপর থেকে দলের নিয়মিত প্রযোজনার নাটক বারামখানা’, ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, মুক্তি’ ইত্যাদি নাটকে অভিনয়ের সুবাদে মঞ্চের ব্যস্ত কয়জনের কাতারে নিজেকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন প্রতিশ্রুতিশীল এই মঞ্চাভিনেতা।

মঞ্চের পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকেও নিয়মিত অভিনয় করছেন তিনি। পাখিখ্যাত কলকাতার মধুমিতার সহশিল্পী হিসেবে এবারের ঈদুল আজহায় এনটিভিতে প্রচারিত ‘মেঘবালিকা’ টেলিছবিটি রাশেদ শাওনকে মঞ্চের পাশাপাশি টেলিভিশনের অঙ্গনেও পরিচিত করে তুলেছে।

 

তানজুম আরা পল্লী

১৯৯৬ সালে ফেরদৌসী মজুমদারের নির্দেশনায় ‘মহারাজ’ নাটক দিয়ে মঞ্চের ভুবনে নিজেকে অভিষিক্ত করেন তানজুম আরা পল্লী। এখন পর্যন্ত থিয়েটারের মেরাজ ফকিরের মা, গোলাপবাগান, স্বপ্নগিরি, ছয় বেহারার পালকি, পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, বারামখানা, মুক্তি ইত্যাদি নাটকে অভিনয় করেও মঞ্চাঙ্গনে নিজের বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

 

এ কে আজাদ সেতু

সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটার (সিএটি) এর মাধ্যমে ১৯৯৭ সালে মঞ্চে কাজ শুরু করেন সময়ের দাপুটে মঞ্চাভিনেতা এ কে আজাদ সেতু। ‘বুনোহাঁস,’ নাটক দিয়ে শুরু করে ভেলুয়া সুন্দরী, রাজা, বিক্রমোর্বশী, পীরচান, মেটামরফোসিস, পুতুলের ইতিকথা, মিশন, রেজারেকশন, এম্পুটেশন, দ্য কম্যুনিকেটর, ম্যাকাব্রে, বুকটুর কুয়া, লেডি ফ্রম দ্য সি (নরওয়ে)’ ইত্যাদি নাটকের মধ্য দিয়ে সেতু নিজেকে উন্নীত করেছেন শৈল্পিক শিল্পীর কাতারে।

 

রামিজ রাজু

অভিনয়ের পাশাপাশি নাটকের সংগীতের সঙ্গেও যুক্ত আছেন প্রাঙ্গণেমোর-এর রামিজ রাজু। অসাধারণ অভিনয় প্রতিভার কারণে দলের প্রায় সবকটি নাটকেই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন রামিজ। দলের নিয়মিত প্রযোজনার রক্তকরবী, স্বদেশী, লোকনায়ক, শ্যামাপ্রেম, ঈর্ষা, আওরঙ্গজেব ও শেষের কবিতা’ ইত্যাদি নাটকে অভিনয় করে এদেশের মঞ্চানুরাগীদের নিজের অভিনয় পারঙ্গমতার জানান দিয়েছেন রামিজ রাজু। অভিনয়ের পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘দ্রোহ-প্রেম-নারী’ নাটকটি নির্দেশনার মধ্য দিয়ে নির্দেশকের কাতারেও নিজের নাম লেখান তিনি। এ ছাড়া দলের বাইরে লালজমিন, ইনফরমার, তৃতীয় একজন ও স্বপ্নপথিকসহ বেশকিছু নাটকের সংগীত পরিকল্পনাও করেছেন প্রতিভাবান মঞ্চশিল্পী রামিজ রাজু।

 

শামছি আরা সায়কা

পদাতিক নাট্য সংসদের নিয়মিত প্রযোজনার নাটকের বাইরে সম্প্রতি দলের নতুন একক নাটক ‘গহনযাত্রা’য় একক অভিনয়ের মধ্য দিয়ে পাদপ্রদীপের আলোর নিচে চলে আসেন প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রী শামছি আরা সায়কা। নাটকটিতে একক অভিনয় করার পর নাট্যাঙ্গনে সায়কাকে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনাও শুরু হয়েছে। এ ছাড়া দলের নিয়মিত প্রযোজনার নাটক ‘ম্যাকবেথ’ রথের রশ্মি ইত্যাদি নাটকেও তার অভিনয় প্রশংসার দাবি রাখে।

 

মাসুদ সুমন

সবচেয়ে দর্শকনন্দিত নাটক ‘কঞ্জুস’-এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে লাইমলাইটে চলে এসেছেন লোক নাট্যদল (সিদ্ধেশ্বরী) এর নিয়মিত অভিনয়শিল্পী মাসুদ সুমন। বলা চলে মলিয়েরের ‘দ্য মাইজার’ অবলম্বনের হাসির নাটক ‘কঞ্জুস’ই হচ্ছে সুমনের মঞ্চাভিনয়ের টার্নিং পয়েন্ট। এ ছাড়া দলের নিয়মিত প্রযোজনার অন্য নাটকগুলোতেও নিয়মিত অভিনয় করছেন তিনি।

 

সামিউল জীবন

মহাকালের দর্শকনন্দিত নাটক ‘প্রমিথিউস’-এ  অভিনয় করে দল ও নাট্যাঙ্গনের মানুষদের দ্বারা প্রশংসিত হয়েছেন সামিউল জীবন। ‘প্রমিথিউস’ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র সামিউল জীবনকে নিয়ে এসেছে আলোচনার পাদপ্রদীপে। এ ছাড়া দলের প্রায় সব নাটকের পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকেও নিয়মিত কাজ করছেন তিনি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow