Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৫
প্রয়াণের চার বছর
মাকে নিয়ে হামিন-শাফিন
শোবিজ প্রতিবেদক
মাকে নিয়ে হামিন-শাফিন

আজ গানের পাখি ফিরোজা বেগমের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। এই তারিখটা প্রতি বছরই মনে করিয়ে দেবে সেই বেদনাদায়ক দিনটির কথা, যেদিন আমাদের ছেড়ে অন্য ভুবনে চলে গিয়েছেন নজরুলসংগীতের সম্রাজ্ঞী ফিরোজা বেগম। ৬৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংগীত সাধনায় সক্রিয় ছিলেন তিনি। যারাই তার কাছে গেছেন, তার ব্যক্তিত্বের বিভায় মুগ্ধ হয়েছেন। যেমন কণ্ঠ ছিল, মানুষ হিসেবেও ছিলেন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বময়। ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চিরবিদায় নেন ফিরোজা বেগম। সংগীতজীবনের মতো পারিবারিক জীবনেও ছিলেন সচেতন। তাই এই দিনে মাকে স্মরণ করেন তার দুই ছেলে হামিন আহমেদ ও শাফিন আহমেদ।

 

হামিন আহমেদ

মা নেই প্রায় ৪ বছর। পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় সম্পদটি আমরা হারিয়েছি। আমরা খুব অল্প বয়সে বাবাকে হারিয়েছি। তবে বাবার অনুপস্থিতি মা কখনো বুঝতে দেননি। আমার মা গানের ক্যারিয়ারে  যেমন সফল ছিলেন তেমনি ছিলেন সংসারে। সন্তান হিসেবে আমরা কখনো অবহেলা পাইনি। আমি দেখেছি, গান গেয়ে স্টুডিও থেকে ঘরে ফিরেই রান্নাঘরে ঢুকে পড়েছেন, নামাজ পড়ছেন, আমাদের যত্নআত্তি করছেন। তার এত ব্যস্ততার মধ্যেও কখনো আমাদের মায়ের অভাব বোধ করতে দেননি। সারা জীবন মা আমাদের বাচ্চাই মনে করতেন। বাইরে কোথাও যখন আমরা যেতাম, বলতেন, এটা করবি না, ওটা করবি না যেন বাচ্চা ছেলে আমরা। আমরা যখন বড় হয়েছি, তখনো মা যেন কেমন বাচ্চাই মনে করতেন আমাদের, আগলে রাখার চেষ্টা করতেন। মা আমাদের কখনো সংগীতচর্চার ক্ষেত্রে বাধা দেননি। নিজের মতামত চাপিয়ে দেননি। কিছু বলেনওনি। স্বাধীনভাবে যেটা ইচ্ছা সেটা করছিলাম। চলতে চলতে এ ব্যাপারে মায়ের উদারতা টের পেয়েছি। শেষদিন পর্যন্ত মা আমাদের ভালো কাজগুলোকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

 

শাফিন আহমেদ

আম্মা নেই আজ প্রায় চার বছর হলো। আম্মাকে নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। আজ হয়তো তা প্রচার হবে। আম্মার স্মরণে প্রায় প্রতি বছর কোনো না  কোনো নজরুল কিংবা আধুনিক গান করে থাকি কিন্তু এই বছর নানা ব্যস্ততার কারণে করা হয়ে ওঠেনি। তবে আমার ইচ্ছা আছে আম্মার স্মরণে একটি পুরনো গানের অ্যালবাম করব। আমি খুব ভাগ্যবান, কলকাতায় কলামন্দিরে একই সঙ্গে আম্মা আর আমি গান গেয়েছিলাম। ‘সুরের ছায়া, চাঁদের দেশে’ এ গানটি আম্মা উর্দুতে গাইলেন, আর আমাকে বললেন বাংলায় গাইতে। মায়ের সে অনুষ্ঠান দেখতে কলামন্দিরে ছিল প্রচণ্ড ভিড়। গানটি ছিল গজল ধরনের, সুর করেছিলেন আব্বা কমল দাশগুপ্ত। পরদিন পত্রিকায় ছাপা হলো, ‘মায়ের গানে মুগ্ধ, ছেলের গানে স্তব্ধ’। সত্তরের দশকে আম্মা নিয়মিত টেলিভিশনে গানের অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন। সেসব একক অনুষ্ঠানে তিনি নজরুলসংগীতের পাশাপাশি আব্বার সুর করা আধুনিক গানও গাইতেন। আব্বাও মায়ের গানের খুব বড় একজন ভক্ত ছিলেন। তিনি খুব প্রশংসা করতেন। আমরা মায়ের কাছ থেকে নজরুলের গান শিখেছি। তবে বেশি সময় ধরে মায়ের কাছ থেকে গান শেখার সুযোগ আমার হয়নি। তার মূল কারণ ছিল ব্যস্ততা। ঠিকমতো শিখতে পারলে আরও ভালো হতো। 

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow