Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:১০
ঢাকাই ছবিতে যা কিছু প্রথম
ঢাকাই ছবিতে যা কিছু প্রথম

ঐতিহ্যে মোড়া আমাদের ঢাকাই ছবি। ঢাকার ছবির রয়েছে সোনালি অতীত। নির্মাতা, অভিনয় শিল্পী, গল্প, গান থেকে শুরু করে এখানকার ছবি একসময় দেশে-বিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগাত। ১৯৫৬ সালে ঢাকায় প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ মুক্তি পেলেও এটি ঢাকার প্রথম ছবি নয়। ঢাকাই ছবিতে যা কিছু প্রথম প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন— আলাউদ্দীন মাজিদ

 

ছবি : দ্য লাস্ট কিস

১৯৩১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য লাস্ট কিস’ ছিল ঢাকার প্রথম ছবি। এটি ছিল নির্বাক ছবি। ছবিটি পরিচালনা করেন অম্বুজ গুপ্ত। এ ছবির দৃশ্যধারণ শুরু হয় ১৯২৯ সালে। ১২ রিলের এই নির্বাক ছবিটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয় ১২ হাজার টাকা। এতে বাংলা, উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় সাব টাইটেল করা হয়। আর ১৯৩১ সালে এটি মুক্তি পায় ঢাকার তৎকালীন মুকুল সিনেমা হলে। এই সিনেমা হলে ছবিটি প্রায় এক মাস চলেছিল। ছবিটির একটি মাত্র প্রিন্ট তৈরি হয়। ছবির নায়ক ছিলেন খাজা আজমল আর নায়িকা লোলিটা ও চারুবালা। ছবিটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছিল ইস্ট বেঙ্গল সিনেমাটোগ্রাফ সোসাইটি।

 

নির্মাতা : অম্বুজ গুপ্ত

ঢাকাই ছবির প্রথম নির্মাতা ছিলেন অম্বুজ গুপ্ত। প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘সুকুমারী’ ও পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি ‘দ্য লাস্ট কিস’ এর নির্মাতা ছিলেন তিনি।

তার বাড়ি ছিল ঢাকার দক্ষিণ বিক্রমপুরের মগর গ্রামে। শৈশব থেকেই ক্রীড়া ও সংস্কৃতিমনা ছিলেন এবং যৌবনে ঢাকার একজন বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়া সংগঠক ও নাট্যনির্মাতা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। খেলা ও নাটকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সূত্রেই নবাববাড়ির সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের ফলশ্রুতিতে নবাবদের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি পরিচালনা করেন ‘সুকুমারী’ ও ‘দ্য লাস্ট কিস’।

 

নায়ক : খাজা আজমল

ঢাকাই ছবির প্রথম নায়ক ছিলেন ঢাকার নবাব পরিবারের সন্তান খাজা আজমল। ‘লাস্ট কিস’ ছবিতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। তিনি ক্রীড়া ও সংস্কৃতিমনা ছিলেন। ১৯৪৯ সালে অনুষ্ঠান ঘোষক হিসেবে ঢাকা বেতারে যোগ দেন। বেতারের অনেক নাটকেও অংশ নেন খাজা আজমল। একসময় অন্য নবাবদের সঙ্গে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। প্রথমে এই ছবির নায়ক হিসেবে খাজা নসরুল্লাকে নির্বাচন করা হয়। পরে তার গররাজিতে কাজী জালালউদ্দিনকে নায়ক করা হয়। তিনিও পরে অভিনয় করতে অপারগতা জানান। শেষ পর্যন্ত খাজা আজমলই নায়ক হন।

 

নায়িকা : লোলিটা

ঢাকাই ছবির প্রথম নায়িকা ছিলেন লোলিটা।

তার আসল নাম বুড়ি। ছবিতে তখন কোনো ভদ্রঘরের মেয়েকে অভিনয়ের জন্য পাওয়া যেত না বলে বাদামতলীর পতিতালয় থেকে বুড়িকে ‘লাস্ট কিস’ ছবির নায়িকা হিসেবে আনা হয়। নাম দেওয়া হয় লোলিটা। তার বয়স ছিল ১৪ বছর। লাস্ট কিস ছবির কাজ শেষ হওয়ার পর লোলিটা আবার তার পূর্ব পেশায় ফিরে যান।

 

সবাক ছবি : মুখ ও মুখোশ

ঢাকার প্রথম সবাক ছবি হলো ‘মুখ ও মুখোশ’। ইকবাল ফিল্মসের ব্যানারে ছবিটি নির্মাণ করেন আবদুল জব্বার খান। এর কাহিনীও লেখেন তিনি। ১৯৫৪ সালে এই ছবির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার রূপমহল এবং চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে এটি মুক্তি পায়। এতে অভিনয় করেন আবদুল জব্বার, পূর্ণিমা সেন, জহরত আরা, পিয়ারি বেগম, আমিনুল হক, সাইফুদ্দিন, গওহর জামিল, ইনাম আহমেদ প্রমুখ।

সিনেমা হল : পিকচার হাউস [শাবিস্তান]

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে আরমেনিয়া স্ট্রিটে প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম সিনেমা হল পিকচার হাউস।  ১৯৫৬ সালে এই সিনেমা হলের মালিক হন মো. মোস্তফা।

তিনি এর নাম বদলে রাখেন শাবিস্তান। ঢাকার প্রথম নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন শুরু হয় এই সিনেমা হলে। হলিউডের গ্রেটা গার্বো  অভিনীত একটি ছবি এখানে প্রথম প্রদর্শিত হয়।

সিনেমাস্কোপ ছবি : বাহানা

ঢাকার প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি হলো ‘বাহানা’। ১৯৬৫ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। উর্দু এই ছবিটি নির্মাণ করেন জহির রায়হান। এতে অভিনয় করেন রহমান, কবরী প্রমুখ। রঙিন এই ছবিটি পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

 

রঙিন ছবি : বাদশা

স্বাধীন দেশে প্রথম রঙিন ছবি নির্মাণ হয় ১৯৭৫ সালে। ছবির শিরোনাম ‘বাদশা’। আকবর কবির পিন্টু নির্মাণ করেন তারকাবহুল এই রঙিন ছবিটি। অভিনয় করেন খসরু, শাবানা, নূতন প্রমুখ। বাদশা দিয়েই শুরু হয় রঙিন ছবির যাত্রা।

 

মুক্তিযুদ্ধের ছবি : ওরা ১১ জন

স্বাধীন দেশে প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি নির্মাণ হয় ১৯৭২ সালে। ‘ওরা ১১ জন’ শিরোনামের এই ছবিটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম। আর প্রযোজনা করেন মাসুদ পারভেজ। এতে সত্যিকারের অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়। ছবিটিতে অভিনয় করেন রাজ্জাক, খসরু, শাবানা, নূতন, সুমিতা দেবী প্রমুখ। ব্যাপক সফলতা পায় ছবিটি।

 

জাতীয় পুরস্কার : ১৯৭৬ সাল

১৯৭৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর ১৯৭৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি এই পুরস্কারের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

১৯৭৬ সালের ৪ এপ্রিল বঙ্গভবনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবু সাদত মোহাম্মদ সায়েম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণ করেন। সেরা ছবির পুরস্কার পায় ‘লাঠিয়াল’। সেরা পরিচালক নারায়ণ ঘোষ মিতা [লাঠিয়াল], সেরা অভিনেতা আনোয়ার হোসেন [লাঠিয়াল], সেরা অভিনেত্রী ববিতা [বাঁদী থেকে বেগম]। সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার লাভ করেন ফারুক। সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী হন রোজী সামাদ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow