Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:০৫
জয়ার আজকাল
বড়পর্দা নিয়েই আপাতত ব্যস্ত থাকতে চাই। তবে ছোটপর্দা হলো আমার ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার জায়গা। সময় পেলে এই অঙ্গনে আবার সরব হব
আলাউদ্দীন মাজিদ
জয়ার আজকাল

জয়া আহসান। টিভি নাটকের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু হলেও বর্তমানে চলচ্চিত্রেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

বড়পর্দায় ‘গেরিলা’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে সাড়া জাগান তিনি। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবিটিতে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। দেশীয় চলচ্চিত্রে সফলতার পাশাপাশি কলকাতায়ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন। পূর্ণদৈর্ঘ্যের পাশাপাশি ‘ভালোবাসার শহর- সিটি অব লাভ’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন কলকাতায়। দেশে আকরাম খান পরিচালিত অনুদানের চলচ্চিত্র ‘খাঁচা’র কাজ শেষ করেছেন সম্প্রতি। একই সঙ্গে কলকাতায় মনোজ মিশিগানের নির্দেশনায় ‘আমি জয় চ্যাটার্জি’ ছবির কাজও প্রায় শেষ। কলকাতায় সর্বশেষ তার অভিনীত অরিন্দম শীল পরিচালিত ‘ঈগলের চোখ’ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেয়েছে গত ১২ আগস্ট। এখন পর্যন্ত দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন জয়া। নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত ‘গেরিলা’ (২০১১) এবং রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালি’ (২০১২) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। দেশীয় চলচ্চিত্রে ২০১০ সালে ‘ডুব সাঁতার’, ‘ফিরে এসো বেহুলা’ ২০১১ সালে ‘গেরিলা’, ‘চোরাবালি’, ২০১৩ সালে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী টু’ ছবিতে অভিনয় করে নায়িকা হিসেবে আলোচনায় ছিলেন জয়া।

ছোটপর্দায় ‘এনেছি সূর্যের হাসির আয়েশা’, ‘অফবিটের বোবা মেয়ে’, ‘শঙ্খবাসের পুষ্প’, ‘তেভাগার শহরবানুু, ‘পাঞ্জাবিওয়ালার প্রিন্সেস মনিকা’, ‘অদ্ভুত সন্দেশের রাজমিস্ত্রির বউ’সহ অনেক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন জয়া আহসান।

বর্তমানে জয়া আহসানের হাতে দুই বাংলার বেশকটি ছবি রয়েছে। এপার বাংলার ছবির মধ্যে রয়েছে : নূরুল আলম আতিকের ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’, আকরাম খানের ‘খাঁচা’, মাহমুদ দিদারের ‘বিউটি সার্কাস’, সামুরাই মারুফের ‘মেসিডোনা’ ও সাইফুল ইসলাম মাননুর ‘পুত্র’।

অন্যদিকে জয়ার হাতে কলকাতার ছবির মধ্যে রয়েছে মনোজ মিশিগানের ‘আমি জয় চ্যাটার্জি বলছি’ ও শিবপ্রসাদ মুখার্জির ‘কণ্ঠ’। গত বছর কলকাতায় তার অভিনীত ‘রাজকাহিনী’ ছবিটি মুক্তি পায়।

অভিনয় শুরুর আগে জয়া নাচ ও গানের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি রবীন্দ্রসংগীতের ওপর ডিপ্লোমা করেন এবং আধুনিক সংগীতের ওপর প্রশিক্ষণও নেন। একটি সংগীত স্কুলও পরিচালনা করেন।

জয়ার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ২০০৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ব্যাচেলর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এরপর নূরুল আলম আতিক পরিচালিত ডুব সাঁতার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ২০১১ সালে তানিম নূর পরিচালিত ফিরে এসো বেহুলা এবং নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত গেরিলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। গেরিলায় বিলকিস বানু চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জুরিদের বিচারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৩ সালে প্রদত্ত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়া ২০১৪ সালে প্রদত্ত বাচসাস পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেন। গেরিলা চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর থেকে তিনি নিয়মিত বাংলাদেশ ও ভারতের কলকাতার চলচ্চিত্রে কাজ করা শুরু করেন। ২০১২ সালে রেদওয়ান রনি পরিচালিত চোরাবালিতে একজন সাংবাদিকের চরিত্রে অভিনয় করেন।

জয়া আহসান ২০১৩ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসব থেকে নিমন্ত্রণ পান। ২০১৪ সালে মারুফ হাসান পরিচালিত ‘পারলে ঠেকা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ছবিটি এখনো মুক্তি পায়নি। ২০১৫ সালে অভিনয় করেন বাংলাদেশের অনিমেষ আইচ পরিচালিত সাইকো-থ্রিলার জিরো ডিগ্রি ছবিতে। একই বছর কলকাতার ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী পরিচালিত একটি বাঙালি ভূতের গপ্পো ও সৃজিত মুখার্জি পরিচালিত ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগ নিয়ে নির্মিত রাজকাহিনীতে অভিনয় করেন। রাজকাহিনীতে অভিনয়ের জন্য কলকাতার ১৬তম টেলি সিনে পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৬ সালে মুক্তি পায় সাফি উদ্দিন সাফি পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী টু। টিভি পর্দায় ক্যারিয়ার শুরু হলেও এ মুহূর্তে চলচ্চিত্রে ব্যস্ততার কারণে ছোটপর্দা থেকে বিরতি নিয়েছেন জয়া। তার কথায়, আপাতত ছোটপর্দায় বিরতি নিয়েছি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কারণেই। চলচ্চিত্রে কাজ করতে হলে সময়টা একটু বেশিই দিতে হয়। সব মিলিয়ে বর্তমানে টিভি পর্দায় কোনো কাজ করা হচ্ছে না। বড়পর্দা নিয়েই আপাতত ব্যস্ত থাকতে চাই।

তবে ছোটপর্দা হলো আমার ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার জায়গা। সময় পেলে এই অঙ্গনে আবার সরব হব। আসলে একজন শিল্পীর কাছে পর্দার ক্ষেত্রে কোনো প্রভেদ বা ভাগ নেই।

সব স্থানই শিল্পীর কাজের জায়গা। আমি মানসম্মত কাজের মধ্যে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই। মিডিয়াকে পূর্ণতা দিতে অনেক দূর হেঁটে যেতে চাই। সত্যিকার অর্থে পূর্ণাঙ্গ অভিনেত্রী হতে চাই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow