Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৩৪
এফডিসির দুর্দশার ছবি নিয়ে তোলপাড়
এফডিসির দুর্দশার ছবি নিয়ে তোলপাড়
এফডিসিতে এমন ময়লা-আবর্জনা এখন নিত্যদিনের চিত্র

এফডিসির দৈন্যদশার সচিত্র এক প্রতিবেদন প্রকাশ হয় গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের শোবিজ বিভাগে। এতে সংস্থার বিভিন্ন বিভাগের ভগ্নদশার বেশ কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়।

ছবিগুলো প্রকাশের পর চলচ্চিত্র জগৎসহ সর্বস্তরে রীতিমতো সাড়া পড়ে যায়। সিনিয়র থেকে বর্তমান প্রজন্মের তারকারা বিষয়টিকে বস্তুনিষ্ঠ ও একটি সাহসী পদক্ষেপ আখ্যা দিয়ে সচিত্র প্রতিবেদনটি প্রকাশের জন্য সাধুবাদ এবং এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। যেসব তারকা মতামত জানিয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের বক্তব্য তুলে ধরেছেন—আলাউদ্দীন মাজিদ

 

 

আমজাদ হোসেন

অনেক আগেই এফডিসির পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু ময়লা-আবর্জনা নয়, অবহেলার কারণে এখানকার অনেক মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়েছে। মেকআপ রুমে এসি থাকে না, যাওয়ার মতো ওয়াশরুম নেই। কাজ করতে গিয়ে পদে পদে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করে ছবি নির্মাণ করি কিন্তু তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। পিয়ন দিয়ে ছবির প্রিন্ট সংরক্ষণ করানো হয়। এতে যা হওয়ার তাই হয়। আমাদের অনেক মূল্যবান ছবির নেগেটিভ নষ্ট হয়ে গেছে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এফডিসির উন্নয়নে প্রায় ৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এই টাকার হিসাবও নেই, সঠিকভাবে কাজও হচ্ছে না। পৃথিবীর কোথাও নিয়ম নেই রাস্তা বন্ধ করে শুটিং করতে হবে। একমাত্র এফডিসিতেই তা হয়। ফলে গাড়ি চলাচল ও অন্য ছবির শুটিং ব্যাহত হয়। এসব অনিয়ম দূর করতে না পারলে সংস্থাটি একেবারেই ধ্বংস হয়ে যাবে।

 

রাজ্জাক

এফডিসি অনেক আগে শেষ হয়ে গেছে। এখন এসব নিয়ে আর কথা বলতে ইচ্ছে করে না। এফডিসি হচ্ছে চলচ্চিত্রকারদের দ্বিতীয় আবাসস্থল আর রুটি-রুজির জায়গা। তাই এখানে অনিয়ম আর নোংরা পরিবেশ দেখলে নিজের কাছে নিজেকে ছোট মনে হয়। চলচ্চিত্রকার হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জা লাগে। আসলে সংস্থাটিকে পরিচালনার জন্য চলচ্চিত্র সম্পর্কে জ্ঞান রাখে ও এই মাধ্যমটিকে ভালোবাসে এমন দক্ষ লোককে নিয়োগ দিতে হবে। না হলে এই দুরবস্থা দূরীকরণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

 

সুচন্দা

পত্রিকায় যেসব ছবি দেখেছি সবই সত্যি। আগে এখানে চলচ্চিত্রকারসহ কেউ আসলে বের হতে মন চাইত না। কাজের ভিড়ে কোথাও দাঁড়ানোর জায়গা খুঁজে পাওয়া যেত না। এখন পরিবেশ আর কাজ না থাকায় মানুষ নয়, এফডিসি পশু-পাখির বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। প্রকাশিত একটি ছবিতেও তাই দেখা যাচ্ছে। আসলে আমাদের বড়ই দুর্ভাগ্য। চলচ্চিত্রের মতো এমন একটি প্রধান গণমাধ্যম নির্মাণের সূতিকাগার এফডিসি আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

 

সোহেল রানা

এমন বাস্তব ও সত্যি ছবি ও খবর প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অনেকদিন ধরেই এই অনিয়ম অপরিচ্ছন্নতার বিরুদ্ধে বলে আসছি। কেউ তা আমলে নিচ্ছে না। পত্রিকাটি ছবির মাধ্যমে তা প্রকাশ করে হাতেনাতে ধরিয়ে দেওয়ার মতো সচেতনমূলক কাজ করেছে। যে কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডটি পর্যন্ত ঠিক রাখতে পারে না তিনি কীভাবে এর উন্নয়ন করবেন। তিনি শুধু গাড়ি চড়ে আসেন আবার গাড়িতে করে চলে যান। না হলে কড়ইতলা, ঝরনাস্পটসহ অন্যান্য শুটিংস্পট এমন নোংরা থাকবে কেন। চলচ্চিত্র হচ্ছে সবচেয়ে বড় একটি সংস্কৃতির কেন্দ্র। সংস্থার কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ডে মনে হয় না তিনি এ সম্পর্কে জানেন। আজ নোংরা ও ভগ্নদশার কারণে এফডিসিতে ছবির দৃশ্যধারণ বা মহরত পর্যন্ত করতে পারি না। এর চেয়ে বড় দুঃখের ব্যাপার আর কী হতে পারে।

 

ফারুক

চলচ্চিত্র হচ্ছে সংস্কৃতি জগতের প্রধান ক্ষেত্র। আর এফডিসি হলো চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রধান সূতিকাগার। এখানে যিনি এমডি হয়ে আসবেন তার যোগ্যতা বিবেচনা ও তাকে সময়োপযোগী করে আনতে হবে। সংস্কৃতিমনা না হলে এফডিসির উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। কিছুদিন আগে এফডিসিতে গিয়ে দেখেছি এখানে সংস্কারের কাজ চলছে। এ জন্যও এখানে ময়লা আবর্জনা থাকা কারও কাম্য নয়। খবর বা ছবি প্রকাশ করা সাংবাদিকের দায়িত্ব। সচেতন এমডি হিসেবে বিষয়টিকে সাধুবাদ জানানো উচিত ছিল তার। কারণ সরকার ছবিগুলো দেখলে সংস্থার উন্নয়নে আরও জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। এফডিসির প্রকৃত উন্নয়ন আমার কাম্য।

 

কাজী হায়াৎ

পত্রিকায় যেসব ছবি প্রকাশ হয়েছে সবই সত্যি। এফডিসিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়েছে কিন্তু কাজের পরিবেশ গড়ে তোলা হয়নি। এর জন্য বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপও গ্রহণ করেনি এফডিসি কর্তৃপক্ষ। এটি এক কথায় খুবই দুঃখজনক। এফডিসিতে যেসব যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে তার চেয়ে ভালোমানের যন্ত্রপাতি বাইরে কম ভাড়ায় পাওয়া যায়। এফডিসিতে যতদিন কাজ না হবে ততদিন এই দুর্গন্ধময় পরিবেশ দূর করা যাবে না। টয়লেট অব্যবহারযোগ্য, কড়ইতলা, ঝরনাস্পটসহ সর্বত্র ময়লা আবর্জনা। সত্যিকার অর্থে এখানে কাজ শুরু হলে নির্মাতাদের চাপে পড়ে কর্তৃপক্ষ সংস্থাটিকে সুন্দর করতে বাধ্য হবে। এটি পলিসিগত ব্যাপার। সিনেমার নির্মাণ পদ্ধতির পরিবর্তনের মতো পলিসিও বদলাতে হবে। সংস্থাটির নাম হচ্ছে চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন। তাই এখানকার সব কিছুরই যথাযথ উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

 

ইলিয়াস কাঞ্চন

এফডিসিতে কাজ আর পরিবেশ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। কাজের পরিবেশ না থাকায় এখানে এখন আর চলচ্চিত্র নির্মাণ হয় না। তাই শুটিং ফ্লোরগুলো টিভি চ্যানেলের কাছে ভাড়া দিয়ে রাখা হয়েছে। পত্রিকায় শুধু ময়লা-আবর্জনা ও নষ্ট যন্ত্রপাতির ছবি ছাপা হয়েছে। কিন্তু এখানে তো নানা অসামাজিক কার্যকলাপও হচ্ছে। সাংবাদিকের দায়িত্ব হচ্ছে এসব সত্য চিত্র তুলে ধরা। বাংলাদেশ প্রতিদিন তাই করেছে। পত্রিকাটিকে এজন্য ধন্যবাদ জানাই।

 

এফআই মানিক

এফডিসির এই নোংরা চেহারা এখানকার প্রশাসনের কারণেই হয়েছে। চলচ্চিত্রের মতো দেশের একটি প্রধান গণমাধ্যম রক্ষার স্বার্থে সংস্থার কর্মকর্তাদের অনিয়ম ও অসচেতনতা পরিহার করা উচিত। সরকারকেও এ বিষয়ে সজাগ হওয়া দরকার। আমরা একটি কর্ম উপযোগী এবং পরিচ্ছন্ন এফডিসি চাই।

 

জায়েদ খান

সংস্থাটিতে যদি একজন যোগ্য এমডি থাকতেন তাহলে এর চেহারা আজ এমন হতো না। বর্তমান যুগে এসে এদেশে এফডিসি বলতে একটি গোডাউনকে দেখছি। যেখানে নোংরা আর দুর্গন্ধের জন্য কাজ দূরে থাক দাঁড়ানোই যায় না। অথচ টিভি চ্যানেলগুলোতে গেলে যে চকচকে পরিবেশ তাতে কাজের উৎসাহ এমনিতেই এসে যায়। শুনছি এফডিসিতে টাকা আসে কিন্তু খরচের জায়গা নেই। তাই ফেরত যায়। তাহলে এর অবস্থা এমন কেন। একজন চলচ্চিত্রবান্ধব দক্ষ এমডি দরকার সংস্থাটিতে। না হলে এই দুরবস্থা কখনই দূর করা যাবে না।

 

নুসরাত ফারিয়া

এফডিসি বলতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ফিল্মসিটির ছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সংস্থাটির চেহারা আসলে তাই হওয়া উচিত। কিন্তু এখন যা দেখছি তাতে হতাশা বাড়ছে। যদিও এখানে আমার কাজ করা কম হয়েছে তারপরেও বলব এফডিসি যেহেতু চলচ্চিত্র নির্মাণের সূতিকাগার তাই একে মানসম্মত করেই গড়ে তোলা দরকার।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow