Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩১
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন বিতর্ক
ব্যাখ্যা দিলেন সভাপতি শাকিব খান
আলাউদ্দীন মাজিদ
ব্যাখ্যা দিলেন সভাপতি শাকিব খান
মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি শাকিব খান ও সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান

সভাপতি হিসেবে শীর্ষনায়ক শাকিব খান  ও সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যকরী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৭ ফেব্রুয়ারি। এখনো তফসিল ঘোষণা হয়নি।

কেউ কেউ প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়েছেন। সাধারণ সদস্যদের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান কমিটির ক্ষমতায় থাকা ও তফসিল ঘোষণা না করার বিষয়ে। এর বাইরেও অভিযোগ রয়েছে সদস্যদের। এসব বিষয়ে সমিতির সভাপতি শাকিব খান তার ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

সদস্যদের দাবি ৫ ফেব্রুয়ারি শিল্পী সমিতির মিটিং থেকেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা উচিত ছিল। তা হয়নি, উল্টো রকিবুল আলম রাকিবের শূন্য পদে ইলিয়াস কোবরাকে কমিটিতে কো-অপ্ট করা হয়েছে। শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্র  অনুযায়ী কো-অপ্ট করার ক্ষেত্রে এজিএম ডাকতে হয়। তাও করা হয়নি। শাকিব বলেন, কো-অপ্ট করার ক্ষেত্রে এজিএম করতে হবে এমন কথা গঠনতন্ত্রে নেই।   গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইলিয়াস কোবরাকে পদ দেওয়া হয়েছে। তফসিল ঘোষণা না করা সম্পর্কে শাকিবের মন্তব্য হলো— ২৮  ফেব্রুয়ারি সদস্যদের চাঁদা জমাদানের শেষ তারিখ। নির্বাচন স্বচ্ছ করার পূর্বশর্ত হলো যথার্থ ভোটার তালিকা প্রণয়ন। আগামী নির্বাচিত সদস্যদের হাতে ক্ষমতা অর্পণের আগ পর্যন্ত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। ভোটের তালিকা হালনাগাদ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তফসিল ঘোষণা করা হবে। গতবারের নির্বাচন কমিশনার মিজু আহমেদকে পুনরায় ওই পদে আনা হচ্ছে এমন অভিযোগের জবাবে শাকিব খান বলেন, এটি ঠিক নয়। তিনি গতবার দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার আবার কেন আসবেন। নির্বাচন নিয়ে সময়ক্ষেপণের পুরনো রেকর্ডের প্রসঙ্গ টানতেই শাকিব খান জোর দিয়ে বলেন, যত সমস্যাই থাকুক, নিয়মানুযায়ী সব প্রস্তুতি শেষে  নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে। অনেক সদস্যের অভিযোগ— কমিটি নির্দিষ্ট মেয়াদে পিকনিক, এজিএমসহ দুস্থ শিল্পীদের জন্য কিছুই করেনি। এর জবাবে শাকিব বলেন, গতবার ইভেন্টের মিস ম্যানেজমেন্টের কারণে পিকনিক করা সম্ভব হয়নি। আর সবাই কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এই সমিতি তো বেকার সমিতি নয় যে কাজকর্ম ফেলে শুধু মিটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। সাহায্য সহযোগিতা আর কল্যাণ ফান্ডের অভিযোগের ব্যাপারে শাকিবের কথায় এ পর্যন্ত অসহায় শিল্পীদের কল্যাণে প্রায় ১৯ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। প্রায় প্রতিদিন দুস্থ শিল্পীদের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের যথাসাধ্য সহযোগিতা করা হচ্ছে। তা ছাড়া আমি যখন প্রথমবার দায়িত্ব গ্রহণ করি তখন শিল্পী সমিতির অফিস ছিল একটি গুদাম ঘরের মতো। শিল্পীদের সম্মানের দিকে তাকিয়ে এর সৌন্দর্য বর্ধন করেছি। শিল্পী সমিতির একটি দৃষ্টিনন্দন অফিস উপহার দিয়েছি। সমিতির বাগান তৈরির কাজ এখন শেষের পথে। অফিস সংস্কারে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এর স্বচ্ছ হিসাব আমার কাছে রয়েছে। শাকিবের কথায় সব মানুষ আর সংগঠনের সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই সমস্যার শতভাগ সমাধান কারও পক্ষে সম্ভব নয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করেছি এবং সবার সহযোগিতায় অনেক দূর এগিয়েছি। আশা করব আগামী কমিটি বাকি কাজ শেষ করবে। শাকিব বলেন, আমি তো আর নির্বাচন করছি না। তাই কোনো স্বার্থ নিয়ে নির্বাচন বিলম্ব করার মতো মানসিকতাও আমার নেই। আমি চাই অহেতুক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি না করে সবাই শিল্পীসুলভ আচরণের পরিচয় দিই। কারণ আমরা শিল্পীরা সবসময় একটি পরিবার। আর পরিবার হয়েই থাকতে চাই।

up-arrow