Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৫৪
তারকাদের কত রহস্য

ছবির কাজ করতে গিয়ে কিংবা ব্যক্তি জীবনে নানা ঘটনা-দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন শোবিজ তারকারা। এসব ঘটনার মধ্যে যেমনি আছে খুশির খবর তেমনি রয়েছে দুঃখগাথা। শোবিজ দুনিয়ার মানুষের এ ধরনের খবর জানতে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। তাই তারকাদের এমনি কিছু সুখ-দুখের মজার কথা আজ তুলে ধরেছেন— আলাউদ্দীন মাজিদ

 

রাজ্জাককে ভূত মনে হলো ববিতার

সত্তরের দশক। রাজ্জাক ও ববিতা একটি ছবির শুটিংয়ে কক্সবাজার গেলেন। পূর্ণিমা রাত। রাতে দুজন সী-বিচ ধরে হাঁটছেন। হঠাৎ মাগো বাবাগো বলে চিৎকার করে উঠলেন ববিতা। ছুটে গিয়ে বাংলোর বারান্দায় অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। রাজ্জাক পড়লেন মহাফ্যাসাদে। মেয়ে মানুষ এভাবে চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়েছে। অন্যরা রাজ্জাকের সম্পর্কে না জানি কি ভাববেন। তারপরেও তিনি ববিতার কাছে গিয়ে মুখে পানির ছিটা দিয়ে কিছুটা জ্ঞান ফেরালেন। আবারও চিৎকার করে অজ্ঞান ববিতা। পরদিন ঘুম থেকে জেগে ববিতা জানান, চাঁদের আলোয় রাজ্জাকের মুখটা তার কাছে ভূতের মতো লাগছিল। মনে হচ্ছিল দাঁত কেলিয়ে বিকট চেহারা নিয়ে রাজ্জাক তাকে ধরতে আসছে।  এমন ভূতের ভয়ে জ্ঞান হারান তিনি।

 

জাফর ইকবালের জন্য অঝোরে কাঁদলেন ববিতা

জাফর ইকবাল আর ববিতা ছবির শুটিংয়ে বান্দরবান গেছেন। উঁচু পাহাড়ের ওপর বাংলোতে সবার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাহাড়টি এতটাই ঢালু যে অসতর্ক হলে পা ফসকে কয়েকশ ফুট নিচে পড়ে যাবে। বাঁচার কোনো পথ থাকবে না। ডিনারের সময় জাফর ইকবালকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সবাই হন্যে হয়ে সব জায়গায় খুঁজল। না কোনো খবর নেই। ববিতা ধরেই নিলেন জাফর পাহাড়ের নিচে পড়ে গেছেন। অঝোরে কাঁদতে শুরু করলেন তিনি। হঠাৎ বসার ঘরের পর্দার পেছন থেকে জাফর ইকবাল হাসতে হাসতে বেরিয়ে এসে বললেন ‘ববি এই যে দেখ আমি এখানে’, তোমাদের সঙ্গে মজা করার জন্য লুকিয়ে ছিলাম।  তারপরেও ববিতার কান্না থামাতে এক ঘণ্টার মতো সময় লেগেছিল।

 

কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ছাত্রদের স্লোগান

বারিধারার জোয়ারসাহারায় ‘ভাঙচুর’ ছবির শুটিং চলছে।  ইলিয়াস কাঞ্চন আর মৌসুমী শুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন। কাঞ্চনকে  দেখতে কুর্মিটোলা স্কুলের প্রায় পঞ্চাশজন ছাত্র আসে। এক ছাত্র ভিড় ঠেলে সামনে আসতে চাইলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে বাধা দেয়। ছাত্রটি ক্ষেপে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীকে ঢিল ছুড়ে মারে। সেই ঢিল গিয়ে পড়ে কাঞ্চনের ওপর। অল্পের জন্য বড় রকমের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান। রেগে গিয়ে ছেলেটিকে বকাঝকা করেন তিনি। রটে যায়, ছাত্রকে পিটিয়েছেন নায়ক। ছাত্ররা দল বেঁধে ইলিয়াস কাঞ্চনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করল।  পরিস্থিতি ঘোলাটে দেখে অভিনেতা সিদ্দিক জামাল নান্টু  ছাত্রটিকে মৌসুমীর সঙ্গে দেখা করিয়ে দিলেন। এতে সেই ছাত্র মহাখুশি হয়ে নিজেই পরিস্থিতি শান্ত করেন।

 

মরতে বসেছিলেন মৌসুমী

অরিজিনাল শট কী জিনিস, তা প্রমাণ করতে গিয়ে মরতে বসেছিলেন মৌসুমী। ‘দজ্জাল শাশুড়ি’ ছবির একটি সিকোয়েন্সে ছিল মৌসুমীকে দজ্জাল শাশুড়ি রীনা খান জ্যান্ত কবর দেবেন। মৌসুমী আপত্তি না করে কবরে শুয়ে পড়েন। একটা সময় দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয় তার। কবর থেকে শট দিয়ে আধমরা মৌসুমী বের হয়ে এলেন। তার এই হাল দেখে ছোট বোন ইরিন কেঁদে ফেলেন। ইরিনের কান্না দেখে অনেকের চোখে জল চলে আসে। তাতেও দমে গেলেন না মৌসুমী বরং পরের শট দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলেন। পরের শটে কবরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস রেখে শুটিং করা হয়। হোতাপাড়ার খতিব খামার বাড়ির ওই স্পটে গেলে নাকি মৌসুমী এখনো আঁতকে ওঠেন।

 

সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের নায়িকা মমতাজ

ঢালিউডে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকের নায়িকা হলেন ফোক গানের শিল্পী মমতাজ। ‘মমতাজ’ ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি। ছবির প্রযোজক প্রয়াত নাজিমুদ্দিন চেয়ারম্যান ছিলেন মমতাজের গানের ভক্ত। মমতাজের জীবন কাহিনী নিয়ে এই ছবি। মমতাজকে ছবিটিতে অভিনয়ের জন্য প্রস্তাব দিলে ১৬ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। আসলে অভিনয়ে আগ্রহী নন বলেই তিনি এমন অংকের পারিশ্রমিক চান। তিনি জানতেন সে সময়ের সর্বাধিক পারিশ্রমিক প্রাপ্ত নায়িকা নেন ৮ লাখ টাকা। নাজিমুদ্দিন চেয়ারম্যান ১৬ লাখেই রাজি হয়ে যাবেন, সেটা মমতাজ ভাবতেই পারেননি।  পরে কী করা, কথা রাখতে গিয়ে শেষমেশ অভিনয়ের মতো কঠিন কাজটি করলেন তিনি এবং ভালোভাবেই উের গেলেন। 

 

বাথরুমের পাইপ বেয়ে পালালেন শাকিল

‘পাহারাদার’ ছবির ইউনিট কক্সবাজারে। তখন শাকিল খান, পপির জমজমাট প্রেমের খবর চারদিকে চাউর। দুজনে দুজনকে ছাড়া কিছু বোঝেন না। একদিন পপির মা পপিকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এক সহকারী পরিচালক জানালেন ম্যাডাম তার রুমেই আছেন। হিরোর সঙ্গে পরের শট নিয়ে আলোচনা করছেন। পপির মা বিষয়টি ভালো চোখে দেখলেন না। তিনি দৌড়ে গেলেন পপির রুমে। পপির মায়ের আসার খবর আগেই পেয়ে যান শাকিল খান। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। মূল ফটক দিয়ে বের হওয়ার সম্ভাবনা শেষ। টেনশনে পড়ে গেলেন শাকিল খান। শেষে বেলকনি দিয়ে বাথরুমের পাইপ বেয়ে নামতে হয় তাকে।  পাইপ বেয়ে নামতে গিয়ে শাকিলের হাত-পায়ের অবস্থার সেদিন বারোটা বেজেছিল।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow