Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:১২
বহু নাটকীয়তার অস্কার
বহু নাটকীয়তার অস্কার
[বাঁ থেকে] মাহেরশালা আলী, এমা স্টোন, ভায়োলা ডেভিস ও ক্যাসি অ্যাফ্লেক

‘যত গর্জে তত বর্ষে না’ এই কথাটি আবারও প্রমাণ হলো  ৮৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের মঞ্চে। লস অ্যাঞ্জেলসের ডলবি থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হলো ৮৯ তম অস্কারের আসর।

বাংলাদেশ সময় ভোর ছয়টায় রেড কার্পেট মাড়িয়ে অনুষ্ঠান স্থলে প্রবেশ করতে শুরু করেন তারকা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা। অস্কারে নানা নাটকীয়তার গল্প তুলে ধরেন— আলী আফতাব

 

‘লা লা ল্যান্ড’-এর দাপটের রাতে স্মরণীয় হয়ে থাকল আসগর ফারহাদির আর কৃষ্ণাঙ্গদের বিজয়ের কারণে। এমন কি শেষ মুহূর্তেও চরম নাটকীয়তার পর সেরা সিনেমা হিসেবে ‘মুনলাইট’-এর জয় চমকে দিয়েছে সবাইকে। নাটকের সূত্রপাত ঘটে আসরের সবচেয়ে বড় পুরস্কার সেরা চলচ্চিত্রের নাম ঘোষণার সময় ভুল করে ‘মুন লাইট’-এর জায়গায় ‘লা লা ল্যান্ড’-এর নাম পড়ে ফেলায়। ছয়টি অস্কার জেতা সিনেমাটির কলাকুশলীদের সবাই মঞ্চে উঠেও পড়েন, নির্মাতা এবং প্রযোজক পুরস্কার গ্রহণ করে তাদের বক্তব্য দিতে শুরু করেন। ঠিক এরপরই ঘোষণা আসে, ভুল করে ‘লা লা ল্যান্ড’কে পুরস্কৃত করা হয়েছে, আসল পুরস্কারের দাবিদার ব্যারি জেনকিন্স-এর সিনেমা ‘মুনলাইট’!

সেরা সিনেমার পুরস্কার অর্জনের পথে ‘লা লা ল্যান্ড’ ছাড়াও ‘মুনলাইট’ হারায় ‘হিডেন ফিগার্স’, ‘ফেন্সেস’, ‘অ্যরাইভাল’, ‘হ্যাকস রিজ’, ‘ম্যানচেস্টার বাই দ্য সি’, ‘হেল অর হাই ওয়াটার’ এবং ‘লায়ন’কে। এবারের আসরে ১৪টি মনোনয়ন পেয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করে ‘লা লা ল্যান্ড’। মূল অনুষ্ঠানে সেরা সিনেমা, সেরা নির্মাতা, সেরা অভিনেত্রীসহ সাতটি অস্কার জিতে নিল রোমান্টিক মিউজিক্যাল ঘরানার সিনেমাটি।

সেরা পরিচালক বিভাগের পুরস্কারও গেছে ‘লা লা ল্যান্ড’-এর ঘরে, ডেমিয়েন শ্যাজেল প্রথমবারের মনোনয়নেই করলেন বাজিমাত।

এই বিভাগের অন্য মনোনীতরা হলেন, ডেনিস ভিলেনিউভ (অ্যারাইভাল), মেল গিবসন (হ্যাকস রিজ), ব্যারি জেনকিন্স (মুনলাইট) এবং কেনেথ লোনারগ্যান (ম্যানচেস্টার বাই দ্য সি)।

এবারের অস্কারের অন্যতম অঘটন হিসেবে ধরা হচ্ছে সেরা অভিনেতার বিভাগে ক্যাসি অ্যাফ্লেকের (ম্যানচেস্টার বাই দ্য সি) জয়। এই বিভাগের অন্য মনোনীতরা হলেন— অ্যান্ডরু গারফিল্ড (হ্যাকস রিজ), রায়ান গসলিং (লা লা ল্যান্ড), ভিগো মর্টেনসেন (ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাসটিক), ডেনজেল ওয়াশিংটন (ফেন্সেস)।

 

সেরা অভিনেত্রী বিভাগে অবশ্য তেমন কিছু হয়নি। ‘লা লা ল্যান্ড’-এর সুবাদে এমা স্টোন জিতে নিয়েছেন তার প্রত্যাশিত অস্কারটি। জয়ের পথে এই ২৮ বছর বয়সী হারিয়েছেন নাটালি পোর্টম্যান (জ্যাকি), রুথ নেগা (লাভিং), মেরিল স্ট্রিপ (ফ্লোরেন্স ফস্টার জেনকিন্স) এবং ইসাবেল উপের (এল)-এর মতো অভিনেত্রীদের। পার্শ্ব চরিত্রে সেরা অভিনেতা বিভাগের বিজয়ী হয়েছেন মাহেরশালা আলী, ‘মুনলাইট’ সিনেমার জন্য। এই বিভাগের অন্য মনোনীতরা হলেন— দেব প্যাটেল (লায়ন), জেফ ব্রিজেস (হেল অর হাই ওয়াটার), লুকাস হেজেস (ম্যানচেস্টার বাই দ্য সি) এবং মাইকেল শ্যানন (নকটারনাল অ্যানিমেল)।

পার্শ্ব চরিত্রের সেরা অভিনেত্রী বিভাগের বিজয়ী হয়েছেন ভায়োলা ডেভিস, ‘ফেন্সেস’ সিনেমার জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাত মুসলিম দেশের ভিসা নিষিদ্ধ ঘোষণা করার প্রতিবাদে এবারের অস্কার বর্জন করেন বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্রে মনোনীত ‘দ্য সেলসম্যান’-এর (ইরান) নির্মাতা আসগর ফারহাদি। অথচ তিনিই দ্বিতীয়বারের মতো জিতলেন এই পুরস্কার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকলেও তার পক্ষ থেকে একটি বক্তব্য পড়ে শোনানো হয়, যেখানে লেখা ছিল, “দুঃখিত এবারের অনুষ্ঠানে আমি থাকতে পারছি না বলে। আমার এই সিদ্ধান্ত আমার দেশের মানুষ এবং আরও ছয়টি দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অভিবাসীদের নিষিদ্ধ করার অমানবিক নিয়মের প্রতিবাদস্বরূপ। ” এই বিভাগের মনোনয়নপ্রাপ্ত অন্য সিনেমাগুলো হলো— ‘টোনি এর্ডমান’ (জার্মানি), ‘আ ম্যান কলড উভে’ (সুইডেন), ‘টান্না’ (অস্ট্রেলিয়া) এবং ‘ল্যান্ড অফ মাইন’ (ডেনমার্ক)। সেরা অ্যানিমেশন সিনেমার অস্কার এবার জিতেছে ডিজনির ‘জুটোপিয়া’। বিভাগে মনোনীত অন্য সিনেমাগুলো হলো— ‘কুবো অ্যান্ড টু স্ট্রিংস’, ‘মোয়ানা’, ‘মাই লাইফ অ্যাজ আ জুকিনি’ এবং ‘দ্য রেড টার্টল’।

 

একনজরে অস্কার

সেরা ছবি : মুনলাইট

সেরা অভিনেত্রী : এমা স্টোন (লা লা ল্যান্ড)

সেরা অভিনেতা : ক্যাসি অ্যাফ্লেক [ম্যানচেস্টার বাই দ্য সি]

সেরা পার্শ্ব-অভিনেত্রী : ভায়োলা ডেভিস [ফেন্সেস]

সেরা পার্শ্ব-অভিনেতা : মাহারশালা আলি     [মুনলাইট]

চলচ্চিত্র পরিচালক : ড্যামিয়েন শেজেল

     [লা লা ল্যান্ড]

চিত্রনাট্য [মৌলিক] : ম্যানচেস্টার বাই দ্য সি [কেনেথ লনারগ্যান]

চিত্রনাট্য [অ্যাডাপ্টেড] : মুনলাইট [ব্যারি জেনকিন্স ও অ্যালভিন ম্যাকক্রেনি]

বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র : দ্য সেলসম্যান [ইরান]

অ্যানিমেটেড ছবি : জুটোপিয়া [বাইরন হাওয়ার্ড, রিচ মুর ও ক্লার্ক স্পেন্সার]

স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেটেড ছবি : পাইপার [অ্যালান ব্যারিলারো ও মার্ক সন্ডহাইমার]

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র : সিং [ক্রিস্টফ ডিয়াক ও আনা উডভার্ডি]

প্রামাণ্যচিত্র : ওজেঃমেড ইন আমেরিকা [ইজরা ইডেলম্যান ও ক্যারোলিন]

স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রামাণ্যচিত্র : দ্য হোয়াইট হেলমেটস [অরল্যান্ডো ভন আইনসিডেল ও জোয়ানা নাতাসেগারা]

চিত্রগ্রহণ : লা লা ল্যান্ড [লাইনাস স্যান্ডগ্রেন]

ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস : দি জঙ্গল বুক [রবার্ট লেগাটো, অ্যাডাম ভালদেজ, অ্যান্ড্রু আর. জোন্স, ড্যান লেমন]

মৌলিক সুর সংযোজন : লা লা ল্যান্ড [জাস্টিন হারউইত্জ]

মৌলিক গান : সিটি অব স্টারস [লা লা ল্যান্ড; জাস্টিন হারউইত্জ, বেঞ্জ পাসেক]

সম্পাদনা : হ্যাকসো রিজ [জন গিলবার্ট]

শিল্প নির্দেশনা : লা লা ল্যান্ড [ডেভিড ওয়াসকো ও স্যান্ডি রিনোল্ডস-ওয়াসকো]

শব্দ সম্পাদনা : অ্যারাইভাল [সিলভেইন বেলেমেয়ার]

শব্দমিশ্রণ : হ্যাকসো রিজ [কেভিন ও’কনেল, অ্যান্ডি রাইট, রবার্ট ম্যাকেঞ্জি]

পোশাক পরিকল্পনা : ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস অ্যান্ড হোয়্যার টু ফাইন্ড দেম [কলিন অ্যাটউড]

রূপ ও চুলসজ্জা : সুইসাইড স্কোয়াড [আলেসান্ড্রো বার্তোলেজ্জি, জিওর্জিও গ্রেগরিনি, ক্রিস্টোফার নেলসন]

এই পাতার আরো খবর
up-arrow