Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ২৪ জুন, ২০১৬ ১৫:৫৭
আপডেট : ২৪ জুন, ২০১৬ ১৫:৫৯
কাল জ্যাকসনের ৭ম মৃত্যু বার্ষিকী
গ্যারি ইন্ডিয়ানার সেই ছেলেটি
অনলাইন ডেস্ক
গ্যারি ইন্ডিয়ানার সেই ছেলেটি

আগামীকাল শনিবার মাইকেল জ্যাকসনের ৭ম মৃত্যু বার্ষিকী। ২০০৯ সালের ২৫ জুন না ফেরার দেশে চলে যান এই কিংবদন্তি। তার পুরো নাম মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন। জন্ম ২৯ আগস্ট, ১৯৫৮, গ্যারি ইন্ডিয়ানায়। বাবা-মা যথাক্রমে জোসেফ ওয়াল্টার জ্যাকসন ও ক্যাথরিন জ্যাকসন।  

পাঁচ ভাই ও তিন বোন, সবাই কোনো না কোনো সময় পেশাগতভাবে সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ছোট বোন জ্যানেট জ্যাকসন একজন সফল সংগীতশিল্পী।  

স্টিল টাউন নামে-খ্যাত গ্যারি ইন্ডিয়ানার এক স্টিল ফ্যাক্টরির ক্রেন-চালক ছিলেন মাইকেলের পিতা। সংগীতের প্রতি তার ছিল দুর্বার আকর্ষণ। অবসর কাটানোর জন্য 'ফেলকন' নামে একটি ব্যান্ডও গড়েছিলেন তিনি। পরে তিনি নিজের বড় তিন ছেলে টিটো, জ্যাকি ও জারমেইনকে নিয়ে গড়ে তোলেন সংগীত দল 'দ্য জ্যাকসন ব্রাদার্স'।  

অল্প সময়ের মধ্যেই এই দলে মার্লোন ও মাইকেলকে অন্তর্ভুক্ত করে দলের নামকরণ করা হয় 'দ্য জ্যাকসন-৫'। সময়টি ১৯৬৩ সাল। দলটি গ্যারি ইন্ডিয়ানা ও আশপাশের শহরগুলোতে নিয়মিত শো করার মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। স্টেজের ওপর সে ছিল জাদুর মতো। ওই সময় দলের প্রধান গায়ক ছিলেন জারমেইন জ্যাকসন।  

মাইকেলের ক্ষণজন্মা প্রতিভার পেছনে অন্যদের সঙ্গে কোরাস গাইবার জন্য ছিল না। অল্প দিনের মধ্যেই ছোট্ট মাইকেল দলটির প্রধান গায়কে পরিণত হয়। তখন তার বয়স মাত্র নয় বছর, সালটি ১৯৬৭। ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত 'জ্যাকসন-৫' বিভিন্ন ট্যালেন্ট শোতে অংশ নিয়ে বিজয়ী হলে তাদের প্রচার আরও প্রসারিত হয়। অ্যাপলো এবং রিগ্যাল থিয়েটারসহ বিখ্যাত সব থিয়েটারে অনুষ্ঠান করার সময় মাইকেল গভীর মনযোগের সঙ্গে সে সময়ের সেরা সব শিল্পীর পারফরমেন্স পর্যবেক্ষণ করত। এ লক্ষ্যে এভাবে সে নিজেকে অনন্য সাধারণ এক শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে থাকে।  

মাইকেলের আইডল ছিল জোমস ব্রাউন, স্যামি ডেভিস জুনিয়র, মার্ভিন গ্রে, জ্যাকি উইলসন, জেন কোল এবং ফ্রেন্ড অ্যাসটেয়ার মতো শিল্পীরা। ১৯৬৮ সালের শেষ দিকে বেরি গর্ডির পক্ষে জ্যাকসন ৫-এর অডিশন নেওয়া হয়। ১০ বছরের মাইকেল তার বিরল 'হাই পিচ' কণ্ঠে 'হু ইজ লাভিং ইউ' গানটি গান। এর অরিজিনাল গায়ক ছিলেন স্মোকি রবিনসন। যে নিজেই সব সময় মজা করে বলতেন, মাইকেল তার থেকেও ভালো করে গানটি গাইতে পারে। এরপর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।  

১৯৭০ সাল। অর্থাৎ পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত যে সুপার হিট গানগুলো সৃষ্টি হয়। ১৯৭২ সালে তার সোলো ব্যতিক্রমী গান 'বিইএন' চার্টের এক নম্বরে জায়গা করে নেয়। ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই সঙ্গে আটটি গ্ল্যামি জেতার পর মাইকেল আরও একবার প্রমাণ করেন, তিনিই সেই ব্যতিক্রমী শিল্পী, যে সংগীত ইন্ডাস্ট্রির প্রচলিত সব ধারা বদলে দিতে পারেন। এ সময় 'মো টাউন রেকর্ড' কোম্পানি তাদের ২৫তম অর্থাৎ রজতজয়ন্তী সাড়ম্বরের সঙ্গে পালন করার প্রস্তুতি নেয়। বেরি গর্ডি স্বয়ং মাইকেলকে তার ভাইদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান। একজন চৌকস শো ম্যানের মতো মাইকেল শর্ত জুড়ে দিলেন, তাকে থ্রিলারের একটি গানে এককভাবে পারফর্ম করতে দিলে তিনি অংশগ্রহণ করবেন।  

১৬ মে, ১৯৮৩ সালের সন্ধ্যার সেই মাহেন্দ্রক্ষণে ৪৭ মিলিয়ন আমেরিকান অবাক-বিস্ময়ে দেখল ইলেকট্রিফাইং এক মাইকেল জ্যাকসন ও তার 'মুনওয়াক'। প্যাসাডোনা সিভিক অডিটোরিয়ামে বিলি জিন গানটির সঙ্গে মাইকেল যখন পারফর্ম করছিলেন, উপস্থিত প্রতিটি দর্শক চোখের পলক ফেলতে ভুলে গিয়েছিলেন। যেন এই স্পেলবাইন্ডিং চারটি মিনিটের একটি মুহূর্তও অদেখা চলে না যায়।  

মাত্র ৫০ বছর বয়সে নিজের ডাক্তারের উপস্থিতিতে তারই দেওয়া ঘুমের ওষুধের ওভার ডোজে মৃত্যুবরণ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। যিনি মাত্র ১১ বছর বয়সেই বিশ্বজুড়ে লিজেন্ডে পরিণত হয়েছিলেন। তার মৃত্যুর খবর অপ্রতিরোধ্য আগুনের মতো মুহূর্তে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। গুগলসহ অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন অত্যধিক ট্রাফিকের কারণে কয়েক ঘণ্টার জন্য অচল হয়ে যায়। সিএনএনকে এক ঘণ্টায় ২০ মিলিয়ন পেজ' রিপোর্ট তৈরি করতে হয়, যা তাদের জন্য রেকর্ড সৃষ্টি করে। কোনো মানুষের জন্য এমনটি আগে কখনো হয়নি।

 

বিডি প্রতিদিন/২৪ জুন ২০১৬/হিমেল-০৭

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow