Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:১৬
ঢাকায় ঢাকা, কলকাতায় খোলামেলা
আলাউদ্দীন মাজিদ
ঢাকায় ঢাকা, কলকাতায় খোলামেলা
সোহানা সাবা, নুসরাত ফারিয়া ও জয়া আহসান

ঢাকাই নায়িকারা কলকাতার ছবিতে পা রাখলেই যেন বেশ সাহসী হয়ে ওঠেন। স্থানীয় ছবিতে ‘ঢাকা’ থাকলেও কলকাতার ছবিতে গিয়ে একেবারে ‘খুল্লাম খুল্লাম’ হয়ে যান তারা।

সবার ক্ষেত্রে অবশ্য এমনটি না হলেও অনেকেই ইতিমধ্যে ওপার বাংলার বড় পর্দায় খোলামেলা হয়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। এসব ছবির মধ্যে কলকাতার স্থানীয় ও যৌথ প্রযোজনার দুই ধরনের ছবিই আছে। আর এসব ছবিতে ‘খুল্লাম খুল্লাম’ তকমার নায়িকার মধ্যে এগিয়ে আছেন জয়া। ‘রাজকাহিনী’-তে তার ‘সাহসী’ উপস্থাপনা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। অথচ দেশের ছবিতে একেবারেই লক্ষ্মী মেয়ের ইমেজ তার। রাজকাহিনীতে শুধু উপস্থাপনা নয়, সংলাপের দিক দিয়েও বিতর্ক তৈরি করেছেন জয়া।

কলকাতার ছবির ‘খুল্লাম খুল্লাম’ তালিকায় ঢাকার নায়িকাদের তালিকা একেবারে ছোট নয়। সোহানা সাবা, রুহী, মাহি, জলি, পরীমণি, নুসরাত ফারিয়াদের নামও চলে আসে অবলীলায়।

ঢাকাই ছবির নায়িকাদের কলকাতায় এ ধরনের মিশন অবশ্য নতুন কিছু নয়।

আশির দশক থেকে নূতন, রোজিনা, অঞ্জু ঘোষসহ অনেকেই টালিগঞ্জে কাজ করেছেন এবং এখনকার মতো খোলামেলা না হলেও কিছু দৃশ্যে তাদের সাহসী হতে দেখা গেছে।

নূতন, অঞ্জু বা রোজিনা সেখানে কাজ করতে গিয়ে একেবারে বিবস্ত্র না হলেও কখনো বুকের কাপড় সরেছে কিংবা হাঁটুর বেশ উপরে কাপড় তুলেছেন।

এটি অবশ্য তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে দেহ প্রদর্শন নয়। কলকাতার নির্মাতাদের মতে, বাণিজ্যিক প্রয়োজনেই ছবিতে নায়িকাদের কিছুটা উদার হতে হয়। তা ছাড়া গল্পের চাহিদা তো আছেই। এ কারণে সেখানকার সেন্সর বোর্ডও এসব ক্ষেত্রে বেশ উদার। কথায় কথায় মাসালাদার দৃশ্যে কাঁচি চালিয়ে দেয় না বোর্ড।

জয়া আহসান কলকাতায় প্রথম অভিনয় করেন ২০১৩ সালে অরিন্দম শীলের ‘আবর্ত’ ছবিতে। পারিবারিক গল্পের এই ছবিতে তেমন রগরগে কোনো দৃশ্য না থাকলেও বেড সিনের ছোটখাটো দৃশ্যে অবলীলায় কাজ করেন জয়া। ‘রাজকাহিনী’র পর জয়া কাজ করলেন ‘ঈগলের চোখ’ ছবিতে। এটি ‘প্রাপ্ত বয়স্ক’ তকমার ছবি। তাই এতে জয়া আরও সাহসী হয়ে উঠবেন এটিই স্বাভাবিক। খোলামেলা হওয়া নিয়ে যতই সমালোচনা হোক না কেন এ নিয়ে জয়ার অবশ্য কোনো মাথাব্যথা নেই। তিনি সেখানে নিয়মিত সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করার ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।

জয়ার পর তোলপাড়ের বিষয় হয়ে উঠেছেন সোহানা সাবা। ছোট পর্দার এ অভিনেত্রী দেশের ৬টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। এসব ছবিতে সহজ-সরল ইমেজ তৈরি করেছিলেন তিনি। কিন্তু ২০১৬ সালে কলকাতার অয়ন চক্রবর্তীর ‘ষড়রিপু’-তে দেখা গেল তার উল্টো চিত্র।

এ ছবিতে তার সাহসী উপস্থাপনা নিয়ে হৈচৈ কম হয়নি।

রুহী অভিনয় করেন কলকাতার ‘গ্লামার’ ছবিতে। বিষয়বস্তুর কারণেই ছবিতে অনেকটা উদার হন তিনি। যদিও এক্ষেত্রে তাকে নিয়ে তেমন একটা আলোচনা হয়নি।

কলকাতায় গিয়ে ঢাকার নায়িকাদের খোলামেলা হওয়া যে গা সওয়া হয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। ওখানকার ‘পরিচয়’ ছবিতে নিপুণ ও ‘সমাধি’-তে অভিনয় করেছেন সিমলা।

তবে ওই সব ছবিতে তাদের উপস্থাপনায় কতটা রাখঢাক আছে তা জানা যাবে ছবি

দুটি মুক্তির পর।

এদিকে যৌথ প্রযোজনার বেশ কিছু ছবিতে মাহি, নুসরাত ফারিয়া, পরীমণি, জলি অভিনয় করেছেন। ‘বাণিজ্যিক’ তকমার এসব ছবিতে দেশের চেয়েও পোশাক পরিচ্ছদে তাদের বেশ উদার হতে দেখা গেছে। তারা এখন কলকাতার ছবিতে জয়া, রুহী বা সাবার মতো সাহসী হয়ে ওঠার অপেক্ষায় আছেন।

কলকাতার ছবিতে ঢাকার নায়িকাদের খোলামেলা হওয়ার পক্ষেও অবশ্য এ দেশের অনেক সিনিয়র অভিনেতা-নির্মাতা যুক্তি দেখিয়েছেন।

চলচ্চিত্রকার সোহেল রানার কথায়, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাণিজ্যিক বিষয় ও গল্পের কারণে যৌক্তিকভাবে ঘনিষ্ঠ বা কিছুটা উদার দৃশ্যে অভিনয় করা যেতেই পারে। তাই বলে অহেতুক সেন্সর বোর্ডের কাঁচি চালানো মানে আমাদের ছবি বিশ্বমানের চলচ্চিত্র থেকে পিছিয়ে থাকা।

তিনি আবার এও বলেন, আমাদের দেশের কোনো শিল্পী যদি গল্পের প্রয়োজন ছাড়াই বিদেশের ছবিতে খোলামেলা হয়ে যান তা কোনোভাবে সমর্থন

করা যায় না। এটি দেশের জন্য মানহানিকর ব্যাপার। তবে চরিত্রের প্রয়োজনে কিছু হলে সেটা ভিন্ন বিষয়।

up-arrow